banglanewspaper

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। দেশের প্রায় ৩৩,০০০ (তেত্রিশ হাজার) বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা হল প্রতিষ্ঠানটির মূখ্য উদ্দেশ্য।

এনটিআরসিএ ২০০৫ সালের বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইনের (১৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ২০০৫ সালের ১নং আইন) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়ে প্রাথমিক অবস্থায় বেশ সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়েছিল। কারণ দেশে যত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে তার নিয়োগ প্রদানের সার্বিক ক্ষমতা ছিল প্রতিষ্ঠানের গভর্ণিং বডির।

ফলে এক শ্রেণির সার্থাণ্বেষী মহল কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে, ভুঁইফোর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কে্বল অর্থের বিনিময়ে অতি নিম্ন মানের শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে আসছিল। ফলে দিন দিন ব্যাঙের ছাতার মত গরে উঠতে শুরু করেছিল নাম স্বর্বস্ব  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। মূলত চাকরি দেওয়া আর বেতন খাওয়া ছিল এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজ।

যেহেতু এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্ণিং বডির সভাপতি নির্বাচিত হোন স্থানীয় সাংসদ কিংবা সাংসদ মনোনীত ব্যক্তি ফলে তাদের বুরুদ্ধে তেমন কোন জোরালো পদক্ষেপ  নিতে পারছিলনা শিক্ষা মন্ত্রনালয়। এমন একটি পরিস্থিতিতে এনটিআরসিএ একটি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক হবার নূন্যতম যোগ্যতা অর্জনের মাপকাঠি নির্ধারণ করে। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্ণিং বডি আর যাকে খুশি তাকে নিয়োগ দিতে পারছিলেননা।

যদিও এ নিয়ে অসন্তোষ ছিল কিন্তু যৌক্তিক কোন কারণ না থাকায় এর বিপক্ষে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য পূরণ করতে সক্ষম হয়। ১ম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি মিলে ৩৩৭৮৮ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন। কিন্তু ২০১৫ সাল পর্যন্ত আরো ১২ টি পরিক্ষা নিলে নিবন্ধনধারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৫৮৭৩৬৮ জন।

আর এর সাথে নতুন করে যোগ হয় জাল সনদ নেবার প্রতিযোগিতা। সরকারের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) ইতোমধ্যে এক হাজার জাল সনদ বাতিল করেছে। আর বলছে তাদের কাছে এখন পর্যন্ত যে অভিযোগ আছে তাতে সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ১০ হাজারের বেশি জাল সনদধারী শিক্ষক আছে বলে তারা ধারণা করছেন। দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে জাল সনদে এমপিওভুক্ত ৭০০ জন শিক্ষকের নাম এবং এসব জাল সনদ প্রদানের সাথে এনটিআরসিএ জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

ফলে মুখ তুবড়ে পড়ে যোগ্য শিক্ষক গড়ে তোলার লক্ষে প্রতিষ্ঠিত এনটিআরসিএ।নিজেদের আযোগ্যতাকে ঢাকতে ২০১৫ সালের ১২ অক্টবর শিক্ষক নিয়োগের কতৃত্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এনটিআরসিএ নিয়ে নেয়। খোদ জাতীয় সংসদে এর তীব্র বিরোধীতা হলেও সার্বিক বিবেচনায় আইনটি বহাল থাকে। ফলে নিয়োগ প্রদানের সর্বময় ক্ষমতা লাভ করে প্রতিষ্ঠানটি।সেই মতে ৬ জুন ২০১৬ সালে একটি গনবিজ্ঞপ্তি জারী করে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ।

এনটিআরসিএ চাকরি প্রত্যাশীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শূন্য পদে নিয়োগের জন্য ৬৪৭০শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উত্তীর্ণদের মধ্য ১ম ধাপে ১২৬১৯ শিক্ষককে নিয়োগের জন্য নির্বাচন করে  এবং এক মাসের মধ্যে নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়।১ম থেকে ১২তম উর্ত্তীর্নদের মধ্যথেকে ১২৬১৯ জনকে নির্বাচন করার পরও কিছু নির্বাচিত প্রার্থী আজও চাকুরী পায় নাই। আবার কারো কারো হয়েছে একাধিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি।

হঠাৎ করেই ১৩ তম নিবন্ধন পরীক্ষায় ১০০ মার্কসের প্রিলিমিনারি ১০০ কার্কসের লিখিত ও ভাইভা নেওয়ার ঘোষণা দেয় তারা। উদ্দেশ্য পিএসসির আদলে সরাসরি পরীক্ষার মাধ্যমে  শিক্ষক নিয়োগ করা। কিন্তু ১-১২ তম দের বিষয়ে সঠিক কোন সিদ্ধান্ত না নিয়ে এমন নতুন করে সরাসরি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা পদ্ধতি চালুর চেষ্টা করলে আইনি জটিলতায় পড়ে ভেস্তে যায় সকল কার্যক্রম।

২০১৭ সালে ১৩ তম ও ২০১৮ সালে ১৪ তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নিলেও কিভাবে শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে তা এখনো নির্ধারন করতে পারেনি। এদিকে ২০১৬সালের পর থেকে সব ধরনের শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। গণিত, বিজ্ঞান, ইংরেজির মত গুরুত্বপুর্ণ  বিষয়ে  শিক্ষক না থাকায় হুমকির সম্মুখিন হচ্ছে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন।

যখন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় চতুর্মূখী সংকট, প্রশ্নফাঁস সহ নানা বিষয় নিয়ে সরকার অসস্তিতে এমন পরিস্থিতিতে এনটিআরসিএ’র এমন হ-য-ব-র-ল অবস্থা যেন বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁডিয়ে  আছে। তার উপর যোগ হয়েছে এমপিও পেতে ৭০ শতাংশ পাশের শর্ত।যেসব স্কুলে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে সেসব স্কুলের শিক্ষার্থিরা খারাপ ফল করলে এর দায়ভার কে নিবে?

লেখক

সাজ্জাদ সাজু

কলামিস্ট

ssazu.bd@gmail.com

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: Banglanewspaper অথর্ব এনটিআরসি