banglanewspaper

এক ভারতীয় মাকে এক বাংলাদেশী বিসিএস কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেট স্টেশনে ফেলে রেখে দিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছেন। ভারতীয় মা এই জন্য যে, মায়ের ছবিটি পাওয়া গেছে শাটারস্টক নামের আমারিকান ওয়েবসাইটে। ভিডিও নেয়া হয়েছে, বৃন্দাবন, ভারত থেকে। দেশের সনামধন্য কয়েকটি কয়েকটি তা নিউজ আকারে ছেপেছে তাদের ওয়েবভার্সনে। এরপর বাকিটা ইতিহাস। সব পত্রিকা, অনলাইন সংবাদমাধ্যমে আর দেরি করেনি। ধুমছে কপি পেস্ট করে আপ্লোড করেছে। বিক্ষুব্ধ বিপ্লবী ফেসবুক জনতা মহানন্দে শেয়ার করে ম্যাজিস্ট্রেট নামের গুষ্ঠী উদ্ধার করেছে।

নিউজটা খুব মনোযোগ দিয়ে পড়লাম। নিউজ সোর্স ব্যারিস্টার এস এম ইকবাল চৌধূরীর ফেসবুক ওয়াল থেকে সংগৃহীত। ফেলে দিয়ে ক্ষান্ত হয় নাই, সাথে কিউট হাতের লিখার চিঠিও আছে- মা, সর‍্যি, তোমাকে ফেলে দিয়ে গেলাম

এখানে কয়েকটা বিষয় বিবেচ্য। প্রথমত, ধরে নিলাম ঘটনা সত্য। ধরে নিলাম ব্যারিস্টার এস এম ইকবাল চৌধূরী বিরাট আইন ব্যাক্তিত্ব, শুধুমাত্র যাতা লেভেলের ছিচকে লাইকবাবা না। কিন্তু তার ফেসবুক স্ট্যাটাসকে আগেপরে সত্যতা যাচাই না করে , কারো কোন বক্তব্য না নিয়ে সংবাদ করাটা কতটা যুক্তিসংগত? শখানেক অনলাইন ভার্সনের হাজার খানেক সাংবাদিকের ৫/১০ মিনিট সময় কি দেয়া যেত না মাঠে গিয়ে বা ফোনে এর সত্যতা যাচাই এর জন্য? ধরেন প্রখ্যাত সাংবাদিক সাহিত্যিক আনিসুল হক আরেক প্রখ্যাত সাংবাদিক সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনকে নিয়ে স্ট্যাটাস দিলেন , মিলন ভাই ফালতু লেখক। অমনি কি নিউজ হেডলাইন হবে, মিলন যা তা লেখক? আমি সাংবাদিক হলে মিলন ভাইয়ের নুরজাহান, তুমি বড় ভাল মেয়ে ইত্যাদি বই পরে নিতাম। পারলে জাফর ইকবাল স্যারের একটা অপিনিয়ন নিতাম, মিলন ভাই কি আসলেই যা তা লেখক না আরো খারাপ লেখক? এরপর সম্ভব হলে মিলন ভাইকেও জিজ্ঞাস করতাম, আনিস ভাই আপনার লেখাকে ফালতু বলেছেন, আপনি নিজেকে নিজে কিভাবে মূল্যায়ন করেন? এরপর চিন্তা করা যেত এটা আসলেই আপলোড করার মত নিউজ কিনা? এটা বোঝার জন্য সাংবাদিকতা ডিগ্রীরও দরকার নাই, বিরাট পত্রিকায় কাজ করার অভিজ্ঞতারও দরকার নাই।

দ্বিতীয়ত, ধরে নিলাম ধরে নিলাম ব্যারিস্টার এস এম ইকবাল চৌধূরী বলে পৃথিবীতে কেউ আছেন । তবে তিনি যেহেতু প্রাইভেট ব্যাবসায়ি, সেহেতু তিনি মানুষ । এমন এক এক্সক্লুসিভ নিউজ দিয়ে ব্যাপক হিট । তার আর ক্লা্যেন্টের অভাব হবে না। ইতোমধ্যে তিনি কামাল হোসেন লেভেল ছাড়িয়ে গেছেন জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে। অবশ্য কয়দিন আগে এক ভুয়া ব্যারিস্টার ধরা খেয়েছেন। তিনি আবার টকশোতে খালি জ্ঞান বিতরণ করতেন। কেউ এই মহানুভব আইনজীবীর ফেসবুক আইডি পেলে আমাকে দেবেন। আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব।

তৃতীয়ত, ধরে নিলাম তিনিও নাই, এমন ঘটনাও নাই। তবে নাটের গুরু হিসেবে https://www.facebook.com/pg/ain.law.Bangla/posts/ এ পেইজটির সন্ধান পেলাম। এই পেইজটির বিশেষ দায়িত্ব মাঝে মাঝে এমন পেজগি পোস্ট দেয়া। উনারা নিশ্চই জানেন কে এই ব্যারিস্টার এস এম ইকবাল চৌধূরী? আসলে এসব করে কার কি লাভ? তবে সত্যাচারের জন্য অনেক পেশার সুনাম ভালই আছে তারা সেটা নিজ দায়িত্বেই প্রমাণ করবেন।

আমি চাই ঘটনাটি মনে প্রাণে সত্য হোক। যে অপরাধী এত সুন্দর হাতের লেখা চিঠি লিখেছেন তাকে কেরাণিগঞ্জের সুন্দর জেলখানাতে পাঠানো হোক। আর ব্যারিস্টার সাহেব নিজেই সে মামলা চালাতে পারবেন মাতাপিতা ভরণপোষণ সম্পর্কিত আইনে। তিনি সেটা প্রথমে করলেই আইনের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন হত।

অনেকেই আমজনতার দোষ দিচ্ছেন। তারা লাইক শেয়ার কমেন্টস পোষ্ট দিয়ে ফেসবুক গরম করে ফেলেছেন। আমার মতে তাদের দোষ দেয়া ভারী অন্যায়। এতগুলো সংবাদ মাধ্যম, এত বড় ব্যারিষ্টার , এত জ্ঞান দায়ি পেজগি পেইজ সত্য/মিথ্যা সংবাদ বা তথ্য শেয়ার করলে আমার আপনার মত আমজনতার দায়িত্ব হচ্ছে বিশ্বাস করা। সব সময় তাই করবেন।

আরেকটা প্রশ্ন, পঞ্চম স্তম্ভ সংবাদমাধ্যম একটার নিউজ এক সেকেন্ডে চুরি করে আরেকটায় ছাপায়ে/ আপ্লোড দেয়, এটা কতটা নৈতিকতাসিদ্ধ? খালি পিএসসি/যে এসএসসি পোলাপাইন একজনেরটা আরেকজন দেখে লিখলেই সমস্যা?

বিঃ দ্রঃ কালের কন্ঠকে ধন্যবাদ , তাদের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অবগত হওয়ার পর নিউজটি সরিয়ে নিয়েছেন। আমার অনেক ফেবু ফ্রেন্ডও তাদের আবেগমাখা শেয়ার সরিয়ে নিয়েছে। তবে আমি চাইব, ভাল একজন রিপোর্টার ঘটনাটির সঠিক ও অনুসন্ধানী রিপোর্ট করবেন। ঘটনা সত্য হলে অপরাধীর ক্ষমা পাওয়ার সুযোগ নেই।

 

লেখক:
তৌহিদ এলাহী
ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: banglanewspaper তৌহিদ এলাহী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট