banglanewspaper

একটা দেশ তখনই উন্নয়নের শীর্ষে অারোহণ করে যখন সে দেশের প্রশাসন ব্যবস্থা সবচেয়ে মেধাবী ও শক্তিশালী হয়। অার মেধাবী ও শক্তিশালী প্রশাসন ব্যবস্থা গড়তে হলে অবশ্য মেধাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কোনভাবেই কোটা বৈষম্য থাকা কাম্য নয়। বাংলাদেশে এমন একটা দেশ যে দেশে ২৫৮ ধরনের কোটা ব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে যা বিশ্বের অন্য কোন দেশে নজিরবিহীন। বিশ্বের সব দেশেই কোটা রয়েছে কিন্তু তা কখনও মেধা কোটার চেয়ে বেশি নয়। কোটা ব্যবস্থা শুধু নির্দিষ্ট  অনগ্রসর শ্রেনীর জন্য এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। 

দুঃখের বিষয় যে স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও বাংলাদেশে কোটা বৈষম্য বিদ্যমান। বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের তালিকাভুক্ত। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা লাভ করে।  বাংলাদেশ ২০ বছর অাগেই উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা লাভ করতে পারত যদি বাংলাদেশ দুর্নীতি ও কোটা বৈষম্য না থাকত। বাংলাদেশে  প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা ৫৬% কোটা ও ৪৪% মেধা থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়। দুর্নীতির ব্যাপারটা বাদই দিলাম।

এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে বাংলাদেশ কি ২০৪১ সালের মধ্যে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে? কোটা যদি দিতেই হয় তাহলে অনগ্রসর ও ভূমিহীন কৃষক/ দরিদ্র নাগরিককে দেওয়া হউক। প্রতিবন্ধী ও অনগ্রসর সংখ্যালঘুদের দেওয়া হউক। 

মুক্তিযোদ্ধারা অবশ্যই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের অবদান কেউ অগ্রাহ্য করতে পারবে না। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশকে স্বাধীন করেছেন  বৈষম্যহীন দেশ গড়ার জন্য যারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন, ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের দামে এদেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরেও বাংলাদেশ বৈষম্যমুক্ত হতে পারেনি। বাংলার শ্রেষ্ঠ ও বীরসন্তানেরা কি এজন্য দেশ স্বাধীন করেছিলেন? তারা কি জানতেন বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাদের জন্য কোটা বরাদ্দ দেওয়া হবে?  

তাদের দেশপ্রেম কে কি ৩০% কোটা দিয়ে পরিশোধ করা যায়? বরং তাদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অার্থিক সহযোগিতাসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হোক যাতে তারা সত্যিকারের যোগ্যতা ও মেধা লড়াই করে প্রশাসনে ও রাষ্ট্রের গুরু দায়িত্ব পালন করুন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান জাতি পিতা অার জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হলো মুক্তিযোদ্ধারা অার অামরা হলাম স্বাধীন দেশের গর্বিত নাগরিক। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের যদি মর্যাদা দিতেই হয় তাহলে কোটা দিয়ে নয় তাদের প্রতি অামাদের ভালবাসা ও সম্মান দিয়ে। বঙ্গবন্ধু বৈষম্যহীন দেশ গড়ার যে স্বপ্ন দেখছিলেন, মেধা দিয়ে সেই বিশ্বের বুকে উন্নত ও বৈষম্যহীন জাতি গড়ে তোলাই হবে জাতির জনকের স্বপ্ন পূরণ। একটি উন্নত, সমৃদ্ধশালী ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রই হবে সত্যিকারের স্বাধীনতার চেতনা। 

প্রচলিত ৫৬% কোটা সংস্কার করে যৌক্তিক একটা পর্যায়ে নিয়ে অাসা হলে দক্ষ, সৎ এবং শক্তিশালী একটা প্রশাসন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালিত হলে ২০৪১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ একটি উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাড়াবে।

মোঃ সোহরাব হোসেন,
তথ্যবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

 

 

 

 

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: banglanewspaper কোটা বাংলাদেশ