banglanewspaper

মনির হোসেন জীবন, নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজধানী ঢাকা শহরের অন্যতম প্রবেশপথ সাভারের নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক। মহাসড়কের ডিইপিজেড ও জিরানী এলাকায় সড়ক সংস্কার কাজের কারণে মহাসড়কটিতে প্রতিনিয়ত অসহনীয় যানজটের কবলে পড়ে চরম ভোগান্তী পোহাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।

আর যানজটের এ তীব্রতার জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের অপরিকল্পনা ও সংস্কার কাজের ধীর গতিকেই দায়ী করেছে মহাসড়কটিতে চলাচলকারী সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে নির্ধারিত সময়ের আগেই যত দ্রুত সম্ভব সড়কের দুটি পয়েন্টে সংস্কার কাজ শেষ করে মহাসড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক করা হবে। আর হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে সওজের সাথে সমন্বয় করেই যানজট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও রাতে সংস্কার কাজ করার তাগিদ দেয়া হচ্ছে। তবেই যানজট অনেকটা নিরসন হবে বলে আশাবাদী পুলিশসহ সাধারণ জনগণ।

মহাসড়কটি দিয়ে চলাচলকারী যাত্রী ও যানবাহনের চালকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সড়কের সংস্কার কাজের জন্য ডিইপিজেড ও জিরানী এলাকায় মহাসড়কের উভয় পাশেই প্রায় সময় যানজট লেগে থাকে। বিশেষ করে সকালে ও বিকেলের পরে যানজটের তীব্রতা ভয়াবহ রুপ ধারণ করে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানা খন্দ, জমাট বাঁধা পানি ও সড়কের উপরে বিভিন্ন ধরণের নির্মাণ সামগ্রী অপরিকল্পিত ভাবে রাখার কারণেই মূলত যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া প্রতিযোগীতাপূর্ণ যানবাহন চালানোকেও যানজটের কারণ হিসেবে দেখছে অনেকে।  

নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের আশপাশ ঘিরে রয়েছে অসংখ্য শিল্প-প্রতিষ্ঠান রয়েছে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা। যানজটের কারণে সব শ্রেণী পেশার মানুষেরই চরম ভোগান্তী পোহাতে হচ্ছে। হারাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষের মূল্যবান সময়। যানজটের কারণে সবচেয়ে বেশী ভোগান্তীতে পড়ছে রোগী, নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা।

এমনিতে গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানা খন্দের সৃষ্টি হয়েছে তার উপর আবার সড়কের বিভিন্ন স্থানে এলোমেলো ভাবে নির্মাণ সামগ্রী রাখা এবং সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে রাস্তা ডাইভার্ট করে যানচলাচলের কারণে অসহনীয় যানজটে কবলে পড়তে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। এছাড়া মহাসড়কে অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা অবাধ চলাচলের কারণেও সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের।

যানজটের তীব্রতা এতটাই যে যাত্রীদের পায়ে হেঁটে রওনা দিতে হচ্ছে গন্তব্যের উদ্দ্যেশে। আর যানজটের কারণে মূল্যবান সময় ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে সকল শ্রেণী পেশার মানুষেরা। নির্ধারিত সময়ের দ্বিগুন সময় নিয়েও গন্তব্যে পৌছাঁনো সম্ভবপর হচ্ছে না। 

যেখানে ১০ মিনিট সময় লাগে জিরানী থেকে ডিইপিজেড পৌঁছাতে সেখানে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে হয় যানবাহনে এমনটাই জানালেন ডিইপিজেড এলাকায় একটি গার্মেন্টস্ এর শ্রমিক নূরুল হক।  

সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষ (ব্যবস্থাপনা) এর শিক্ষার্থী লিমা জানান, জিরানী থেকে ডিইপিজেড পৌঁছাতেই ১ থেকে ২ ঘন্টা সময় লেগে যায়। আর প্রতিদিনই যানজটে পড়তে হয়। যানজটের কারণে প্রায় দিনই ক্লাস করতে পারি না। 

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে যাতে মহাসড়কের সংস্কার কাজ দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করা হয় এবং যানজট নিরসনে যাতে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তড়িৎ পদক্ষেপ নেয়া হয় এমনটাই দাবি জানিয়েছে সাধারণ যাত্রী, শ্রমিক, শিক্ষার্থীসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষ ও সমাজের সচেতন মহল।

ট্যাগ: Banglanewspaper নবীনগর চন্দ্রা সড়ক যানজট ধীরগতি পরিকল্পনাহীনতা