banglanewspaper

গত ১৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের সামনে কদম ফোয়ারার পাশে ট্রাফিক সার্জন্টের সঙ্গে আইল্যান্ডের উপর দাঁড়িয়ে আছি। সিগন্যাল ছাড়ার অপেক্ষায়। আইল্যান্ডে পুলিশ দাঁড়ানোর জন্য ছাতায় দ্রুত গতির একটি বাস ধাক্কা মেরে চলে গেল।

সাথে থাকা দুই পুলিশ কর্মকর্তা ও আমি ভাগ্যের জোরে বেঁচে গেলাম। তা না হলে আমাদের পরিণতি হতো রাজিব বা নাম না জানা অনেকের মতই। পরে সাথে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলতে লাগলেন এই বাসের ড্রাইভারদের ধরে মারলেও এরা কখনই শিক্ষা লাভ করে না। এরা যেমন, তেমনি থাকে।

রাজধানী ঢাকা। নগর জুড়ে কোটি মানুষের বাস। এই কোটি মানুষকে প্রতিদিন বের হতে হয় কাজের জন্য। আর চলাচল করতে সড়ক, অলি গলিতে। সড়কে চলাচলের জন্য প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ ব্যবহার করে গণপরিবহন। এই পরিবহনই হয়ে দাঁড়িয়েছে মৃত্যুর কারণ। কারণ এই পরিবহনের চালকের দক্ষতা আর সচেতনার অভাবে প্রতিনিয়তই ঘটছে সড়কে দুর্ঘটনা। শুধু যে চালকদের দোষ তাও কিন্তু নয়। এই দুর্ঘটনার পেছনে সাধারণ মানুষের অবহেলার কারণও আছে।

এই দিনেরই আর একটি ঘটনা, ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর থেকে বাসে উঠলাম, যাবো কলেজ গেট। একজন যাত্রী জানালা দিয়ে মাথা বের করে দিয়ে বাসের হেল্পারকে ইচ্ছে মত গালি দিচ্ছে। এদিকে বাসের গতি ৪৫ থেকে ৫০ কি.মি.। বাস ওভারটেক করবে সামনের একটি গাড়িকে। আর এই যাত্রী হেল্পারকে গালি দিয়েই যাচ্ছে। কারণ সিটিং গাড়িতে হেল্পার লোক তুলেছে। এদিকে তার মাথায় নাই যে সে জানালা দিয়ে মাথা বের করে গালি দিচ্ছে। একটু কম বেশি হলেই ওই যাত্রীর মাথা দ্বিখণ্ডিত হয়ে যেত।

২১ এপ্রিল শুক্রবার রাত আটটার দিকে বনানীর সৈনিক ক্লাব থেকে মহাখালীর মাঝামাঝি স্থানে বিআরটিসির বাসের চাপায় ২২ বছরের রোজিনার ডান পা ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালের  জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে ভর্তি আছেন এখন রোজিনা।

নগরজুড়ে দিনে অনেক দুর্ঘটনাই ঘটে সড়ক, খবরে আসে বেশি হলে তিন থেকে চারটি। রাজধানীর বাইরে সড়কে চলছে প্রতিদিন মৃত্যুর মিছিল। সেই হিসেব কষলে দেখা যাবে দিনে সারাদেশে সড়কেই অর্ধশতাধিক মানুষ আহত বা নিহত হচ্ছেন।

আর এই আহত বা নিহতের বড় কারণ হচ্ছে পরিবহনের চালকের নিয়ম মেনে গাড়ি চালান না। নিয়ম মেনে যানবাহন চালাতেন তাহলে অনেকাংশে কমে আসত সড়ক দুর্ঘটনা।

‘নিরাপদ সড়ক চাই’ এর তথ্যমতে, ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৩৪৯টি। ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালের সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ১০৩৩টি বেশি।

বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে থেকে জানা যায় দেশে মোট নিবন্ধিত হালকা ও ভারি গাড়ির সংখ্যা ২৯ লাখ ২০ হাজার ৮৩৬ জন। এসব গাড়ির লাইসেন্সধারী ড্রাইভারের সংখ্যা ১৭ লাখ। অর্থাৎ ১২ লাখ চালকই লাইসেন্সবিহীন।

যেখানে ১২ লাখ চালকের গাড়ি চালানোর কোন অনুমতি নেই। তবুও প্রতিদিন তারা চালিয়ে যাচ্ছেন যানবাহন। অথচ এই অপেশাদার চালকের কারণেই দেশে হাজার হাজার দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রতি বছর মারা যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। আর লাইসেন্স না থাকায় এই চালকদের কোন ভাবেই আইনের আওতায় আনতে পারেন প্রশাসন।

মালিক-শ্রমিক যৌথ সভায় রাজধানীর বেশিরভাগ ড্রাইভার নেশা করেন উল্লেখ করে গাড়ির মালিকদের সড়ক পরিবহন নেতা বলেন, নেশাখোর চালক ও হেলপারদের হাতে কেউ গাড়ির চাবি তুলে দেবেন না। তারা নেশা করে ছোট রাস্তাকে বড় করে দেখে। তাই দুর্ঘটনা ঘটে। যাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নাই তাদেরকেও গাড়ি দেবেন না।

তবেই তিনি ড্রাইভিং লাইসেন্স করে আনবেন। আর লাইসেন্স করতে গিয়ে কোন সমস্যায় পড়লে সেটা নেতারা দেখবেন। গাড়ির চাবি দেওয়ার আগে সে কোথায় থাকে, তার বাড়ি কোথায় ও লাইসেন্স সঠিক কিনা তা যাচাই করার কথাও এই সভায় বলেন নেতারা।

এই সভার কতটুকু মানছেন বাসের মালিকেরা সেটার জনার বিষয়। আর এই সিদ্ধান্ত গুলো বাস্তবায়ন হলে কমে আসবে সড়কে মৃত্যুর মিছিল। 

দেশের প্রতিটি মানুষ চায় চলাচলের নিরাপত্তা। আর এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। সেই সাথে রাষ্ট্রের প্রতিটি মানুষকে তার দায়িত্বটুকু পালন করতে হবে। আর মেনে চলতে হবে সড়ক আইন। আর হতে হবে সতর্ক।

আল্লামা ইকবাল অনিক

বার্তাকক্ষ সম্পাদক, মাছরাঙা টেলিভিশন

মেইল: anik24news@gmail.com

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: Banglanewspaper রাজধানী