banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ,শ্রীপুর (গাজীপুর): গাজীপুরের শ্রীপুরের বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে মোড়ে মোড়ে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে মাওনা-কালিয়াকৈর আঞ্চলিক সড়ক দুই ঘন্টা অবরোধ করে সিএনজি, লেগুনা ও অটোরিক্সা মালিক-চালকরা। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন সড়ক থেকে শ্রমিকলীগের নাম ব্যবহার করে চাঁদা আদায় করছে একটি চক্র।

১১ এপ্রিল বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মাওনা ইউনিয়নের সলিং মোড় এলাকায় এ অবরোধের ঘটনা ঘটে। অবরোধকারী মালিক-চালকেরা জানান, মাওনা থেকে গাজীপুর ও মাওনা থেকে বারতোপা ৭ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে মাওনা চৌরাস্তা, মেডিকেল মোড়, গাজীপুর বাজার, বারতোপা বাজারে চল্লিশ টাকা করে জিপি (চাঁদা) প্রদান করতে হয়।

যা আদায় করেন স্থানীয় শ্রমিকলীগের নেতাকর্মীরা। সম্প্রতি এ চাঁদার হার দ্বিগুণ করা হয়। এছাড়াও চাঁদার টাকা না দিতে পারলে চালকদের সাথে অসৌজন্যেমূলক আচরণ করেন আদায়কারীরা। এসব বিষয়ে প্রতিকার ও চাঁদা হার কমানো দাবিতে সড়ক অবরোধ করা হয়। এতে এ সড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা যানবাহন না পেয়ে বিপাকে পড়েন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হয় বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের।

এছাড়াও এপ্রিল মাসের ১তারিখ থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পল্লী বিদ্যুৎ মোড়ে মাওনা চৌরাস্তা ট্রাক চালক কল্যাণ সমবায় সমিতি লিমিটেডের নামে যানবাহন থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। একই মহাসড়কের এমসি বাজার, নয়নপুর বাজার, জৈনাবাজারসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে চলাচলকারী যানবাহনকেও চাঁদা গুনতে হয়।

পাথারপাড়া গ্রামের সিএনজি অটোরিক্সার চালক আল আমিন জানান, সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্ন সড়কের অবস্থা শোচনীয়। আমরা ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় গাড়ি চালায়। এমনিতেই গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ দ্বিগুন হয়ে গেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন পয়েন্টে চাঁদার টাকা বাড়ানো হয়েছে। সারাদিন গাড়ি চালিয়েও এখন খাবার জুটে না।

অপর সিএনজি চালক আব্দুর রহমান বলেন, শ্রীপুরের যেখানেই মোড় রয়েছে সেখানেই চাঁদা দিতে হয়। না দিলে গাড়ির চালাতে দেয় না তাঁরা এবং বিভিন্ন ভাষায় গালিগালাজও করে।

বগুড়ার ট্রাক চালক শরিফুল ইসলাম বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট থাকায় আমরা বিকল্প সড়ক হিসেবে মাওনা কালিয়াকৈর সড়ক ব্যবহার করি। কিন্তু এ সড়কের পল্লী বিদ্যুৎ মোড় থেকে শুরু করে সলিং মোড় পর্যন্ত তিন কিলোমিটারে তিন স্থানে চাঁদা গুনতে হয়।

পল্লী বিদ্যুৎ মোড়ের বিভিন্ন যানবাহন থেকে চাঁদা আদায়কারী নুরুল ইসলাম জানান, আমাদের এটি একটি সমবায় সমিতি। গাড়ির চালকদের কল্যাণের জন্যই চাঁদা আদায় করছি। বৈধ কি অবৈধ আমরা এটা বুঝি না।

শ্রীপুর আঞ্চলিক শ্রমিকলীগের সভাপতি জোবায়ের আহমেদ জানান, শ্রমিকলীগের কেউই চাঁদাবাজির সাথে জড়িত নয়। তবে কেউ যদি শ্রমিকলীগের নাম ব্যবহার করে আঞ্চলিক ও মহাসড়ক থেকে চাঁদা আদায় করে থাকে তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এব্যাপারে মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হুসেন জানান, এবিষয়ে আমরা অবগত নই। প্রকাশ্যে চাঁদা আদায়কারীকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। তবে, বিভিন্ন যানবাহনের মালিকেরা টাকা আদায় করে থাকতে পারে।

ট্যাগ: Banglanewspaper শ্রীপুর