banglanewspaper

জাহিদ হাসান: হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজন ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড প্রাণীজ মাংসে থাকলেও অধিক পরিমাণ কোলেস্টেরলের কারণে হার্টের রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়।

এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। বিদেশী ফসল চিয়া (Salvia hispanica L) বীজে রয়েছে অধিক পরিমাণে ওমেগা-৩ যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

দীর্ঘ ৭ বছর গবেষণার পর দেশের মাটিতে বিদেশী ফসল “চিয়া” চাষে সফলতা অর্জন করেছে বাকৃবির গবেষক। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভাবিত চিয়ার এই জাতের নামকরণ করা হয়েছে ‘বাউ চিয়া-১’ (BAU Chia-1)।

দেশীয় আবহাওয়ায় চিয়ার চাষাবাদ সম্পর্কে গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর বলেন, ২০১০ সালে চিয়া বীজ দেশে নিয়ে আসি। এরপর বাকৃবির ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগীয় মাঠে ৪ বছর ধরে চিয়া বীজের অভিযোজন পরীক্ষা করা হয়। অভিযোজন পরীক্ষায় সফল হওয়ার পর ৩ বছর ধরে চিয়া বীজের চাষাবাদ নিয়ে গবেষণা করা হয়।

২০১৭ সালে দেশের পাবনা, বগুড়া,গাইবান্ধা,ময়মনসিংহ ও চারঞ্চলে চিয়া চাষে ব্যাপক সফলতা আসে। এই উদ্ভিদের পোকা-মাকড় ও রোগবালাই খুবই কম হওয়ায় পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রতি হেক্টরে সর্বোচ্চ ২টন উৎপাদন সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, ‘খুব শীঘ্রই এই জাতটি অবমুক্তকরণের মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে নেয়া হবে। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় চিয়া চাষ দ্রুত সম্প্রসারিত হবে এবং পুষ্টি নিরাপত্তায় বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাবে বলে আমি আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

চিয়া হলো মিন্ট প্রজাতির উদ্ভিদ। এটি প্রধানত মেক্সিকা ও দক্ষিণ আমেরিকায় জন্মায়। চিয়া বীজের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে উদ্ভিজ্জ আমিষ, চর্বি, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও আঁশ থাকে যা আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে প্রয়োজন।

এছাড়াও চিয়া বীজে ভিটামিন (এ,বি,ই,ডি), সালফার, আয়রন, আয়োডিন, ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেশিয়াম এবং প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। চিয়া বীজে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের কোলেস্টরল কমাতে সহায়তা করে। এছাড়াও চিয়া বীজের মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের অপ্রয়োজনীয় রেডিক্যালস বের করে দিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

এছাড়াও রক্তে ইনসুলিন এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রনে চিয়া বীজ ভাল ভূমিকা রাখে। রক্তে ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে এবং অস্বাভাবিক ইনসুলিনের পরিমাণ হ্রাস করে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রনে চিয়া বীজ ভূমিকা রাখতে পারে। ইনসুলিনের পরিমাণ নিয়ন্ত্রনে রাখার মাধ্যমে ডায়াবেটিস ঝুঁকি কমাতে চিয়া বীজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া চিয়া চাষে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ নেই বললেই চলে। প্রায় ৯০-১০০ দিনের মধ্যেই ফসল চাষাবাদ থেকে শুরু করে ঘরে তোলার উপযোগী হয়ে যায়।

নতুন জাত উদ্ভাবনের গবেষক দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন- ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মাসুদুল করিম, মো. আরিফ সাদিক পলাশ এবং আহাদ আলম শিহাব।

ট্যাগ: Banglanewspaper হৃদরোগের ঝুঁকি বাউ চিয়া