banglanewspaper

অ আ ক খ: পৃথিবী হতাশায় ভুগছে। ডুবে যাচ্ছে সাগরের তলদেশে ।বৃষ্টি হয়ে ধুয়ে নিয়ে যাচ্ছে সকল দায়িত্ববোধ ,নৈতিকতা,মমতা আর জ্ঞান ।এমন কিছু ঘটনা রটনা প্রত্যেকটি সময় প্রত্যেক মুহূর্ত প্রতিটি ক্ষন বিবেকের কাছে হার মানে ।মাথা নত মুহূর্তে গুলো সোজাসুজি দাঁড়ানোর সুযোগ পায় না ।মাথা তোলবার সাহস থাকা সত্বেও পরাজিত কাপুরুষের মতো ডুবে থাকতেই ব্যস্ত সবাই। অনেক প্রতিবাদ করলেও তার যথাযথভাবে মূল্যায়ন পাওয়া যায় না ।প্রশাসন এ বিষয়ে মাঝে মধ্যে নজর দিলেও কার্যকর ভূমিকা মেলে না ।সামাজিক নীতিবোধ, দায়িত্ববোধ,সামাজিক সচেতনতা ইত্যাদির মাধ্যমে এখনও কোন কিছুর পরিবর্তন দেখা যায়নি ।মানুষ যেন অতীতের কালো কুসংস্কারের কালো জগতে এখনও বাস করছে ।

বিভিন্ন গণমাধ্যম, সংবাদপত্র, টিভি চ্যানেল,রেডিও সংবাদ, অনলাইন নিউজপোর্টাল ও ফেসবুকে তোলপাড় করা সংবাদ ছিল বিউটি হত্যা ও ধর্ষণ ।এমন নিষ্ঠুরতা আর হৃদয় বিদারক জঘন্য বর্বরতা প্রত্যেকটি সচেতন তাজা প্রাণকে নানাভাবে আতঙ্কিত করে তুলেছে ।এরকম আরও অনেক নিষ্ঠুরতা আমাদের শহরে ,গ্রামের কোণায় কোণায় ,পাড়ায় পাড়ায় ,শহরের প্রত্যেকটি অলিগলিতে হর হামেশেই চোখে পরে ।অনেক বর্বরতার খবর খবরের কাগজে, টেলিভিশনের শিরোনামে হয়তো কখনও পৌছায় না ।আবার বিবেকের কাছে কড়া নাড়লেও ফল স্বরূপ কিছুই পাওয়া যায় না ।

তবে একটি বিষয়ে আমি খুব মর্মান্তিক ভাবে মর্মাহত ।নিজেকে শিক্ষিত জাতির বেড়াজাল থেকে বের করে নিতে ইচ্ছে করছে বারবার ।শিক্ষিত বিবেককে বিক্রি করতে ইচ্ছে করছে ।সকল সার্টিফিকেট আগুনে পুড়িয়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে ।নিজের চোখ আর কান দুটো তালাবদ্ধ ঘরে বন্দি করতে ইচ্ছে করছে খুব।

আজ (০১/০৪/২০১৮ফেসবুক ,দৈনিক নয়া দিগন্ত এবং অনলাইন ভিত্তিক পত্রিকার শিরোনাম ছিল "মা কে রেলস্টেশন ফেলে গেলেন বিসিএস কর্মকর্তা ছেলে"।প্রথমত আমি সেইসব পত্রিকা ,অনলাইন নিউজ পোর্টালকে জানাই তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ বিসিএস কর্মকর্তা ছেলেকে আপনি বলে সম্বোধন করার জন্য ।একজন ছেলে যত বড় অফিসার ,কর্মকর্তাই হোক না কেন একজন পিতাকে একজন মায়ের সাথে এরকম আচরণ ও ব্যবহার তার আসল পরিচয়কে কখনও গোপন রাখতে পারে না ।বিসিএস ক্যাডার বা দেশের প্রধানমন্ত্রী অথবা অন্য কোন ব্যক্তিত্ব যেই হোক না কেন যারা মা বাবার সাথে এমন অসাধু অকল্যাণ মূলক কাজ করতে পারে তার মতো কুলাঙ্গার এদেশে না থাকায় ভালো ।দেশ ছেড়ে অন্যত্র চলে বাংলাদেশ এমন দূষিত মানুষের হাত থেকে রেহাই পাবে ।

একজন মা যে কিনা নিজে না খেয়ে তোমার মুখে আহার তুলে দিয়েছে ।শীত ,বর্ষা ,গরমে আগলে রেখেছে বুকের মাঝে ।আবদার গুলো যথাযথভাবে পূরণ করতে সক্ষম না হলেও শতবার চেষ্টা করেছে সন্তানের মুখে হাসি ফুটাতে । অন্যের বাড়ি কাজ করে অর্থ উপার্জন করে নিজের ছেলেকে শিক্ষিত করার জন্য যুদ্ধ করেছে ।উন্নত জীবনযাপনের জন্য সর্বদা সঁপে দিয়েছে সকল বিপদে তবুও কখনও পথভ্রষ্ট হয় নি ।সদাসর্বদা নিজ প্রত্যয়ে এগিয়ে চলেছে দুর্বার গতিতে ।আজ সেই মায়ের এমন হাল ।এমন করুন অসহায় অবস্থা ।

স্বাধীনতার এ মাসে এমন পরম ক্ষনে আমরা কেমন করে বলি আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি আমরা স্বাধীন দেশের মানুষ ।আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছে ।আমার তো মনে হয়ে দেশ এখনও পরাজিত ।এখনও নরপষু বর্বরতার হাতে দেশ বিক্রিত ।স্বাধীন দেশে এমন ঘটনা আসলেই মুক্তিযুদ্ধের সেই নিষ্ঠুর প্রাণঘাতী বর্বরতাকেও হার মানায় ।

ফেলে আসা মায়ের কাছে বিসিএস ক্যাডার ছেলের চিঠির বিবরণ তুলে ধরা হলো...

মা ,
মা জানি তুমি অনেক কষ্ট পেয়েছ ।কারন তোমার কষ্টার্জিত টাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি আর এখন সরকারি কর্মকর্তা ।অথচ তোমাকে শেষ পর্যন্ত রাখতে না পেরে রেলস্টেশনে রেখে চলে যাচ্ছি ।তোমার খোকা বিয়ে করেছে একজন ম্যাজিসেট্রটকে সে তোমাকে মেনে নিতে চাই না ।আমি নিরুপায় হয়ে বাসা হতে বের করে দিয়েছি ।জানি তুমি আমাকে অনেক ভালবাস আর আমার ভালবাসা তোমার বৌমার নিকটে আত্মসমর্পণ করেছে ।ক্ষমা করিও না আমায় -মা, খোকা ।

আমি সেই ম্যাজিসেট্রট বউকে ধিক্কার জানাই, প্রতিবাদ করি তার এমন বিচারে ।

আমি সরকারের কাছে ,প্রশাসন এবং মন্ত্রনালয়ের কাছে আকুল আবেদন করি সেই মায়ের পাশে দাঁড়ানোর ।

ধন্যবাদ জানাই ব্যারিস্টার এস এম ইকবাল চৌধুরীকে বিষয়টি পরোক্ষ ভাবে তুলে ধরার জন্য ।কোন সাহায্য দরকার হলে অবশ্যই এই অপরিচিত ছেলেটিকে অবশ্যই স্মরণ করবেন ।

আমি ধন্যবাদ জানাই নয়া দিগন্ত পত্রিকাকে ঘটনাটি খবরের কাগজে ছাপানোর জন্য ।

ব্যারিস্টার এস এম ইকবাল চৌধুরীর ফেসবুক থেকে সংগৃহীত লেখাটি পুনরায় নিম্নে দেওয়া হলোঃ
গর্ভধারিনী মাকে রেলস্টেশনে ফেলে রেখে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া এক বিসিএস ক্যাডারের বিরুদ্ধে। গত ২৯ মার্চ এমন অভিযোগ জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করা হয় ব্যারিস্টার এস এম ইকবাল চৌধুরীর ফেসবুক হ্যান্ডেলে। তাঁর পোস্ট তুলে ধরা হলো-

'কয়েকদিন পর্যন্ত শারীরিক অবস্হা ভালো যাচ্ছেনা। ব্লাডপ্রেসার ডিস্টার্ব করছে আর বন্ধুরা বলে, আমার মাথার মাদারবোর্ড নাকি কাজ করছেনা- হা হা হা। তারপরও রেলস্টেশন গিয়ে দু'জন হাটাহাটি করছি কারণ আমাদের একজন সিনিয়র কলিগকে রিসিভ করতে অর্থাৎ ট্রেনের অপেক্ষায়। কিছুক্ষণ পর একটি জায়গায় বসে আছেন একবৃদ্ধা, যাঁর বয়স সত্তর।

তিনি একজন মা। মায়ের মুখ হতে উচ্চারিত হচ্ছে- "খোকা কোথায় গেলি বাবা"।মায়ের কাছে জানতে চেয়েছি, খোকা কে ? তিনি বললেন,আমার একমাত্র ধন(ছেলে)। তাঁর সঙ্গে একটা ছোট ব্যাগ আছে। আমরা তাঁর অনুমতি নিয়ে ব্যাগের বাহ্যিক পকেটে হাত প্রবেশ করালাম যাতে কোন ফোন নম্বর পাওয়া যায় কি না। একটি চিঠি পেয়েছি তাতে কি লেখা ছিল নিম্নে সন্নিবেশিত।

ততক্ষণে ট্রেন উপস্হিত আর অতিথিসহ সিদ্ধান্ত নিলাম মাকে কোনো বৃদ্ধাশ্রমে ভর্তি করায় দেয়ার। স্টেশনমাস্টারের রুমে প্রবেশ করে নিজেদের পরিচয় দিলে তিনি যথার্থ সম্মান দিয়ে জানতে শশব্যস্ত হচ্ছেন কিন্তু আমরা মায়ের দূর্ঘটনার কথা বলাতে, তিনি মাকে নিজ চেয়ারে বসালেন।

মায়ের সন্তান একজন বিসিএস কর্মকর্তা। লোকের বাড়িতে কাজ করে আর রাতে কাপড় সেলাই করে বিসিএস ক্যাডারকে পড়িয়েছেন। আমি চেয়েছিলাম, সেই বদমাশ ছেলের নামসহ বিস্তারিত তুলে ধরতে কিন্তু মায়ের অনুরোধ যাতে তা না করি। মায়ের মতে,সন্তান ও বৌমা ম্যাজিস্ট্রেট আর তাদের সামাজিক মর্যাদা আছে। হায়রে মা........... সন্তানের সম্মান মায়ের কাছে কত মূল্য আর কুলাঙ্গারের কাছে মা কত 'বিপদ' !!

মায়ের বর্তমান ঠিকানা বৃদ্ধাশ্রম আর অভিভাবকের কলামে আমার নাম লিখাতে পেরে গর্বিত।

গতকাল বৃদ্ধাশ্রম থেকে ফোন আসলে রিসিভ করে অপরপ্রান্তে মায়ের কণ্ঠে- ''খোকা, আমার মন ভালো নাই, যদি পারো একটু দেখতে এসো।'' ছুটে গেলাম জননীর নিকট খোকা হয়ে তখন দেখি মাকে ডাক্তার অবজারভেশনে রেখেছেন। মায়ের কপালে হাত রাখতেই তিনি চোখ খুলে মুচকি হেসে পানি চাইলেন এবং আমি তাকে পানি খাওয়াই। তিনি বলেন, খোকা বেঁচে থাকবি সিংহ হয়ে। একদিন মা পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে জান্নাতগামী হলেন।

গতমাসে ঘটনাটি ঘটলেও আজ এ বিষয়ে লিখছি কারণ চোখের ঝর্ণাপ্রবাহ লেখার ক্ষমতাকে প্লাবিত করে যার ফলে বারবার বাধা পাচ্ছিলাম। কোনো মায়ের পরিণতি যেন তেমনি না হয়।
 

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: Banglanewspaper মা বিসিএস ক্যাডার