banglanewspaper

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় ৮ অষ্টম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করার ফলে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে অসহায় এক কিশোরী। ধর্ষণের অভিযোগে গত মঙ্গল বার আদালতে মামলা করেছে নির্যাতিত কিশোরীর পরিবার। 

মঙ্গলবার অভিযুক্ত ধর্ষণকারী মো. সোহেলসহ (২২) চারজনের বিরুদ্ধে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটি করেন।

আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ আবু মনসুর মো. জিয়াউল হক মামলাটি এজাহার হিসেবে আমলে নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তেঁতুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।

মামলার আসামিরা হলেন- তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মো. সোহেল (২২), তার বড় ভাই মো. জুয়েল (২৭), তাদের বাবা সপিকুল ইসলাম ওরফে খুদুত এবং ওই এলাকার মিয়া হোসেনের ছেলে মো. আহাবদ আলী (৩২)।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে একই এলাকার মো. সপিকুল ইসলাম ওরফে খুদুতের ছেলে মো. সোহেল প্রেমের প্রস্তাব দেয়।

২০১৭ সালের ৪ মে সোহেল ওই স্কুলছাত্রীকে তার বাড়িতে নিয়ে অপরিচিত দুইজন ব্যক্তির সহযোগিতায় কৌশলে বিয়ের কালিমা পড়ায়। এরপর তাদের বিয়ে হয়েছে বলে ওই কিশোরীকে জানায়। অপরিচিত দুই ব্যক্তি চলে যাওয়ার পর সোহেল তার সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করে। সেই সঙ্গে কিছু দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরে তুলে নেবে এমন আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে। 

একপর্যায়ে ওই স্কুলছাত্রীকে অন্তঃসত্ত্বা হয়। সোহেল তাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি দেবে বলেও কালক্ষেপণ করতে থাকে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সোহেল ওই স্কুলছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে তাকে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে তাকে বাড়িতে না তোলার কথা বলে চলে যায়। সেইসঙ্গে বলে যায়, তাদের ওই বিয়ে ছিল মিথ্যা। এ কথা শুনে কিশোরী কান্নাকাটি শুরু করে। পরে কিশোরীর বাবা-মা বাড়িতে এসে অবস্থা দেখে তাকে নিয়ে সোহেলের বাড়িতে নিয়ে যান এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়।

এতে সোহেল ও তার পরিবারের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে কিশোরী ও তার বাবাকে মারপিট করে তাড়িয়ে দেয়। পরে স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার মাধ্যমে কিশোরীকে ঘরে তোলার কথা জানায় সোহেল ও তার পরিবারকে। কিন্তু তারা তাদের কথায় কর্ণপাত করেনি। অবশেষে উপায় না পেয়ে আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার।

ট্যাগ: Banglanewspaper