banglanewspaper

২০১৭ এর ডিসেম্বরের আগেই ৪টা সরকারি জবের ভাইভা দেবার সৌভাগ্য হলেও দুর্ভাগ্য যে একটাতেও ভালো খবর পাইনি আমি। ভাইভা দেবার আগে বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের বড় ভাইয়ের কাছে গেলাম, উনি বললেন আরে আমরা কী করতে পারি।

এরপর আমার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতির কাছে গেলাম, ভাইও আশার কথা শুনাতে পারলেন না। এবার বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মমতাজ সাহেবের কাছে। উনিও কিছু করতে পারলেন না।

তার আগে আমার নীজের পরিচয় দেই। আমি মোহাম্মাদ তারেক রহমান, বগুড়া জিলা স্কুল থেকে এসএসসি শেষ করে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে এইচএসসি তে ভর্তি হই। এরপর চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় ভর্তি হই ২০০৯-১০ সেশনে। একই বছর সেখানে ভর্তি বাতিল করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগে অনার্স এবং এইচ আর এম এ মাস্টার্স করি।

আমার সাংগঠনিক পরিচয়ঃ বগুড়া আজিজুল হক কলেজের এইচএসসি শাখা ছাত্রলীগের সমর্থক থেকে বন্দু ছোট ভাইরা সবাই মিলে আমাকে সেক্রেটারী করে। এইচএসসি সেকশনে কমিটি করা নিষিদ্ধ ছিল তাই তা লিখিত দেখানো সম্ভব নয়। হলের নানা অনিয়ম নিয়ে কথা বলতাম সব সময়। তখন হলের ডাইনিং চালাতো ছাত্রদল নেতা ফাহিমের অনুসারীরা। তারা সে সময় ১৩ টাকার মিল রেটের জায়গায় ১৬ টাকা করে নিতো। আমি তার ছাত্রলীগের আর সব ছাত্রদের নিয়ে তার প্রতিবাদ করি।

বগুড়ার মত শহরে ছাত্রদলের প্রতিবাদ করা সে সময় খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিল। কিন্তু আমি চুপ থাকতে পারি নি। আমি মিটিং ডাকি হলে; মিটিং এ বলি তোমরা চোর, তোমরা আর ডাইনিং চালাতে পারবে না। আমরা ডাইনিং চালালাম ৩ মাস। মিল রেট এসে দাঁড়ালো ১২ টাকারও নীচে। আমার সাথে ছিল বর্তমানে বুয়েট থেকে পাশ করা আব্দুল আওয়াল, আর ঢাবি থেকে সদ্য মাস্টার্স করা মোক্তার হোসাইন। কিন্তু ছত্রদল নেতা ফাহিমের অনুসারীরা ষড়যন্ত্র করতে লাগলো। আমাদের এক ভাইয়ের বোন তাকে টাকা দিতে হলে এসেছিল।

অ-সভ্যতার গুজব রটানো হলো; হলে... নিয়ে এসেছি আমরা। আমার রক্ত গরম হয়ে গিয়েছিল সেদিন। রাতে টিভি রুমে টিভি দেখছিল ওরা, সেখানে গিয়ে বেদম মারপিট করেছিলাম ‘যারা গুজব রটিয়ে আমাদের এক ভাইয়ের আপন বোনের নামে কুৎসা রটিয়েছিল।’ কিন্তু আমরা পড়লাম বিপদে। বিশাল দলবল নিয়ে হাজির পরদিন সকালে। বিচার বসলো, আমরা বিচারে হেরে গিয়ে নাকে খত দিতে হলো। সেখানে আমার বাবাও উপস্থিত ছিল।

সেদিন বাবার কাছে ওয়াদা করেছিলাম আর কোনদিন রাজনীতি করব না। এরপর আসলাম কুবিতে (কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়), আমি আমার কথা রাখতে পারি নি। কুবিতে যখনি কোন অন্যায় হয়েছে প্রতিবাদ করেছি। কী ডিপার্টমেন্ট, কী প্রশাসন, যেখানেই অনিয়ম দেখেছি সেখানে প্রতিবাদ করেছি।

নিম্নমানের কম্পিউটার ক্রয়ের প্রতিবাদ করেছি, বাসের জন্য সংগ্রাম করেছি, ওয়াইফাই এর জন্য সংগ্রাম করেছি সে সময়ের ছাত্রলীগের নেতা আর বর্তমানের কুবি সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ এর নেতৃত্বে।

বাবাকে কথা দেবার কারনে কমিটিতে নাম লেখানো থেকে বিরত ছিলাম। কিন্তু আমি কাজ করে গেছি আমার মত। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এর সুযোগ্য সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় ভাইয়ের গ্রীন ক্যাম্পাস কর্মসূচীর জন্য তখনকার কাজী নজরুল হলের ছাত্রলীগের সেক্রেটারী এর মাধ্যমে ২ হাজার টাকা দিয়ে সহযোগীতা করেছি। ছাত্রলীগ থেকে ট্যুরে যাবে ইলিয়াস ভাইয়ের ডিপার্টমেন্ট, আমি দুইশ লিটার মিনারেল ওয়াটার দিয়ে সহযোগীতা করেছি। এমন আরো অনেক আর্থিক সাহায্য করার ঘ্টনা আছে।

আমার আইটি সার্ভিস ফার্ম ছিলো। আমি ঘোষনা দিয়েছিলাম সকল ছাত্রলীগের ভাইদের জন্য ফ্রী আইটি সার্ভিস। এই সার্ভিস দিতে গিয়ে আমার নিজ পকেট থেকে লাখ টাকা চলে গেছে। ইলিয়াস ভাই বললো আমার ছেলে পেলে কাজ করলে তা যেন ইলিয়াস ভাইয়ের কাছ থেকেই নেই। যেখানে অন্য নেতারা ফ্রীতে কাজ করতো সেখানে ইলিয়াস ভাই জোর করে টাকা দিত আমায়।

২০১৬ সালের দিকে তৎকালীন সভাপতি, আমার ইলিয়াস ভাইয়ের নামে অস্ত্র মামলার ষড়যন্ত্র করে র‍্যাবের কাছে সোপর্দ করে। ভাইকে ক্রসফায়ারের জন্য নেওয়া হয়। তার আগে তাকে গোসল করিয়ে কালেমা পড়ানো হয় শুনেছি। ছাত্ররা খবর পেয়েই ঢাকা-চিটাগাং হাইওয়ে বন্ধ করে দেই, আমিও সেখানে ছিলাম। সেদিন আমরা ভাইকে বাঁচাতে পারলেও তাকে মুক্তি দেয়া হয় না। আন্দোলন চলছিল ভার্সিটি মেইন গেটের সামনে কাঁঠাল গাছের নীচে। সেখানের নাম দেয়া হয় "ইলিয়াস ভাই মুক্তি চত্তর।" যারা আন্দোলন করছিল তাদের পানি পুড়ি খাওয়ার অর্থ যুগিয়েছি আমি নিজ পকেট থেকে।

ইলিয়াস ভাই মুক্ত হলেন, সেই সাথে হয়ে গেলেন কুবির অবিসংবাদী নেতা। কথা ছিল ভাই সভাপতি হবেন কিন্তু সভাপতি করা হলো এক জুনিয়র ছেলেকে তার বাবার রাজনৈতিক পরিচয়ে। কিন্ত এরপর ইলিয়াস ভাইকে সভাপতি করা হলো। এর কিছুদিন পড়েই সাইফুল নামের একছোট ভাইকে গুলি করে হত্যা করে ইলিয়াস ভাইয়ের বিরোধী পার্টি। প্রক্টর মিথ্যা মামলা দেয় ইলিয়াস ভাইয়ের কর্মীদের। আর সেই সাথে গ্রেপ্তার করায় তাদের। সে বারও আমি নিজে খোঁজ খবর রেখেছি সব সময়।

পড়াশুনা শেষ করে বগুড়া ফিরে আসি। ইলিয়াস ভাই বগুড়াতে আতাউর ভাইকে ফোন করে বলে দেন, সে আমাদের কর্মী। আমি বগুড়াতে ছাত্রলীগের সাথে কাজ শুরু করি। আমি বিসিএস এর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, মাথা ভালো পড়তাম। বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের ফেসবুক পেজে ঘোষনা দেই। জব প্রত্যাশী সকল ছাত্রলীগের ভাইকে ম্যাথ (গণিত) শেখাবো কোন ফি ছাড়া।

১৩-১৪ জন সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসে, কনফিডেন্স বগুড়ার লাইব্রেরিতে তাদের আমি ম্যাথ প্রস্তুতি সম্পন্ন করায়। ব্যাংক প্রস্তুতির জন্য অনেক শীট ছিলো আমার কাছে। সেগুলো নিজ টাকায় ফটোকপি করে দিয়েছি বগুড়া ছাত্রলীগের সেই ভাইগুলোকে। বগুড়া ছাত্রলীগের সভাপতি তিতাস ভাই আমার আত্মীয়, আমরা একই মহল্লাতে থাকি। কিন্তু সে পরিচয় কখনো দেয়নি বগুড়াতে। নিজের মত করে কাজ করে গিয়েছি।

এ গল্পগুলো কেন করলাম জানেন...?

২০১৭ এর ডিসেম্বরের আগেই ৪টা সরকারী জবের ভাইভা দেয়ার সৌভাগ্য হলেও দুর্ভাগ্য যে একটাতেও ভালো খবর পাইনি। কাদের সাহেব, এইচটি ইমাম সাহেব ঘোষনা দিয়েছিলেন লিখিত পরীক্ষায় টিকলে আমরা ভাইভাতে সাহায্য করব। দুইটা ভায়ভা দেবার পর যখন হতাশ...! তখন ২৯ অক্টোবর আর ৩ নভেম্বর ভাইভা ছিল দুই জায়গাতে।

আমি বগুড়া ছাত্রলীগ সভাপতি নাইমুর রাজ্জাক তিতাস (সোহাগ ও জাকির ভাইয়ের ঘনিষ্ঠ) ভাইয়ের কাছে গেলাম, ভাই কিছুক্ষন চেষ্টা করলেন কিন্তু বললেন সম্ভব নয়। এরপর গেলাম বগুড়া আওয়ামী লীগ জেলা সভাপতির কাছে কিন্তু উনিও বললেন কিছু করতে পারব না। এরপর গেলাম আমার কুবি সভাপতি ইলিয়াস ভাইয়ের কাছে উনিও বললেন অনেক কঠিন, সম্ভব না।

রেফারেন্স ছাড়াই ভাইভা দিলাম খুব ভালো, এক জায়গায় ১৩টার মত প্রশ্ন করেছিলো, আমার জানা মতে কিছু ভুল বলিনি। আর এক জায়াগায় ভাইভা বোর্ড আমার সাথে ২৫ মিনিটের মত সময় নিয়ে ভাইভা নিয়েছে। দুই জায়গাতেই আশা দিয়েছিল আমার হবে। কিন্তু পড়ে দেখি রেজাল্টে আমার নাম নাই। এরপর জানার চেষ্টা করলাম কেন... এক জায়গা থেকে উত্তর পেলাম সোনালী ব্যাংকের এক ভাই কোটায় পেয়ে গেছেন ঐ পোস্টটিতে। ৩টা পোস্ট ছিল সেখানে তার মধ্যে ২টা নেওয়া হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা কোটায়। এই হলো ছাত্রলীগকে ভালোবাসার প্রতিদান, যে ভালো ভাইভা দিয়েও প্রত্যাখ্যাত হতে হচ্ছে আমাদের।

আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি এই কোটাকেই আগে সংস্কার করতে হবে। না হলে আমাদের সাধারণদের চাকুরী হবে না। বড় বড় ছাত্রলীগের নেতাদের ধরলাম, যে ভাই নেত্রীরে বোঝান না কোটা সংস্কার করতে হবে। ভয়ে তিন মাইল দৌড়ে পালিয়েছে সেই সব বাঘা নেতারা। সিলেটের ছাত্রলীগের এক ভাইকে বললাম জাকির ভাই তো আপনার এলাকার উনাকে একটু বোঝান যেন নেত্রীর সাথে কথা বলে। উনিও পিছনের দিকে লাফ দিলেন। কুবি ছাত্রলীগের এক ভাইয়ের সাথে জাকির ভাইয়ের ভালো সম্পর্ক, তিনিও ভয়ে কিছু বলেন নি।

এরপর সংসদ সদস্য জুনায়েদ আহমেদ পলক ভাইকে মেসেজ দিয়ে অনুরোধ করলাম উনি তো তার রিপ্লাই দিলেন না। এরপর আরাফাত ভাইকে নক করলাম, ভাবলাম উনি জয় ভাইয়ের কাছের মানুষ, কিন্তু তারও একই অবস্থা।

এরপর সিদ্ধান্ত নিলাম যা করার আমাকেই করতে হবে। এক বড় ভাইয়ের বিসিএস গ্রুপের সদস্য ও মডারেটর ছিলাম আমি। ম্যাথ নিয়ে আমি নিয়মিত পোষ্ট দিতাম। সেখানেই প্রথম পোষ্ট দিলাম ২০১৭ এর নভেম্বরের শেষের দিকে, "কোটা সংস্কার না হলে ৩৫ কেন ৫০ করেও কেউ চাকুরী পাবে না।"

ঐ গ্রুপের এডমিন ভাইয়ের কোটা থাকতে পারে, সেই সাথে উনি ৩৫ আন্দোলনের জন্য জোড় প্রচার করছিলেন গ্রুপে। গ্রুপের এডমিন মডারেটরদের অনেকেই কোটাধারী হতে পারেন। এটা আমার অনুমান মাত্র। কারণ সেখানে কোটা সংস্কারের যৌক্তিক দাবি প্রচার করতে দেয়া হয় না। সবাই মিলে আমাকে ব্লক করে দিলো। আমি অন্য কোন গ্রুপে যুক্ত ছিলাম না।

এরপর আশরাফুল ইসলাম ভাইয়ের (Special Job Study BCS or BANK) নামের গ্রুপে। মেম্বার ছিল ৭০ হাজার এর মত। সেখানে পোস্ট দিলাম সবাই আমাকে গ্রহণ করলো সেখানে। প্রচারনা চালাচ্ছিলাম জোড় চেষ্টায়। এরপর যুক্ত হলাম বিসিএস আওয়ার গোল এ। সেখানেও কাজ শুরু করলাম। কিছু কোটাধারীর আছে সেখানে তারা আমাকে বার বার ব্লক করলে ও সোহেল রানা ভাই আমাকে খুব সাহায্য করেছেন। যখনই আমাকে ব্যান করা হয়েছে তিনি আমাকে আনব্লক করেছেন।

আমি ভাইয়ের কাছে ঋণী। ১২ তারিখের এক্সাম বাতিলে সামনে থেকে কাজ করেছি। অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছি, স্লোগান দিয়েছি। ২০ জানুয়ারি কৃষি ব্যাংকের লিখিত পরীক্ষায় তেজগাঁ কলেজে ডিভাইস জালিয়াতির প্রতিবাদ আমি প্রথম করেছিলাম। রডের আঘাতে আহত হই আমি। মৌ আপুর সাথে সেখানেই প্রথম কথা হয় আমার। কোন মিডিয়া তেজগাঁ কলেজের জালিয়াতি প্রচার না করলেও সময় টিভি তা প্রচার করে মধ্যরাত থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত। তেজগাঁ কলেজ কেন্দ্র বাতিল হয়ে যায় সংবাদ প্রচারের পর।

কোটা সংস্কার আন্দোলন এর জন্য, বেকার অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ নামের একটা গ্রুপ খুলি প্রথম। সেখানে অনেক সাড়া পাচ্ছিলাম। কিন্তু ঢাবির মাসুদ ভাই বললেন কোটা সংস্কার চাই নামে গ্রুপ খোলা হোক। তিনি খুললেন, আমাকে এড করলেন যখন সদস্য ৩-৪ শত এর মত।

গ্রুপের অনেক মজার গল্প আছে সেগুলো পড়ে বলব। ২৬ জানুয়ারি কোটা সংস্কারে শাহবাগে মানববন্ধন এর ডাক দেই আমি নিজে, ৮০ জন এসএমএস করে জানিয়েছিল তারা আসবে। কিন্তু তাদের সবাইকে হুমকি দেয়া হলো। আমাকেও ঠ্যাং ভেঙে দেয়ার হুমকি দেয়া হলো। অনেকেই ফোন করে জানালো যে ভাই সমস্য করবে। আমি অনেক ভেবে ডিসিশন নেই ২৬ তারিখ না মানব বন্ধন হবে না। গ্রুপে ঘোষনা দিলাম ২৬ জানুয়ারি মানব বন্ধন হচ্ছে না। পরে বুঝতে পেরেছিলাম অসব হুমকি ধামকি কিছু না।

দীন ভাই গ্রুপে এড হন আরো কিছু পড়ে, আমিই তাকে মডারেটর করেছিলাম।

গ্রুপের সদস্য বেড়েই চলেছে। যখন সদস্য ২৫ হাজার তখন সাকিব ভাইয়ের পরামর্শে আমরা ঘোষনা দেই ১৬ ফেব্রুয়ারি মানব বন্ধন হবে। অনেক সাড়া আসছিল। শিবির-ছাত্রদল আমার জানের দুশমন। ছাত্রদলের আদর্শ নাই আর শিবির করে ধর্ম ব্যবসা। শুরু থেকেই ওড়া যুক্ত হতে চেষ্টা করছিল। কিন্তু আমরা সেই সুযোগ দেইনি। গ্রুপ কে শুরু থেকেই শিবির মুক্ত রেখেছি, আর এখনো তাই আছে।

১৬ তারিখের আগে আমরা মিটিং এর ঘোষনা দেই কিন্তু আফসোস সুমন, রাসেল আর মিনা-আলামিন ছাড়া আর কেউ আসে নি সে মিটিং এ। কয়েক ছাত্রলীগ হল পোস্টেড ছেলে পেলের সাথে যোগাযোগ করেছি। বলেছিল আসবে, কিন্তু সে দিন ভয়ে কেউ ফোন ধরে নি। একেক জনকে ১০০ বার করে কল দিয়েছি, মেসেজ দিয়েছি কিন্তু লাভ হয় নি। সুমন ভাই সাক্ষী আছেন সেই ঘটনার। বাধ্য হয়ে ১৪ তারিখে ৩-৪ জন মিলেই মিটিং করি। পাবলিক লাইব্রেরির ছেলে মেয়ের ২৫০০ টাকা দিয়ে সাহায্য করেছিল। তার ২০০০ আমরা পেয়েছি আর ৫০০ টাকার হিসাব আমরা পাই নি। শুনেছি এক ৩৫ আন্দোলনকারী ভাইয়ের কাছে আছে সেই টাকা।

এই আন্দোলন শুরু করার সব ক্রেডিট আমি পাব্লিক লাইব্রেরির ভাইয়া আপুদের আমি দিতে চাই। কারন তারাই আমাদের প্রথম রিসপন্ড করেছেন ও অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছেন।

আজ আআন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। আমরা যারা গ্রুপের হাল ধরেছিলাম তারা চাচ্ছিলাম ঢাবির ভাইয়েরা গ্রুপের হাল ধরুক। কিন্তু প্রথমের দিকে কেউ এগিয়ে আসেনি। এগিয়ে এসেছেন সুমন, নুরুল হক, ফারুখ, মামুন, ইয়ামিন আর রাশেদ। আলামিন ভাই পেছন থেকে সাহস যুগিয়ে আসছেন আমাদের, আমরা গ্রেপ্তার হলে উনি শাহবাগে মূল কাজটি করে দেখিয়েছেন।

ভাইয়ের অনেক সাহস। সব সময় আমাদের ভয় ছিল ছাত্রলীগ কেন্দ্রের নির্দেশে প্রোগ্রাম বন্ধ করে দিতে পারে। কিন্তু, ৯৯% ছাত্রলীগ নেতা কর্মী চায় কোটা সংস্কার হোক। তারপরেও ভয় পেতে হয়, কারন তোমরা তো আবার, পদের ভাড়ে ভাড়াক্রান্ত হয়ে আছো। কী হবে এই পদ দিয়ে, যে পদ দিয়ে তোমরা সোহাগ ভাই, যাকির ভাইকে কনভিন্স করতে পারো না নেত্রীর সাথে কোটা সংস্কারের আলোচনা করতে।

কী হবে এই পদ দিয়ে, যখন তোমরা সাংসদদের দিয়ে কোটা সংস্কারের জন্য সাংসদদেরকে দিয়ে সংসদে কথা বলাতে পারো না। অথচা সবাই তোমাদের ঘারে পা রেখেই উপড়ে উঠেছে।

শুনো ছাত্রলীগের ভাইয়েরা,

তোমাদের সৌভাগ্যা যে আমরা কোটা সংস্কারের ডাক দিয়েছি আর কোটা শিথিল হয়েছে, না হলে পথে পথে ভবখুড়ের মত বেকার জীবন যাপন করতে হত সবাইকে। তোমাদের ক্ষমতা ছিলনা কোটা শিথিল করার, কেউ ১ হাজার কৌটি টাকা ইনভেস্ট করলেও কোটা শিথিল করতে পারত না।

আজ আমাদের আতঙ্কে থাকতে হয় কখন ছাত্রলীগ আন্দোলন বন্ধ করে দেয়। কিন্তু কেন...? গতকাল ঝাড়ু মিছিলের আগে্র ঘটনা আমরা সবাই জানি। কী অপরাধ করেছি তোমাদের জন্য কাজ করে যে, তোমাদের আতঙ্কে থাকতে হবে। আজ এখনই ডিসিশন নেও, কোটা সংস্কার আন্দোলন থামানোর নির্দেশ আসলে ৯৯% পোস্টেড ছাত্রলীগ নেতা কর্মী পদ ত্যাগ করবে। এই পদ তোমাই চাকুরী দেবেনা তা আমি লিখে দিচ্ছি।

আমাদের ভুল বুঝোনা ভাইয়েরা। আমরাও ছাত্রলীগের সাথে কাজ করেছি দীর্ঘদিন। কথা দিয়েছিল ভাইবাতে সাহায্য করবে কিন্তু আফসোস তা শুধুই ফাকা বুলি। আমাদের অধিকার আমাদেরকেই বুঝে নিতে হবে তা বিশ্বাস করো তোমরা। কোন নেতা তোমার জন্য কিছু করবেনা তা বলে দিচ্ছি, কারন সেই সব নেতারা নিজেরাও বেকার জীবন যাপন করছেন।

কোটা সংস্কারের দাবির সাথে কোন রাজনৈতিক সম্পর্ক নাই। এটা শুধুই ছাত্র দের অধিকার নিয়ে কথা। বঞ্চিত ছাত্ররা বঞ্চনা থেকে মুক্তির দাবি করবে এটাই স্বাভাবিক।

তাই,

কোটা সংস্কারে ৫ দফা নিয়ে যারা কাজ করছে তাদের আশ্বস্ত করো যে, তোমাদের দ্বারা আন্দোলনকারী ভাই ও বনেরা আক্রান্ত হবে না। শুধু তাই না, কোন কোটাধারী ছাত্রলীগ নেতা আক্রমন করলেই তোমরাই তা প্রতিহত করবে সবার আগে। কারন এই ছেলে মেয়ে গুলো তোমাদের জন্যই কাজ করছে, তোমাদের মুক্তি জন্যই কাজ করছে। এরাই তোমার প্রকৃত ভাই, এরাই তোমাদের প্রকৃত বন্ধু। এরাই তোমাকে সত্যিকারে ভালোবাসে। এদের নিরাপত্তার দ্বায়িত্ব তোমাকেই নিতে হবে।

ছাত্রলীগের ভাইয়েরা, এই আন্দোলনে এখন পর্যন্ত তোমরা অনেক সাহায্য করেছো নিজ নিজ অবস্থান থেকে। সামনেও এই সাহায্য সহযোগীতা অব্যহত রেখে আন্দোলনকে চালিয়ে নেবে এই প্রত্যাশা রেখে আজকের মত শেষ করছি আমার লিখিত বক্তব্য।

লেখক

মোহাম্মাদ তারেক রহমান

যুগ্ম আহবায়ক ও প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ( কোটা সংস্কার কেন্দ্রীয় কমিটি)

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: Banglanewspaper কোটা সংস্কার ভব-ঘুরে বেকার জীবন