banglanewspaper

নিজস্ব প্রতিনিধি: জন্মের পর মৃত কন্যা সন্তানকে আইসিইউতে রেখে আড়াই লাখ টাকা বিল করার সংবাদ গনমাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর তা না নেওয়া প্রস্তাব দিয়েছে রাজধানীর ধানমন্ডির ‘স্কয়ার হাসপাতাল’। তবে তাদের এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে ভুক্তভোগী ওই পরিবারটি।

এই নিয়ে আজ দুপুর দুইটায় ওই নবজাতক শিশুর স্বজনদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আলোচনায় বসে। বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনা শেষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের বিল নিবেন না বলে ঘোষণা দিলে সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয় পরিবারটি।

আলোচনায় উপস্থিত একজন নাম প্রকাশ না শর্তে জানান, দুপুর দুইটায় স্কয়ার হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে শুরু হয় আলোচনা। এসময় হাসপাতালের সিইও ইউসুফ সিদ্দিক, মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক নওশাদ আহমেদ, বাণিজ্যিক বিভাগের ব্যবস্থাপক মিনহাজ ইসলাম, মার্কেটিং হেড ডাঃ ফয়সাল, ডাক্তারদের প্রধান নাজিম উদ্দিন, হেড অব ম্যানেজমেন্ট রুহুল আলম, গাইনি বিশেষজ্ঞ রেহনুমা জাহান ছাড়াও বেশ কয়েকজন। প্রায় সাড়ে তিনঘন্টা ব্যাপী আলোচনা চলার সময় বেশ কয়েকবার বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে।

এসময় ভুক্তভোগীর পরিবারে পক্ষ থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলা হয়, তাদের গাফলতির কারণে যে তাদের সন্তানের মৃত্যু হয়েছে সেটা গণমাধ্যমের সামনে বলতে হবে। এবং তদন্ত কমিটি গঠন করে সে রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত তিন ডাক্তারকে সকল কাজ থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। এছাড়া আইসিউতে রেখে রোগীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের বিষয়টি বন্ধ হয় যেন সেই বিষয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে। 

তবে হাসপাতালটি কর্মকর্তারা তদন্ত কমিটির বিষয়টি ছাড়া অন্য কোন দাবি মানেনি। আর কবে নাগাদ তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করবে সেই বিষয়টি সভায় নিশ্চিত করা হয়নি বলে জানা গেছে। এসময় হাসপাতালের কয়েকজন ভুক্তভোগী পরিবারকে বলেন; তারা যেন সংবাদমাধ্যমে তথ্য ও ফেসবুকে আর কোন তথ্য প্রচার না করেন।

এদিকে আলোচনা শেষে সভায় উপস্থিত এক কর্মকর্তা মৃত নবজাতকের মা তাসলিমা তারানুম নোভাকে দেখতে গিয়ে পরিবারটিকে শান্তনা দেন। ঘটনার দুঃখ প্রকাশ তিনি বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি একটি বড় বটগাছের দুটি ডাল কাটলে গাছের কোন ক্ষতি হবে না। পরে নোভার স্বামী ও আত্মীয়দের ডেকে নিয়ে নার্সদের স্টেশন রুমে যান। 

সেখানে ওই তিনি বলেন, ‘আপনাদের বিল হয়েছে আড়াই লাখের মতো সেটা দেওয়া লাগবে না। আজ আপনার রিলিজ করে বাড়ি চলে যান। আমরা আপনার সন্তানকে ফিরিয়ে দিতে পারব না তবে বিল বাকি রইল পরে নিব। এসময় ভুক্তভোগী পরিবারটি বলে আমরা বিল দিয়ে হাসপাতাল ছাড়বো, তখন ওই কর্মকর্তা বলেন, আপনারা আমাদের কথা রাখবেন দয়া করে।’

প্রসূতির মামা অবসরপ্রাপ্ত মেজর রেজাউল করিম বলেন, “আমার ভাগ্নির সাথে হাসপাতালের ডাক্তাররা খুবই বাজে ব্যবহার করেছে। তারা বাচ্চাটিকে বাঁচাতে দেয়নি। আমরা টাকার চিন্তা কখনও করিনি। স্কয়ারের মতো এতো বড় একটি হাসপাতাল এমন কাজ করতে পারে আমাদের ধারণা ছিলো না। আমার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে বলেছি। সেখানে আমাদের ও হাসপাতালের সদস্যরা থাকবেন। দ্রুতই কমিটি কাজ শুরু করবে। তবে অভিযুক্ত ওই তিন নারী ডাক্তার যাকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালের কোন রোগী দেখতে না পারে সে বিষয়টি বলেছি। তবে তারা সেটা মানেনি।” 

বিল না নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এমন অফার হাসপাতালের বেশ কয়েকজন আমাদের দিয়েছেন। তবে বিল পরিশোধ করে আমরা হাসপাতাল ছাড়বো। 

নবজাতকের বাবা শাহবুদ্দিন টিপু জানান, মিটিংয়ে আমি বেশ কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছি কিন্তু তারা তা গ্রহণ করেনি। আমার স্ত্রী এখনও অসুস্থ। সে সন্তান হারিয়ে পাগল প্রায়। মাঝে মাঝে সন্তানের কথা ভেবে কান্না করছেন।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার দুপুরে তার স্ত্রী তাসলিমা তারানুম নোভাকে স্কয়ার হাসপাতালে আসেন টিপু। সেখানে গাইনি বিশেষজ্ঞ রেনুমা জাহান তাদের বেশ কয়েকটি চেকআপ করিয়ে বলেন প্রসব ব্যাথা উঠলে হাসপাতালে আনতে। কিন্তু অন্য একজন চিকিৎসক এসে  বলেন, এখনই তার স্ত্রীকে ভর্তি করতে হবে। তার ব্যাথা উঠেছে।

টিপু ওই চিকিৎসকের কাছে জানতে চান, কীভাবে তিনি বুঝলেন ব্যাথা উঠছে। তখন ওই ডাক্তার বলেন, ‘এটা বুঝবেন না।’

সন্ধ্যায় স্ত্রীকে ভর্তির পর রাতে নোভাকে প্রসব ব্যাথা উঠার ইনজেকশন দেওয়া হয়। এতেও ব্যাথা উঠেনি। পরে শুক্রবার আবারও তাকে ইনজেকশন দেওয়া হয়। পরে ডা: রাফিফা ও ডা: নাজিয়া শনিবার তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেন। সকালে বাচ্চা প্রসব করলেও তারা অপারেশ থিয়েটার থেকে তাকে বের করতে কালক্ষেপণ করে। 

পরে তারা জানান, বাচ্চার হার্টে সমস্যা আছে আইসিইউতি রাখতে হবে। ঘটনা নিয়ে তুলকালাম ঘটা ঘটলে শিশুর স্বজনদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হাতাহাতি হয়।

ট্যাগ: Banglanewspaper স্কয়ার মৃত শিশু আইসিইউতে