banglanewspaper

বাতের ব্যথা:
ওল পুড়িয়ে থেঁতলে নিয়ে অল্প ঘি অথবা এরেনডার তেল মিশিয়ে সহ্যমতো গরম করে পোটলা বেঁধে ব্যথার জায়গায় সেঁক দিলে যন্ত্রণাটা কমে যায়।

মুখের ক্ষত:
ওলকে কুচি কুচি করে কেটে শুকিয়ে নিয়ে মাটির কোনো পাত্রে মুখ বন্ধ করে লেপে সেটা শুকিয়ে নিয়ে পোড়াতে হবে। তারপর সে ওল-পোড়া ছাইকে একটুখানি ঘিয়ের সাথে মিশিয়ে দাঁত মাজলে মুখের ও দাঁতের মাঢ়ির ক্ষত সেরে যাবে।

অর্শ্বজনিত কোষ্ঠকাঠিন্য:
এ ক্ষেত্রে ঝলসে পোড়ানো ওল ঘিয়ে মেখে খেতে হয়; এতে অল্প পরিমাণে লবণ দিতে হয় (না দিলে বেশি ভালো)। তাতে এ অসুবিধা চলে যাবে।

অর্শ্বের রক্তস্রাব:
এতে স্রাব হয় বটে, তবে কম হারে হলে এ ক্ষেত্রে টাটানি বেশি হয়, সেই সাথে যেন তলপেটে শূল ব্যথা, মনে হয় যেন আমাশয় হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও উপরি উল্লেখিতভাবে ঘি মেখে ওল খেতে হয়।

অর্শ্বজনিত অগ্নিমান্দ্য:
পেটে বাতাস থাকেই, এর ওপর হজমও হয় না, আবার দাস্তও পরিষ্কার নয়, তবে মলে কাঠিন্য থাকে না। এ ক্ষেত্রে খোলা দিয়ে ঝলসানো ওল ৫০ গ্রাম খেতে হয়, এতে দোষটা চলে যাবে; এতে লবণ খাওয়া চলে।

অর্শ্বে ওল এতই উপকারী যে, নিয়মিত ওলের ভর্তা, ডালনা এমনকি শুধু ওল সেদ্ধ খেলে এ রোগ অবশ্যই সারবে। এ ছাড়া অর্শ্বরোগের জন্য ওল-বটিকা তৈরি করে রাখা যায়।

বড়ি তৈরির নিয়ম হলো:
[ওল শুকিয়ে গুঁড়ো করে তাতে চিত্রকের (রাংচিতা) গুঁড়ো, গোল মরিচের গুঁড়ো ও গুড় মিশিয়ে গুলি (বড়ি) তৈরি করে খেলে সব রকমের অর্শ্ব সারে। এতে ওলের গুঁড়ো বেশি থাকবে, এর অর্ধেক পরিমাণে থাকবে রাংচিতার গুঁড়ো, সেই সাথে খুব অল্প পরিমাণে গোল মরিচের গুঁড়ো। গুলি পাকানোর জন্য এতে বেশি পরিমাণে গুড় মেশাতে হয়। এর পর টোপাকুলের সমান গুলি বানিয়ে কাচের বৈয়ামে ভরে রেখে খেতে হয়। তবে যাদের দাদ, কুষ্ঠ, রক্তপিত্ত আছে তাদের জন্য ওল নিষেধ]

শোথ:
এ রোগ সাধারণত প্রায় ক্ষেত্রে আমের দোষের জন্য হয়, তবে পায়ের দিকে এ শোথ দেখা যায়। এটা কিন্তু কিডনি বা হার্টের দোষে পায়ে যে শোথ হয় সে ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; এ ক্ষেত্রে ঝলসানো ওল ভালো কাজ দেয় (বুনো ওল বেশি উপকারী)।

গেঁটে বাত:
অনেক সময় এ রোগীর অর্শ্ব থাকে; কারো রক্ত পড়ে, কারো রক্ত পড়ে না। এ ক্ষেত্রে ঝলসানো ওল ঘি মেখে খেলে সেরে যাবে।

গ্রহণী রোগ:
এ রোগের প্রধান লক্ষণ হলো, দিনেই বার বার দাস্ত হয়। আর রাতে হয় না বললেই চলে। এ ক্ষেত্রে ভাতের আমানির (পান্তা ভাতের পানি) সাথে ঝলসে পোড়া ওল খেতে হয়। এতে দোষটা চলে যায়; তবে পথ্য না মানলে রোগ সারে না।

দাদ: দাদের উপর ঘি মেখে পোড়া ওল ঘষলে ২-৩ দিনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যায়।

ছুলি: এ রোগেও উপরের পন্থায় ব্যবস্থা নিলে ভালো ফল মিলে।

আঙ্গুল হাজা:
ওলের ডাঁটার রস আঙ্গুলের হাজায় লাগালে ২-৩ দিনেই আরাম হয়। তবে প্রতিনিয়ত চলতে থাকলে একেবারে বন্ধ করা সম্ভব হয় না।

কফ প্রবণতা:
অনেক সময় সাবধানে থেকেও সর্দি-কাশির হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায় না; এর হেতু আরো পরিষ্কার হয় যদি পিতা-মাতার কারো অর্শ্ব থাকে। এ ক্ষেত্রে একটু ওল পোড়া ঝলসানো, নারিকেল কোরা ও ৫-৭ ফোঁটা ঘি মিশিয়ে খেলে সর্দির দোষটা চলে যায়। ওল কফ দূর করে সত্যি, কিন্তু বেশি খেলে যে চুলকানি হওয়ার ভয় থাকে সে কথা মনে রাখতে হবে।

মদে (নেশায়) অরুচি আনা:
সকালে নেশা ছাড়ে ও বিকেলে ধরে রোজই ছাড়ে আর রোজই খায়; তবে ঝোঁক কাটানোর ইচ্ছা থাকলে তবে ঝলসানো ওলের রস মদে মিশিয়ে ২-৪ দিন খেলে আর খেতে ইচ্ছা হবে না। এটায় অসুবিধা হলে ঝলসানো ওলের চাট খেলেও চলে।

মৌমাছি, বোলতা, ভিমরুল ও বিছার কামড়:
কামড়ানোর সাথে সাথে ওলের ডাঁটার আঠা দংশিত স্থানে ঘষে দিলে ৫-৭ মিনিটের মাঝে যন্ত্রণা চলে যায়।

পেটের পীড়া: গলা চুলকায় না এমন ওল খেলে পেটের পুরনো পীড়া সেরে যায়।

আমাশয়: ওল শুকিয়ে গুঁড়ো করে ঘিয়ে ভেজে চিনি মিশিয়ে খেলে আমাশয় সারে।

মৃত বৎসার ক্ষেত্রে:
অনেক মায়ের ৩-৪ মাসে অথবা ৭-৮ মাসে সন্তান নষ্ট হয়ে যায়; আবার কারো কারো বেলায় জীবিত ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর কিছু দিনের মাঝে মারা যায়। এ ক্ষেত্রে ৪০-৫০ গ্রাম ওলপোড়া, সিকি চা-চামচ চন্দন ঘষা মিশিয়ে খেতে হয়; এর সাথে একটু ছাগলের দুধ মিশিয়ে খেলে আরো ভালো হয়।

ট্যাগ: banglanewspaper ওল