banglanewspaper

গতবার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে হেরে যান  উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ। কিন্তু তার মাত্র দুই বছর পর আয়নাবাজির মতো রূপ পরিবর্তন করে সোজা নৌকায় গিয়ে ওঠেন। নৌকা প্রতিকে তিনি জয়লাভও করেলেন। নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে তেতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের উপ-নির্বাচনে এ ঘটনা ঘটে। 

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে তেতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ উপ-নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন তিনি চার হাজার ৮৭৮ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে জয়লাভ করেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সামিনা সুলতানা পেয়েছেন চার হাজার ২৬৬ ভোট। এই ইউনিয়নে মোট ভোটার ছিল ১৩ হাজার ৭৯৪ জন।

পরাজিত আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সদ্য প্রয়াত রফিকুল ইসলাম মুরাদের বিধবা স্ত্রী। রফিকুল ইসলাম মুরাদ আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলামের উপর হামলা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর থেকে শুরু করে নেত্রকোনায় কয়েকজন হিন্দু ধর্মাবলম্বীর বাড়িতেও হামলার সাথে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে এবং হামলা ভাংচুর মামলায় দ্রুত বিচার আইনের আসামিও তিনি।

আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী সে সাত জন ছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন মুরাদের বিধবা স্ত্রী সামিয়া জামান। তিনি আগামী ২৯ মার্চ এই  নির্বাচনের জন্যে মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন।

এরপরও আজাদকেই বেছে নেয় আওয়ামী লীগ ফলে সামিয়া  আওয়ামী লীগ বিরোধী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করন।

আবুল কালাম আজাদকে বাছাই করা নিয়ে আওয়ামী লীগের মোহনগঞ্জ শাখার সভাপতি এবং পৌরসভার মেয়র লতিফুর রহমান রতন তখন বলেছিলেন স্থানীয়ভাবে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া যাওয়ায় সদ্য আওয়ামীলীগে যোগ দেওয়া আবুল কালাম আজাদকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

এ অভিযোগ সম্পূর্ণ রুপে আস্বিকার করে পরাজিত বিদ্রোহী প্রার্থী সামিয়া সুলতানা বলেন, “মৃত্যুর ৪০ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতারা আমার স্বামীর অবদান ভুলে গেল? আমি মনোনয়ন চেয়ে নেতাদের কাছে বারবার গিয়েছি কিন্তু তারা আমাকে মনোনয়ন দেননি, দলীয় প্রতিকের বাইরে নির্বাচন করা অনেক কঠিন তার পরেও মাত্র ৪০০ ভোটের ব্যবধানে হেরেছি। যদি দল সমর্থন দিতো তবে আমি বিপুল ভোটে জয়লাভ করতাম”

এতো আলোচনা যে আবুল কালাম আজাদ কে নিয়ে তিনি বলেন, “আমি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করার জন্য আবেদন করেছিলাম, কিন্তু আমার আবেদন গ্রুহণ করা হয়নি। এর আগে আমি আওয়ামী লীগ করতাম”।

মোহনগঞ্জ বিএনপির সভাপতি একেএম শফিকুল হক বলেন “আজাদ কখনোই দল থেকে পদত্যাগ করেননি। আমরা তাকে বহিষ্কার করেছি কেননা, তিন দল বিরোধী কাজে নিয়োজিত হয়েছিলেন।”

এদিকে বিএনপির এই উপনির্বাচনে প্রার্থী দেওয়া, আবুল কালাম আজাদের মনোনয়ন পাওয়া থেকে শুরু করে ইউপি চেয়ারম্যান হওয়া সবকিছুই একটি রাজনৈতিক অনুপ্রবেশের চক্রান্ত হিসেবেই দেখছেন আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতারা।

লেখক

এম এস সাজু

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

ssazu.bd@gmail.com

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: Banglanewspaper ডিগবাজিতে বাজিমাত