banglanewspaper

মোঃ জুয়েল রানা, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির মেয়াদ এক বছর পুর্ণ করতে চলেছে। এক সময়ের শিবির অধ্যুষিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ন শিবিরমুক্ত করতে এ কমিটি বিশেষ ভূমিকা রাখে। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে ঔতিহাসিক চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়া ও  বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাযে সহযোগিতা করার ব্যাপারে এ কমিটির সহযোগিতা স্বীকৃত।১ বছরে হয়নি কোন বড় ধরনের সহিংসতা।পুর্নাঙ্গ কমিটি করার ব্যার্থতা বাদ দিলে অনেক সফলতা আছে এ কমিটির।

ইবি ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির এক বছর পূর্তি উপলক্ষে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সফল সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিমের সাথে। তিনি ইবি রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি, কমিটির সফলতা- চ্যালেঞ্জ নিয়ে সরাসরি কথা বলেন বিডিনিউজআওয়ার২৪ এর সাথে। সাক্ষাতকারটির বিশেষ অংশ তুলে ধরা হলো-

-ইবি ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি এক বছর পুর্ণ করল। কেমন ছিল ইবি ছাত্রলিগের এই এক বছর?

জুয়েল রানাঃ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেখানো পথে তার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার ভীষন ২০২১ সফল করতে আমরা ইবি ছাত্রলীগ নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে আমি জড়িত সেই ২০১০ সাল থেকে।তখন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছিল একটি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর হাতে বন্দী। তাদের অত্যাচারে সাধারণ শিক্ষার্থী অতিষ্ঠ ছিল। তখন থেকেই বিভিন্ন লড়াই সংগ্রাম করেছি ইবিকে প্রগতিশীলতার ধারায় ফিরিয়ে আনতে।বিগত কমিটির বিভিন্ন সীমাবদ্ধতায় সেটা পুরোপুরি সম্ভব হয়ে উঠছিল না। কিন্ত বর্তমান কমিটি দায়িত্বভার গ্রহন করার পরে আমি আমার সভাপতিকে সাথে নিয়ে সেই প্রতিক্রিয়াশীল সাম্প্রদায়িক চক্রটির তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছি। এখন ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে হলে থাকতে পারছে, বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক ও সামাজিক- সাংস্কৃতিক সংগঠণগুলো নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে।ইবির যে উন্নয়নের ধারা আজ দেশের রোল মডেল এখানে বর্তমান কমিট ভূমিকা রেখেছে, আমরা প্রশাসনকে তাদের কাজে সহযোগিতা করেছি।ফলে এখন ইবি দেশের অন্যতম একটি সেরা শিক্ষাবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিনত হয়েছে।

     -ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগে লোকালিজম নিয়ে  কথা ওঠে। আপনারা এ থেকে কতটা বেড়িয়ে         আসতে পেরেছে?

     জুয়েল  রানাঃ দেখুন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থানগত কারণে এখানকার স্থানীয় শিইক্ষার্থীরা আগে          বেশি ভর্তি হতো। ফলে রাজনীতির নিয়ন্ত্রনটাও স্থানীয় শিক্ষার্থীদের হাতে থাকতো। তবে আপনি যদি বর্তমানে দেখেন ইবিতে এখন সকল জেলার শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে। এমনকি বিদেশি শিক্ষার্থীও আসছে, এ ধারায় রাজনীতিতেও পরিবর্তন আসছে। আপনি যদি দেখেন দলের মধ্যে প্রচুর কর্মী আছে যারা দূর-দুরান্ত থেকে আগত। এই বিশাল কর্মীদের মধ্যে আগামিতে নেতা হবে তখন আর কেউ ইবি ছাত্রলীগের লোকালিজম নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারবেনা।

  • এটা কবে নাগাদ হবে?

জুয়েল রানাঃ আসলে দিন তারিখ হিসেব করে বলা সম্ভব না তবে সামনে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আপনারা আমার কথার একটি প্রতিফলন লক্ষ্য করবেন আশা করি।

  • এক বছরেও পুর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি এটা কী রাজনৈতিক গতিশীলতার জন্য বাঁধা হচ্ছেনা?

জুয়েল রানাঃ আসলে বিষয়টি তেমন না। আপনি যদি দলীয় প্রগ্রাম দেখেন তাহলে লক্ষ্য করবেন যেকোন সময়ের চেয়ে বর্তমান ছাত্রলীগ অনেক সংগঠিত। দলে কোন বিভাজন নেই। তবুও আমি চাই যত দ্রুত সম্ভব পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে দিতে। এ ব্যাপারে শীঘ্র কার্যক্রম হাতে নিব।

  • এত দেরি হবার কারণ আসলে কী?

জুয়েল রানাঃ আপনি নিশ্চয় জেনে থাকবেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্পর্শকাতর ইউনিট। এখানে ছাত্রশিবির দীর্ঘদিন রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল। এখানে পূর্নাঙ্গ কমিটির মতো একটু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অনেক যাচাই বাছাইয়ের প্রয়োজন।সবার অতীত ব্যাকগ্রাউন্ড আমরা জানিনা। যদি তাড়াহুরো করে কমিটি করতে যাই তাহলে অনেক অনুবেশকারী ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই মুলত ত্যাগী ও প্রকৃত ছাত্রলীগ কে পদে বসানোর লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পদ প্রত্যাশীদের ব্যাপারে আমরা প্রকাশ্য ও গোপনে খোঁজ খবর নিচ্ছি। মিডিয়া থেকে তথ্য নিচ্ছি যদের ব্যাপারে নেতিবাচক কথা আসছে আমরা তাদের বাদ দিয়ে শুদ্ধ একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার পথে অনেকটাই এগিয়ে। অতি শীঘ্র আমরা একটি পুর্ণাঙ্গ কমিটি উপহার দিতে পারব বলে আশা করছি।

  • ইবি ছাত্রলীগের ১ বছরের সফলতা কী কী?

 

জুয়েল রানাঃ আমি মনে করে বর্তমান কমিটি অত্যন্ত সফলতার সাথে এক বছর পুর্ণ করেছে। এ মেয়াদে আমরা প্রতিক্রিয়াশীল ছাত্রশিবিরের অপরাজনীতি সম্পুর্নরুপে বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছি।শিক্ষার সঠিক পরিবেশ ফিরিয়ে এনেছি, গত এক বছরে রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য একদিনের জন্যেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ হয়নি, ফলে সেশনজট আর নেই বললেই চলে।প্রায় দুই যুগ ধরে ইবিতে সমাবর্তণ আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছিলনা, ইবি ছাত্রলীগ সে পরিবেশ তৈরিতে সহযোগিতা করেছে এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতির অংশগ্রহনের মধ্যমে সফলতার সাথে সেটির আয়োজন সম্ভব হয়েছে।ইবিতে এই এক বছরে যত উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে তা অতীতে হয়নি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এসব উন্নয়নমূলককাজে ছাত্রলীগ সহযোগিতা করেছে। বিভিন্ন প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনকে আমরা রাজনৈতিক চর্চা করার পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছি।আমরা সাধারন শিক্ষার্থীদের হলে নির্বিঘ্নে থাকার পরিবেশ সৃষ্টি করেছি। প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক জোট গুলো তাদের সাংস্কৃতিক চর্চা নির্বিঘ্নে করতে পারছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল স্থাপনের ব্যাপারে ছাত্রলীগ ভূমিকা রেখেছে। সবচেয়ে বড় কথা আমরা ইবি ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করে শৃংখল ছাত্র সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে পেরেছি।

-যদি ব্যর্থতার কথা বলতে হয়?

জুয়েল রানাঃ আসলে সে অর্থে ১ বছরে ছাত্রলীগে আপনি চোখে পড়ার মতো তেমন ব্যর্থতা খুঁজে পাবেন না। তবুও মানুষ হিসেবে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকবেই। পুর্ণাঙ্গ কমিটি যথা সময়ে করতে পারি নাই, এটা একটা সীমাবদ্ধতা তবে আশা করছি এ থেকে অতি শীঘ্র বের হয়ে আসতে পারব।

  • আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ সময় দেবার জন্য।

জুয়েল রানাঃ আপনাকেও ধন্যবাদ। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।

 

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সাজু আহমেদ

ট্যাগ: Banglanewspaper ইবি ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা সাক্ষাৎকার