banglanewspaper

প্রভাষক কাজী আওলাদ হোসেন: গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘এশা এবং গুজব’ শব্দটি টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। ‘গুজব’ শব্দের ইংরেজী শব্দ হলো ‘রিউমার’। কয়েকদিন দিন ধরে কোটা সংস্কার নিয়ে যে আন্দোলন হলো তা কল্পাতীত! পেশাগত দিক থেকে দায়িত্ব পালনের জন্য মাঝে মাঝে ছুটে যায় বাস্তবতার একদম কাছাকাছি। বাস্তবতা আর কল্পনা যে এক নয় তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি কয়েকদিন ধরে।

গত ১০ তারিখ রাতে কিছু প্রতিযশা সাংবাদিক বন্ধুদের সাথে ছুটে গিয়েছিলাম প্রকৃতির সান্নিধ্যে নীলিমায় আচ্ছন্ন হাতিরঝিলে। যারা তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে এই স্বপ্নটি দেখে। যার মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ অনলাইন নিউজপোর্টাল অনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষাবার্তা’র সম্পাদক এ এইচ এম সায়েদুজ্জামান, কুষ্টিয়ার সময়ের সম্পাদক আমার অনুজ মনিরুল ইসলাম মনি এবং বাংলা ৫২ নিউজের বার্তা প্রধান আল-আমিন হোসেন মৃধা। যে মানুষগুলোর খুরধার লেখনী আমাকে সবসময় মুগ্ধ করে।

বাসায় এসে পৌঁছলাম অনেক রাতে। ফেসবুক ওপেন করতেই আমার চোখ যেন ছানাবড়া! শুনতে পেলাম ঢাবির সুফিয়া কামাল হলের এক ছাত্রীর পায়ের রগ কেটে দিয়েছে সেই হলেরই ছাত্রলীগের খোদ সভাপতি ইফফাত জাহান এশা। মুহূর্তেই এশার উপর চরম ঘৃণা জন্মালো। মন থেকে যেন ক্ষমায় করতে পারছিলাম না। কিন্তু পরক্ষণেই সম্ভিত ফিরে পেলাম। সাংবাদিকতা করি। অনুসন্ধানী মন। তাই ব্যাপারটি নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করলাম। যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে- তা কয়েকবার হেডফোন কানে দিয়ে শুনলাম ভালো করে। শুনে বুঝলাম আসলে ঐ মেয়েটির পা ছাত্রলীগের নেত্রী কাটেনি।

বিংশ শতাব্দীতে তথ্য-প্রযুক্তিতে বিপ্লব ঘটেছিল। প্রযুক্তির সুবাধে বাংলাদেশও পরিণত হয়েছে ডিজিটালে। কিন্তু ‘গুজব’ শব্দটি বারবারই আমাদের অস্তিত্ব সংকটে ফেলে দেয়।যাচাই-বাছাই ছাড়াই নিউজ করে দেয় দেশের নামী-দামী কিছু পত্রিকা। কিই বা করবে তারা- কার আগে কে সংবাদ প্রকাশ করবে পাঠক ধরে রাখার জন্য। যে প্রতিযোগিতার মধ্যে নিরপেক্ষতা যাচাইয়েরও কোনো সুযোগ নেই।

এর মধ্যেই ভোরের পাতার সিনিয়র সাংবাদিক উৎপল দাস ও বিডিনিউজ আওয়ারের সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মনি সত্যটি তুলে ধরায় মানুষের রোষানলে পড়তে হয়েছিল। কিন্তু কোনো মিডিয়ায় নিরপেক্ষতা ও সত্য ঘটনাটি যাচাই করার চেষ্টা করেনি। সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলনের সূতিকাগার। কিন্তু সেই দিন হয়তো বা মানবিকতা ভুলে গিয়েছিল সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের বিপদগামী কিছু শিক্ষার্থী। আমার প্রশ্ন এসব শিক্ষার্থীদের ঢাবি’তে পড়ার মানবিক যোগ্যতা নিয়ে। ইফফাত হয়তো নিজের সত্ত্বাকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন রাজনৈতিক দলের আনুগত্যের কাছে বা অতি উৎসাহী হয়ে। এশার আজকের এই জায়গায় আসতে কম কষ্ট করতে হয়নি।

জানা যায়, এশার বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপার প্রত্যন্ত একটি গ্রামে।মেধা দিয়েই প্রাচ্যের অক্সফোর্ডে ভর্তি হয়েছিলেন। আবার মেধা দিয়েই বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয়তা দেখিয়েছিলেন।নিজে মধ্যে হয়তো কোমলতা ছিল। বুঝতে পারেনি হয়তো রাজনীতির মারপ্যাঁচ। আসলে এশাকে রাজনীতি কী দিলো? জুতার মালা! বিশ্বায়নের এই যুগে বিভিন্ন ব্যান্ড্রের জুতা ঝুলেছিল এশার গলায়। কিন্তু মানবতা সেখানে যেন ডুকুরে কাঁদছিল। ঢাবি প্রশাসন ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ হয়তো এশাকে বহিস্কার করে ‘গুজব’কেই প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন। 

এশাকে নিয়ে কেউ ভাবেনি। তাঁর ভবিষৎ কি হবে? একবিংশ শতাব্দীতে কোনো মেয়ের গলায় জুতার মালা পরানো হবে। এটা ভাবতেও কষ্ট লাগে। এশার যা ক্ষতি, তা হয়ে গেছে। মানসিকভাবেও হয়তো বা ভেঙে পড়েছে মেয়েটি। সমাজের অনেকের চোখেই হয়েছে অপরাধী।

হায়রে ‘গুজব’, তুই ভালো থাক তোর প্রাচীন আদর্শকে ধারণ করে। হয়তো এই ‘গুজব’ই একদিন এই পৃথিবীকে নড়কে পরিণত করবে। পারমাণবিক যুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহতাও দেখাবে এই ‘গুজব’।

ভালো থাক ‘গুজব’ এবং এশার মতো সাহসী নারী।

লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক বাংলা ৫২ নিউজ এবং সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন অনার্স এসোসিয়েশন (অনপোব)

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: Banglanewspaper এশা গুজব