banglanewspaper

চাকরি পাওয়া টা একজন ব্যক্তির নাগরিক অধিকার। খুব বেশি কিছু চাইনা শুধু চাই এই অধিকার টুকু ফিরিয়ে দেওয়া হোক। নিজ দেশে থেকেও আমরা এখন নির্বাসিত। মাঝেমাঝে মনে হয় এদেশের শরণার্থী আমরা। কোটাধারীরা ই প্রকৃত নাগরিক আর অন্যদিকে আমরা শরণার্থী।

যুদ্ধের সময় যে যেভাবে পেরেছে দেশের জন্য কাজ করে গেছে। এমন পরিবার খুঁজে পাওয়া যাবেনা যাদের পরিবারের কোন না কোন সদস্য যুদ্ধের সময় নির্মম ভাবে খুন হয় নি। সেই সময়ের ৭ কোটি মানুষের মধ্যে কিছু কুলাঙ্গার ছাড়া সবাই মনে প্রাণে চেয়েছে দেশ স্বাধীন হয়ে যাক। একটা বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়ে উঠুক। সকল পেশাজীবীর মানুষের একটাই স্বপ্ন ছিল দেশ স্বাধীন হবে।

সবাই ই তো স্বাধীনতার জন্য নিজ নিজ অবস্থান থেকে সংগ্রাম করে গেছে। প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে অধিকাংশ মানুষ মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু সরকার সহায় সম্বলহীন মুক্তিযোদ্ধাদের পারিবারিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের স্বাবলম্বী করতে একটু বাড়তি সুবিধা অর্থাৎ কোটা প্রচলন করেন।
বঙ্গবন্ধু নিজেও কিন্তু কোটার পক্ষপাতী ছিলেন না। তবুও মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার কে এগিয়ে আনতে এই কোটা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন।

যে কোন দেশের পিছিয়ে পড়া মানব গোষ্ঠী কে এগিয়ে আনা অর্থাৎ জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন,স্বাবলম্বীতা অর্জন,শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত, চাকরিতে প্রবেশ ইত্যাদির জন্য এই কোটা প্রথা চালু করা হয়। কিন্তু এই কোটা ব্যবস্থা একটা সময়ে শিথিল হয়ে যায়। যুদ্ধের ৪৭ বছর পরেও আমাদের দেশের কোটাধারীরা এখনো পিছিয়ে পড়া মানবগোষ্ঠী? 
প্রতিনিয়ত তাদের কোটা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

একটা স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়ে বলতে পারি এটা অন্যায় হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সামগ্রী সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করে দেওয়া হোক, তারা জীবন বাজি রেখে দেশের জন্য লড়ে গেছে,৭ কোটি মানুষের বহু কাঙ্খিত স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছে। মনে রাখতে হবে তারা কিন্তু বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়েছিল। 

কোন বৈষম্য? পাকিস্থানীরা বাঙ্গালীদের সকল ক্ষেত্রে বঞ্চিত করত। সরকারি চাকরিতে ৪০% কোটায় নিয়োগ হতো। বাঙ্গালীরা নিয়োগ পেত না বললেই চলে। সব জায়গায় শুধু বৈষম্য ছিল। এত অন্যায় অবিচার সহ্য করতে না পেরেই কিন্তু যুদ্ধ টা বেঁধে গিয়েছিল।

মুক্তিযুদ্ধের প্রথম এবং প্রধান কারণ ই কিন্তু ছিল বৈষম্য। যদি তৎকালীন শাসক শ্রেণী এই বৈষম্যমূলক আচরণ না করতো তাহলে কিন্তু আমরা আজ পাকিস্থানের নাগরিক থাকতাম। আমাদের প্রথান পরিচয় থাকত আমরা পাকিস্থানী। কিন্তু সেটা হয়নি,তারা চেয়েছিল শোষণ চালিয়ে যেতে। বৈষম্য টা বেড়েই যাচ্ছিলো। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে আর যা হয়। মুখ বুজে সহ্যের দিন শেষ হয়ে গেলো। শুরু হয়ে গেলো যুদ্ধ। 

অন্যায় কখনো চিরস্থায়ী হয়না, স্বাধীনতা পেলাম আমরা। আমাদের মা শত্রু মুক্ত হলো। সবাই ভেবেছিল এবার হয়তো শান্তি ফিরবে কিন্তু না শান্তি আর ফেরেনি। সেই একই বৈষম্য মাথা চাড়া দিয়ে বেড়ে উঠেছে। ছোট চারা থেকে তা দিনদিন পরিপূর্ণ বৃক্ষে রূপান্তরিত হয়েছে। কেউ কথা রাখেনা, ইতিহাস বারবার ফিরে আসে। কোটা হচ্ছে মরণ বিষের নাম। বঙ্গবন্ধু যদি জানতেন তার স্বপ্নের বাংলায় একদিন পাকিস্থানের চেয়েও বেশি বৈষম্য হবে তাহলে তিনি কোটা নামক অভিশাপের কফিনে পেরেক ঠুকে দিতেন। আমরা রাষ্ট্র ক্ষমতা চাই না, চাই না বিলাসবহুল অট্টালিকাও।

চাই শুধু আমাদের অধিকার। আমাদের নাগরিক অধিকার। আমাদের চাকরির অধিকার ফিরিয়ে দাও। কোটায় কোটায় দেশ টা রসাতলে যাচ্ছে,মেধার মূল্যায়ন করে কোটা কে না বলো। যদি নিজেকে সত্যি ই একজন সৎ এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার উত্তরসূরি মনে করো তাহলে ঘৃণিত কোটা প্রথা ছেড়ে মেধার বলে প্রতিযোগিতায় নামো। অনেকেই দেখি বলে আমরা কোটাধারী আমাদের কি মেধা নাই? 

হুম আছে। তবে কুটবুদ্ধি টা বেশি। প্রমাণ করে দাও তোমরা ও মেধাবী। অন্যের ন্যায্য অধিকার কেড়ে নিয়ে কোটা নামক ঘৃণিত কিছুকে কাজে লাগিয়ে আর কত মুক্তিযোদ্ধাদের ছোট করবে? সকল কোটা নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক।

কোটা সংস্কার চাই

 

লেখক

লুৎফুন্নাহার লুমা (নীলা) 

কোটা  সংস্কারের আন্দোলন কর্মী

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: Banglanewspaper কোটাধারীরা আমরা শরণার্থী