banglanewspaper

দাঁতের সেনসিটিভিটি বা দাঁতে শিরশির অনুভূতি হওয়া একটি প্রচলিত রোগ। এটি অনেক সময় সহনীয় হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তীব্র হয়। যা আমাদের জীবনযাপনে ব্যাঘাত ঘটায়। আমরা খালি চোখে দাঁতের যে অংশ দেখতে পাই তার নাম এনামেল। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ঠান্ডা কোনো খাবার খেলে দাঁত শিরশির করে, যদি দাঁতে সমস্যা থাকে। তবে টক বা মিষ্টিজাতীয় খাবার গ্রহণের সময়ও একই ধরনের অনুভূতি হতে পারে। কারও দাঁতের সাদা অংশ এনামেল ক্ষয় হয়ে ডেনটিন নামের অংশটি যখন বের হয়ে যায়, তখনই দাঁতে ঠান্ডা কিছু লাগলে শিরশির করে।

কারণ

  • ভুলভাবে দাঁত ব্রাশ করলে বা শক্ত টুথ ব্রাশ দিয়ে দাঁত ব্রাশ করলে দাঁতের এনামেল ক্ষয়ে যায়। তখন এনামেলের পরের স্তর ডেনটিন বেরিয়ে আসে। এর ফলে দাঁতে সেনসিটিভিটি হয়।
  • অনেক সময় একটি দাঁতের সঙ্গে আরেকটি দাঁত শক্তভাবে লেগে দাঁতের  এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
  • মাড়ির ক্ষয়ের কারণে এটি হতে পারে। এ ছাড়া মাড়ির বিভিন্ন ধরনের অসুখের কারণেও সেনসিটিভিটি হয়।
  • যেসব খাবারের মধ্যে ক্যামিকেল থাকে এসব খাবার খেলে এই সমস্যা হয়। যেমন : কোল্ড ড্রিংস, ঠাণ্ডা খাবার, এলকোহল ইত্যাদি।
  • বয়সের কারণেও অনেক সময় দাঁতের শিরশির অনুভব হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ২৫ থেকে ৩০ বছরকে সেনসিটিভ বয়স হিসেবে ধরা হয়।
  • যেকোনো দুর্ঘটনায় দাঁত যদি ভেঙে যায়।
  • অনেক সময় শক্ত খাবার খাওয়ার সময় এ রকম হতে পারে।
  • দীর্ঘ সময় ধরে মাউথ ওয়াশ ব্যবহার করলে এই সমস্যা হয়।
  • যেসব খাবারে এসিড থাকে সেসব খাবার খেলে এই সমস্যা হয়। যেমন : বিভিন্ন ধরনের ফল, টমেটো, চা ইত্যাদি।
  • দাঁতের বিভিন্ন কাজের সময় এ রকম হতে পারে। যেমন : রুট ক্যানেল, ক্রাউন প্লেসমেন্ট এবং দাঁতের রেসটোরেশন ইত্যাদি।

 

প্রতিকার

  • নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করলে দাঁতের ফাঁকে কোনো জীবাণু তৈরি হতে পারবে না। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এবং সকালে নাশতা করার পরে দাঁত ব্রাশ করুন নিয়মিত। 
  • দাঁত ব্রাশ করার জন্য সেনসিটিভিটি রোধ করে এমন টুথপেস্ট ব্যবহার করুন। এমনটাই মত প্রায় ৯ শতাংশ ডেন্টিস্টের। তাঁরা মনে করেন, এমন টুথপেস্ট আপনার দাঁত শিরশিরের যন্ত্রণা থেকে রেহাই দেবে অনেকটা। 
  • ব্রাশ করুন আস্তে আস্তে। দাঁতের ওপর চাপ দেবেন না। জোরে ব্রাশ করাটা দাঁতের শিরশির ভাব আরও বাড়িয়ে দেবে। হালকা কোমল ব্রাশ ব্যবহার করুন। এতে সমস্যা থেকে রেহাই মিলবে অনেকটা। 
  • যেকোনো অ্যাসিডিক খাবার খাওয়ার সময়ও একটু সচেতন হোন। যেমন ফলের জুস, কোমল পানীয়-এসব দাঁতের এনামেল নষ্ট করে ফেলে। তাই এসব পান করার পরই দাঁত পরিষ্কার করে ফেলুন। 
  • আপনার যদি নিয়মিত দাঁতে দাঁত ঘষা বা দাঁত চেপে রাখার অভ্যাস থাকে, তাহলে সেটা ত্যাগ করাই ভালো। 
  • অনেকেই দাঁতের শিরশির করা অংশটি ব্রাশ করে না। কিন্তু এতে সমস্যা বেড়ে প্রকট আকার ধারণ করতে পারে।

ট্যাগ: banglanewspaper দাঁত চোখ