banglanewspaper

রাব্বি আহমেদ রাফি ॥ আন্দোলনটা ছিলো সরকারী চাকুরীতে সরাসরি নিয়োগে ৫৬% কোটার সংস্কার করে ১০% এ নিয়ে আসা। গত কয়েকদিনে এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অনেকগুলো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। তার মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য ছিলো ছাত্রদের উপর পুলিশের বর্বরতা, যার জন্য প্রশাসনের প্রতি ছাত্রসমাজ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ।

তার পরবর্তীতে মাননীয় ভিসি স্যার এর বাড়িতে নিষংস হামলা, সুফিয়া কামাল হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতিকে মিথ্যা বানোয়াট ভাবে ফাসানো, এছাড়া ছোটখাটো বহু ন্যাক্যারজনক ঘটনা ঘটেছে।

এগুলার পেছনে কিছু রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র আছে বলে সন্দেহ হয়েছে। সকল দিক বিবেচনা করে গতকাল সংসদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা দেন দেশে সরকারী চাকরীতে কোন কোটা থাকবে না।

কোটা থাকলে কিছুদিন পর আবারও আন্দোলন হবে, তাই তিনি উপজাতি ও প্রতিবন্ধীদের বিশেষ ব্যবস্থায় চাকরীর ব্যবস্থা করবেন বলে ঘোষনা দেন এবং তিনি বলেন, দেশের সরকারী চাকরীর সরাসরি নিয়োগে আর কোটা থাকবে না, (তবে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থার অনুরোধ রইলো)।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনার পরও যারা, কোটা সংস্কার চাই, বাতিল নয় এমন কথা বলে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের উদ্যেশ্য ভিন্ন, তারা প্রধানমন্ত্রীর কন্ঠে নাকি ষড়যন্ত্রের গন্ধ পেয়েছে।

এখন মনে হচ্ছে আপনাদের আন্দোলন কোটা সংস্কার নিয়ে নয়, সরকার সংস্কার নিয়ে। সাধারনের উদ্যেশ্যে বলি এখন আপনারা আন্দোলনে যাবেন না, মাননীয় নেত্রী যেখানে ঘোষনা দিয়েছেন সেখানে আপনাদের আবার আন্দোলন করা ঠিক হবে না। আপনারা তো জেনেছেন কোটা বাতিল করলে হাইকোর্ট এর রিট করার ক্ষমতা নেই, আর কোটা না থাকলে তো আপনাদের ৫ দফা দাবির ব্যাপারটাও পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে।

এরপরও যারা আন্দোলনে যাবে প্রধানমন্ত্রীর কথার চুলছেড়া বিশ্লেষন করে ষড়যন্ত্র খুজবে তারা নিশ্চয় সাধারণ শিক্ষার্থী নয়। সাধারণ শিক্ষার্থীর নাম ভাঙিয়ে তারা রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চাই। সাধারণ শিক্ষার্থী সাবধান, এখন রাজনৈতিকভাবে প্রনোদিত হচ্ছেন, কোটা বাতিল হলে আপনাদের কোন ক্ষতি হওয়ার কথা না।কিন্তুু দেশ অস্থিতিশীল হলে সকলের ক্ষতি।
মনে রাখবেন দেশে মোশতাকের বংশধর ধ্বংস হয়ে যায়নি।


লেখকঃ
রাব্বি আহমেদ রাফি
শিক্ষার্থী,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

 

 

 

 

 

 

 

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: banglanewspaper শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রী