banglanewspaper

কোটা সংস্কার আন্দোলন থামাতে পুলিশ ও ছাত্রলীগ’র মারমূখো তান্ডবে সারাদেশ আজ প্রকম্পিত। আপামর জনগণের মধ্যেও তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে। প্রতিটি স্কুল,কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভিভাবকদেরও এনিয়ে ভাবিয়ে তুলছে। সকল শ্রেণী পেশার লোকদের শুধু একটাই এখন প্রশ্ন ছাত্র-ছাত্রীদের উপর এ কেমন নির্যাতন?

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি আদায়ের পথ বন্ধে বাধা সৃষ্টি করে গণতান্ত্রিক অধিকার হরন করছে। নিজদলীয় কর্মী ও পুলিশকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে কোটা সংস্কার দাবি বন্ধ করা মুঠেই দেশের জন্য কাম্য নয়। এতেকরে আওয়ামী লীগ সরকার তারা তাদের ভাবমুর্তী ক্ষুন্ন করছে। ফুসলিয়ে দিচ্ছে গোঠা দেশের শিক্ষা প্রতিস্ঠানকে । যা নজরে পড়েছে সমগ্র জাতির। একনায়তন্ত্রের মতো শাসন শোষন যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্থান নেই তা হয়তো ভ’লে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার । কারন যে কোন দাবি আদায়ে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রতিবাদ করাটা একেবারে দোষের কিছু নয় । যদি সেই আন্দোলনের ভাষা হয় শান্তিপূর্ণ। কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি আদায়ের স্বর্থ থাকতেই পারে। হোক সেটা যৌক্তিক আর অ-যোৗক্তিক! তা তাদের গণতন্ত্র চর্চার বাইরে পরেনা । সরকারকে মাথায় রাখতে হবে এ স্বাধীন রাষ্ট্রে সকল নাগরীকের অধিকার সমান। তাইবলে তাদেরকে আন্দোলন থেকে সড়াতে পুলিশ ও দলীয় ক্যাডার ব্যবহার করতে হবে তার কোন যৌক্তিকতা নেই!

এদিকে বিশেষকরে রবিবার ও সোমবার গোঠা দেশে হঠাৎ করে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাত্রা বেড়ে যায়। সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বে-সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও আস্তে আস্তে এ আন্দোলনে সড়িক হচ্ছে। তার জন্য দায়ি কে বা কারা ! কেন এখন সেই  প্রশ্নের জবাব সরকার’র পক্ষ থেকে দিতে গড়িমসি করা হচ্ছে? 

যদি  লক্ষ্য করা যায়-কোটা সংস্কারের আন্দোলনের মাত্রা যখন ছোট ছিল তখন কেন সেটাকে গোলটেবিল বৈঠকের মাধ্যমে এনে সমাধান করা হলনা! হঠাৎ করে শাসকদলীয় ক্যাডার আর পুলিশী বাহিনী লেলীয়ে দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের টেলে দেয়া হল আন্দোলনের তোপের মুখে। যাদের হাতে থাকার কথা বই, কলম ও খাতা তারা কেন আজ সহ্য করতে হচ্ছে গুলির ঝন-ঝনানী। তাদের শরীরে কেন দলীয়কর্মীর আঘাত-নির্যাতনের চিহ্ন? এ থেকে স্পস্ট যে, সরকার এর পেছনে মদদ দাতা? আজ কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের শরীরে জড়ল লাল রক্ত! তার জন্য দায়ি কারা? সরকারের স্বদ্বিচ্ছা থাকলে হয়ত’বা এমনটি হতনা। এতে যে সরকার আগামী জাতীয় নির্বাচনে তার মাশুল গুণতে হবেনা কড়াই গন্ডায় তা মনে হয় বোধগম্য নয়। 

এক একটি দাবির সাথে জাতীয় কিছু ইস্যু থেকে যায় ঠিকসময়ে তার খেশারত গুণতে হয় সবাইকে। আবার এ থেকে বিরোধি দলের নেতারাও যে ফায়দা লুঠবেনা তাতো নয়! কারন বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকার সূবাধে বিএনপিদল’র নেতাকর্মীরা যে ধৈর্য্যর পরীক্ষা দিয়ে যাচ্ছে তাতেই সারাদেশের জনগণ এখন হতভম্ভ । তারা তাদের অবস্থানে থেকে সূষ্ট আন্দোলন চালিয়ে রাজপথে দাড়িয়ে প্রতিবাদ করছে । রাজস্বাক্ষি হয়ে নীরবে নীরবে এদেশের জনগণ অনূসরন করছে। তারপরেও বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে বিভিন্ন পন্থায় । কিন্তু কেন এমনটা করা হচ্ছে? সূষ্ট প্রতিবাদের ভাষা হয়ে ওঠছে জেল,ঝুলুম ও নির্যাতন! প্রতিটি নাগরীকের অধিকার হরন করা যে আপনার-আমার কারো কোন অধিকার নেই গণতান্ত্রিক এ রাষ্ট্রে! আজকে দেখা যায় আওয়ামী লীগের একাধিক এমপি-মন্ত্রী বলেছেন আন্দোলনকারীদের শনাক্ত করতে বা এর পেছনে মদদ দাতারা কে বা কারা!

তাহলে প্রশ্ন থেকে যায়-পুলিশ ও দলীয়কর্মীদের পেছনের মদদ দাতারা কারা?  কারন ক্ষুদ্র থেকে বড়,শেষ পর্য্যন্ত বির্তকিত। অবশেষে আন্দোলনের উত্তাল দেখে সমাধানের জন্য জরুরী বৈঠক। এরকম নাটকিয়তার রহস্য চলবে আর কতদিন! মানুষের অধিকার নিয়ে চিনিমিনি না খেলে যে কোন বিষয় ছোট থাকতেই সমাধান করলে আপত্তি কোথায়। গুলি চালিয়ে নয়,আপোষ নিস্পত্বিই পারে একমাত্র সেই উচ্চ শিখরে পৌছাতে। আমাদের সকলকে একটা কথা মনে রাখতে হবে আজকের সন্তানরাও কিন্তু আগামী প্রজন্মের চাবিকাটি। তাই তাদেরকে অস্ত্র দিয়ে নয় “হামলা করে নয়” বুঝিয়ে শুনিয়ে শান্তির মাধ্যমে শেষ করাটাই একমাত্র পথ। তাই তাদের প্রতিবাদ করাটা অপরাধের নয়।
 

অরুন সরকার, লেখক ও সাংবাদিক।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: banglanewspaper কোটা কোটা সংস্কার