banglanewspaper

মনিরুল ইসলাম মনি: জাতীয় মহিলা ক্রিকেট লীগের ৯ম আসরের কুষ্টিয়ার খোকসার মেয়ে মুর্শিদা আক্তার হ্যাপীর একক নৈপূণ্যে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাজিমাৎ করেছে স্বাগতিক সিলেট বিভাগ। হোমগ্রাউণ্ডে খেলার সুযোগ ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছে সিলেট বিভাগের হয়ে খেলা খেলোয়াররা।

৭ ম্যাচ খেলে ১০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থেকে চ্যাম্পিয়ন হয় সিলেট। সমানসংখ্যক পয়েন্ট রাজশাহী ও খুলনার থাকলেও রান-রেটে এগিয়ে থাকার কারণে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে সিলেটের মেয়েরা। 

তবে লীগের পুরো আসর জুড়েই ছিলো মুর্শিদার একক আধিপত্য। সিরিজে মুর্শিদার মোট রান ছিলো ২৫৭।  টানা তিনবার ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। সম্মানস্বরুপ মুর্শিদা ছিনিয়ে নিয়েছেন ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্টের পুরস্কার। তাঁর এই সাফল্যে কুষ্টিয়াবাসী পুলকিত।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উইমেন্স উইং এর ব্যবস্থাপনায় ‘৯ম জাতীয় মহিলা ক্রিকেট লীগ-২০১৭-২০১৮’ এর শেষ খেলায় রবিবার দুর্দান্ত জয় পায় সিলেটের মেয়েরা।

বরিশালের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ডু আর ডাই ম্যাচে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে জয় পায় সিলেট।

রবিবার সকালে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে বরিশালকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় সিলেট বিভাগ। নির্ধারিত ২০ওভারে ৯ উইকেটে মাত্র ৮৩ রান তুলতে সক্ষম হয় বরিশালের মেয়েরা। সিলেটের বোলারদের তোপের মুখে বরিশালের মাত্র দুজন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের কোটায় পৌঁছান। এর মধ্যে একাই ৪৫ রান করেন বরিশালের ফারজানা। এছাড়া শারমিন করেন ১১ রান। সিলেটের পক্ষে সুবর্না নেন মাত্র ১২ রানে নেন ৪ উইকেট।

৮৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে সিলেট ১২.২ বল খেলে মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। জয় পায় ৯ উইকেটের বিশাল ব্যাবধানে। সিলেটের পক্ষে মুর্শিদা অপরাজিত ৩৫ ও সুমনা ২৯ রান করে দলের জয়ে অবদান রাখেন। মূলত এই জয়টি সিলেটকে চ্যাম্পিয়ন হতে এগিয়ে নিয়ে যায়। ৪ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হয়েছেন সিলেটের সুবর্না ইসলাম।

কুষ্টিয়ার খোকসার আলো-বাতাসে বেড়ে ওঠা মুর্শিদা ছোটবেলা থেকেই চঞ্চল। পড়াশোনায় মনোযোগী না হলেও ক্রিকেট খেলারপ্রতি তার দুর্বার নেশা। খোকসা-জানিপুর পাইলট স্কুল স্পোর্টস গ্রাউন্ডে বড়দের সাথে প্রাকটিস করতো মুর্শিদা। তারপর থেকেই এলাকায় সে সবার নজর কাড়ে। কিন্তু কুষ্টিয়াতে মহিলাদের ক্রিকেট খেলার তেমন একটা রেওয়াজ না থাকায় সে ঢাকায় তাঁর ভাই সাংবাদিক কাজী আওলাদ হোসেনের সহযোগিতায় বিকেএসপি’তে । 

বিকেএসপি’তে ভর্তি হয়েই চান্স পেয়ে যায় জাতীয় মহিলা ক্রিকেট একাদশে। এরপর মুর্শিদার ঝুলিতে যোগ হচ্ছে এক একটি সাফল্য।

মুর্শিদা আক্তার হ্যাপীর এমন সাফল্যে তার ভাই বাংলা বায়ান্ন নিউজের প্রকাশক-সম্পাদক ও আইডিয়াল কলেজ ধানমন্ডির ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক কাজী আওলাদ হোসেন আবেগাল্পুত স্বরে বলেন, এ অর্জন খোকসাবাসীর। খোকসারমানুষ মুর্শিদার প্রতি ভালোবাসা না দেখালে কখনোই এত সাফল্য সম্ভব ছিলো না। আপনারা সবাই আমার ছোটবোনের জন্য দোয়া করবেন; যাতে করে ক্রিকেটের মাধ্যমে আমাদের খোকসার নামটি বিশ্বের বুকে আলোকিত করতে পারে।

মুর্শিদা আক্তার হ্যাপী বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েরা যাতে করে ক্রিকেট খেলার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে সেজন্য আমি চেষ্টা করি। কারণ আমার মাধ্যমে নতুনরাও উৎসাহ পাবে। ক্রিকেট খেলা এখন ছড়িয়ে গেছে সবখানেই। ছেলেরা খেললে মেয়েরা কেনো পিছিয়ে থাকবে? আমি আশা করি আমরাও একদিন বিশ্বকাপ অর্জন করবো। 

উল্লেখ্য মুর্শিদা এর আগে জাতীয় দলের হয়ে শ্রীলঙ্কা ও ভারত সফর করেছে। মুর্শিদা কুষ্টিয়ার খোকসার ভেটেনারী চিকিৎসক ডা. গোলাম মোস্তফা ও হাওয়া বেগমের মেয়ে।

এদিকে জাতীয় মহিলা ক্রিকেট লীগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় সিলেট বিভাগীয় মহিলা ক্রিকেট দল ও ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্ট মুর্শিদা আক্তার হ্যাপীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও উইমেন্স উইংয়ের চেয়ারম্যান, সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। 

ট্যাগ: Banglanewspaper জাতীয় মহিলা ক্রিকেট লীগ ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্ট মুর্শিদা আক্তার হ্যাপী