banglanewspaper

রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলা ১৭ বছরেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। হত্যা মামলায় রায় হলেও হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যদণ্ড নিশ্চিতকরণ) ও আসামিদের আপিলের শুনানি এখনও শুরু হয়নি।

কবে শুনানি শুরু হবে তাও বলতে পারছেন না কেউ। অপরদিকে সাক্ষীর অভাবে ঝুলে আছে একই ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের মামলাটি।

দফায় দফায় সমন পাঠানোর পর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হলেও সাক্ষীদের হাজির করতে পারছে না পুলিশ। এদিকে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে নারীদের ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনার তিন বছর পার হলেও অদ্যাবধি এর কোনো বিচার হয়নি। মামলায় একমাত্র আসামির বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠন হলেও এখনও সাক্ষ্যগ্রহণই শুরু হয়নি।

২০০১ সালে রমনার বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলা হয়। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত ও ২০ জন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার মধ্যে হত্যা মামলার রায় হয় প্রায় ১৩ বছর (২০১৪ সালের ২৩ জুন) পর। রায়ে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের শীর্ষ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত।

মামলায় সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিনসহ চার আসামি এখনও পলাতক। হত্যা মামলায় ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শুরু হয়।

পরে তা কার্যতালিকা থেকে বাদ যায়। অপর দিকে ২০০৯ সালে চার্জ গঠনের পর বিস্ফোরক মামলায় প্রথম সাতজনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। এরপর থেকে ধীরগতির চক্রে পড়েছে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম।

২০১৫ সালের ২২ মার্চ থেকে সাক্ষীদের প্রতি সমনের পাশাপাশি ওয়ারেন্ট জারি করে আসছেন আদালত। গত দুই বছরে দু’জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। চলতি বছরের ৮ মার্চ এ মামলায় শংকর চন্দ্র হাওলাদার সাক্ষী দেন।

এ নিয়ে মোট ৮৪ জনের মধ্যে ২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটির বিচারকাজ চলছে। আগামী ১২ মে এ মামলায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে বলে যুগান্তরের খবরে বলা হয়।

হাইকোর্টে ঝুলে থাকা শুনানির বিষয়ে জানতে চাইলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ বলেন, মামলাটি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়। একপর্যায়ে মামলাটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেয়া হলে পরে তা ডেথ রেফারেন্স শুনানি হয় এমন একটি বেঞ্চে কার্যতালিকায় আসে। সেটি এখন শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ।

বিস্ফোরক আইনের মামলা প্রসঙ্গে আদালতের সরকারি কৌঁসুলি আবু আবদুল্লাহ ভূঞা বলেন, মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ত্বরান্বিত করতে রাষ্ট্রপক্ষের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। আদালত প্রতিনিয়তই সাক্ষীদের প্রতি সমন ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে চলেছেন। কিন্তু সাক্ষীদের আদালতে হাজির করতে পারছে না পুলিশ। তবে বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ গতি পেয়েছে।

২০০১ সালের পহেলা বৈশাখের দিন ভোরে রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের ঘটনাস্থলে দুটি বোমা পুঁতে রাখা হয় এবং পরে রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে তা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সকাল ৮টা ৫ মিনিটে একটি এবং ১০-১৫ মিনিট পর আরেকটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই নিরীহ সাত ব্যক্তি প্রাণ হারান এবং ২০-২৫ জন আহত হন। পরে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে আরও তিনজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট অমল চন্দ্র চন্দ ওই দিনই রমনা থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করেন। এতে ১৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

বর্ষবরণে যৌন হয়রানির মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণই শুরু হয়নি : এদিকে ২০১৫ সালের ১৪ এপ্রিল বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে টিএসসি এলাকায় নারীদের যৌন হয়রানির আলোচিত ঘটনার তিন বছর পার হলেও এর বিচার হয়নি। গত বছরের ১৯ জুন এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় একমাত্র আসামির বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠন করা হলেও অদ্যাবধি মামলায় কোনো সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। আগামী ৩ জুন এ মামলায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। ঢাকার তিন নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি বিচারাধীন।

জানতে চাইলে ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মাহ্মুদা আক্তার বলেন, এ মামলায় ইতোমধ্যেই আদালত আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছেন। আদালতে সাক্ষী না আসায় তাদের প্রতি সমন জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া আগামীতে পিপি অফিসের মাধ্যমে সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে।

আদালত সূত্র জানায়, আলোচিত এ মামলায় মো. কামাল নামের এক যুবককে আসামি করে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পুরস্কার ঘোষিত আরও সাত আসামির ছবি পাওয়া গেলেও তাদের নাম-ঠিকানা বা অবস্থান শনাক্ত করতে না পারায় চার্জশিটে তাদের আসামি করা হয়নি।

ট্যাগ: Banglanewspaper রমনা বটমূল বোমা হামলা