banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর(গাজীপুর): গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ বাঘ, সিংহ ও ভাল্লুকের খাবার যোগাতে খরগোশ পালনের প্রকল্প চালু করেছে। ইতিমধ্যেই বেলজিয়াম থেকে আনা হয়েছে দ্রুত বর্ধনশীল পাঁচটি  ফ্লেমিশ জায়ান্ট খরগোশের বাচ্চা। এসব খরগোশ বছরে ৮ থেকে ১০ বার বাচ্চা দেয়। বাঘ, সিংহ ও ভাল্লুকসহ অন্যান্য হিং¯্র প্রাণীদের খাবারের চাহিদা পুরণে খরগোশের নিজস্ব খামার ঘড়ে তুলতেই এসব খরগোশ আমদানি করেছে বলে পার্ক কতৃপক্ষ জানিয়েছে। 

পার্কের ওয়াইল্ড লাইফ সুপার ভাইজার সরোয়ার হোসেন জানান  পার্কের হিংস্র প্রাণীদেরকে সপ্তাহে একদিন খরগোশ খেতে দেয়া হয়। এতে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ কেজি খরগোশের প্রয়োজন পড়ে। প্রাণীদের খাবারের চাহিদা পূরণ করতে দীর্ঘদিন যাবৎ ঠিকাদারদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ফার্ম থেকে খরগোশ সংগ্রহ করা হতো। দ্রুত বর্ধনশীল খরগোশ পালনের মাধ্যমে পার্কের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হলে এতে অর্থ ব্যয় সাশ্রয় হবে। তিনি আরোও জানান, বেলজিয়াম থেকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারী তিনটি এবং পরে আরও দু’টি সহ পাঁচটি জায়েন্ট খরগোশ আনা হয়েছে। বর্তমানে এদের বয়স চার থেকে পাঁচ মাস। এ জাতের খরগোশ প্রতি বারে ৩ থেকে ৫ টি বাচ্চা প্রসব করে থাকে। বছরে এদের ওজন দাড়ায় সাত থেকে আট কেজিতে।

জায়েন্ট খরগোশ সাধারণত ৫ থেকে ৬ মাস বয়সেই বাচ্চা দিয়ে থাকে। বিদেশী প্রাণী হওয়ায় পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিয়ে বাচ্চা প্রসবের সময় বিলম্বিতও হতে পারে। পার্কের বিশেষ পরিবেশে এসব খরগোশকে খাদ্য হিসেবে দেয়া হচ্ছে গাজর, নাস্পাতি, ছোলা,বাদাম, কচি ভুট্টা। সূত্রমতে, প্রতি শুক্রবার পূর্ণ বয়স্ক  বাঘ, সিংহ, ভাল্লুক ও অজগর সাপকে দু’কেজি  এবং অপ্রাপ্ত বয়স্কদের আধা থেকে এক কেজি ওজনের খরগোশ খেতে দেয়া হয়। বাকিদিন গুলোতে ওই সব প্রাণীকে গরুর মাংশ খেতে দেয়া হয়। পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মোতালেব হোসেন জানান, পার্কে বাঘ, সিংহ, ভালুক ও অজগর সাপের খাদ্য যোগাতে খরগোশ পালন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পার্কের প্রাণী গুলো উন্নত খাবার পাবে পাশাপাশি আর্থিক ব্যয়ও কমবে। উল্লেখ্য, পার্কে বর্তমানে ৯টি বাঘ, ২৪টি সিংহ, ১৪টি ভালুক ও ৯টি অজগর সাপ রয়েছে।
 

ট্যাগ: Banglanewspaper বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক হিংস্র প্রাণী খরগোশ