banglanewspaper

নিজস্ব প্রতিবেদক: মুক্তিযুদ্ধের সূচনাতেই ২৬ মার্চ দুপুরে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ঘোষিত স্বাধীনতার বেতার ঘোষণা প্রচারের জন্য ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’-এর গোড়াপত্তন হয়। পাকিস্তান সরকার কর্তৃক পরিচালিত সামরিক গণহত্যার খবর, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা এ বেতার কেন্দ্র থেকেই প্রচারিত হয়। এ বেতার কেন্দ্র থেকে সর্বশক্তি দিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর মোকাবিলা করার জন্য আহ্বান জানানো হয়। গণহত্যা শুরুর আগে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক বিদেশি সাংবাদিকদের বহিষ্কার এবং সংবাদ প্রচার ও প্রকাশের ওপর সামরিক আইনের কড়াকড়ির কারণে এ সময়ের আন্তর্জাতিক প্রচারমাধ্যমকে বাংলাদেশ বা পূর্ব পাকিস্তানের বিষয়গুলোর জন্য প্রধানত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত বিষয়ের ওপরই নির্ভর করতে হয়। পাকিস্তান সরকারের প্রচারণার বিরুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রচারযুদ্ধে নেমে মুক্তিযুদ্ধের ‘দ্বিতীয় ফ্রন্ট’ হিসেবে কাজ করে।

এ বি এম খায়রুল হক হাই কোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান ১৯৯৮ সালের ২৭ এপ্রিল। স্থায়ী হন ২০০০ সালের ২৭ এপ্রিল। এরপর, ২০০৯ সালের ১৪ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।

হাই কোর্টে বিচারপতি থাকা অবস্থায় খায়রুল হক বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় প্রদান করেন। এছাড়া সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা, স্বাধীনতার ঘোষণা ও ঘোষক সম্পর্কিত মামলা, রেসকোর্স ময়দানে স্বাধীনতার স্মৃতি সংরক্ষণ, ঢাকার চার প্রধান নদী রক্ষা, ঢাকার ট্যানারি স্থানান্তর এবং আপিল বিভাগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, ফতোয়াসহ বিভিন্ন আলোচিত মামলার রায় আসে খায়রুল হকের আদালত থেকেই। বাংলা ভাষায় একাধিক রায় দিয়েছেন সাবেক এই প্রধান বিচারপতি। জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের প্রধান হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।

দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নিয়োগ পান এ বি এম খায়রুল হক। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর নিয়োগ কার্যকর হয়। ২০১১ সালের ১৭ মে তিনি অবসরে যান।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। তথ্য মন্ত্রণালয় প্রকাশিত দলিলপত্রের তৃতীয় খন্ডে উল্লেখ করা আছে ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। সে কারণে তাঁর আইনজীবী মারফৎ প্রতিবাদীদের বরাবরে ১৩ এপ্রিল, ২০০৯ সালে একটি ডিমান্ড অব জাস্টিস নোটিশ জারী করে ২০০৪ সালে মুদ্রিত বইটি বাজেয়াপ্ত করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। আদালত এ পরিপ্রেক্ষিতে ২০ এপ্রিল প্রতিবাদীদের বরাবর রুল জারী করেন। মে ও জুন ও মাসে পাঁচদিন শুনানি হয় যা ব্যাপক কৌতুহলের সৃষ্টি করে। 
এরপর ২১ জুন, ২০০৯ সালে বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ও বিচারপতি মমতাজ উদ্দিন আহম্মেদের বেঞ্চ রায় প্রদান করেন। রায়ে তারা ভুল তথ্য ও ইতিহাস বিকৃতির কারণে গ্রন্থটি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেন। 

বিচারপতিগণ ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত সময়টুকুতে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেন। দেশী-বিদেশী বিপুল তথ্যে সমাকীর্ণ বিবরণে তুলে ধরেন। এছাড়াও তারা এ বিবরণে কীভাবে বাঙালি স্বাধীনতা অর্জন করেছিল এবং কীভাবে বঙ্গবন্ধু একজন রাজনৈতিক কর্মী থেকে শুধু জাতীয় নেতা নন, জাতির জনকে পরিণত হলেন। 

এছাড়াও ২৭ মার্চ কীভাবে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন তারও পুংখানুপুক্ষ বর্ণনা তুলে ধরেন। 

সব তথ্য তুলে ধরে তারা বলেন-
“এমতবস্থায় এটি নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা সংক্রান্ত বিষয়ে ২০০৪ সনের প্রত্যায়ন কমিটির অভিমত তথ্যভিত্তিক নয়। প্রকৃত সতের পরিপন্থী। তাছাড়া উক্ত অভিমত ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল The Proclamation of Independence-এর সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক তায় সংবিধানের ১৫০ অনুচ্ছেদের সাথেও সাংঘর্ষিক।”

বিচারপতিগণ আদেশে আরও উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সসালের ২৬ মার্চ সৈন্যদের এক করে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন ইত্যাদি সংক্রান্ত বক্তব্যও সংবিধান পরিপন্থী তায় অবধ্য ঘোষণা করেন। 

ওই বক্তব্যের দলিলপত্রের তৃতীয় খন্ডসহ যে সকল পুস্তক, পুস্তিকা, গ্রন্থে বা গ্রন্থ খণ্ডে মুদ্রিত বা বিকৃত হয়েছে তা দ্রুত বাজেয়াপ্ত করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি নির্দেশ প্রদান করেন। 

শুধু তাই নয়, বিচারপতিদ্বয় ‘বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সর্বপ্রকার ইতিহাস বিকৃত দূর করে সঠিক ইতিহাস লিপিবদ্ধ কররা পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্দেশ দেন।’

অন্যদিকে ২০০১-২০০৬ জোট সরকারের আমলে বিএনপি ক্ষমতায় এসেই জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছে এই বক্তব্য সত্য হিসেবে জানার জন্য বিপুল প্রচার করে। শুধু স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রেই নয় এমনকি তারা পাঠ্যপুস্তকও বদল করেছিল। এরপর ডা. সালাম ক্ষুব্ধ হয়ে রীট করেছিলেন এবং বিচারকদ্বয় জারিকৃত রুলটি এ্যাবসলিউট করেছিলেন। 
 

ট্যাগ: banglanewspaper স্বাধীনতা আদালত