banglanewspaper

নুরকাদের সরকার ইমরান, নীলফামারী: নীলফামারীর ডোমারে আইনি জটিলতায় প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে হিমঘড়ে থাকা ধর্মান্তরিত হোসনে আরা লাইজুর (লিপা রানী) মরদেহ ইসলামী ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের এই নির্দেশের দ্রত বাস্তবায়ন চায় লাইজুর শশুর জহুরুল ইসলাম। শনিবার ডোমার রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে লাইজুর শশুর জহুরুল ইসলাম জানান, আমার ছেলে হুমায়ুন কবির লাজুর সাথে পার্শবর্তী বামুনিয়া ইউনিয়নের অক্ষয় কুমার রায়ের মেয়ে লিপা রানী রায়ের ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে উঠে।

তারা ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ধর্মান্তরিত হবার পর লিপার নতুন নাম হয় হোসনে আরা লাইজু। সুখেই কাটছিল তাদের দিন। কিন্তু বাধঁসাধে লিপার পরিবার। বিয়ের পর মেয়ের বাবা ডোমার থানায় একটি অপহরন মামলা দায়ের করেন।

মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ ছেলের বাড়ি থেকে মেয়েকে উদ্ধার করে আদালতে প্রেরণ করে। লিপাকে তার বাবা নাবালিকা দাবী করায় আদালত তাকে রাজশাহীস্থ সেভ কাষ্টরিতে রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। পরবতীর্তে মামলার ধার্য তারিখে মেয়েটিকে নিয়ে রাজশাহী থেকে ফেরার পথে দিনাজপুর জেলার বিরামপুর স্টেশনে হুমায়ুন কবির লাজু হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে বিরামপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রের্ফাট করেন। হাসপাতালে নেয়ার পথেই লাজু মারা যায়।

পরবর্তীতে হোসনে আরা লাইজুর (লিপা রানী) বাবা অক্ষয় কুমার রায় তার অন্যত্র বিয়ে দেয়ার প্রস্ততি নিলে স্বামীর মৃত্যুর ৫৪ দিন পর লাইজু আত্মহত্যা করে। আত্মহত্যার আগে লাইজু অনেককে বলে যায় তার স্বামীর কবরের পাশে যেন তাকে কবর দেয়া হয়। লাইজুর মরদেহ নিয়ে আইনি লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন ছেলে ও মেয়ের পরিবার।

মেয়ের বাবা অক্ষয় কুমার রায় নীলফামারী আদালতে মেয়ের মরদেহ চেয়ে মামলা করেন। কিন্তু মামলার রায়ে অক্ষয় কুমার হেরে যান। পরে তিনি সাব জজ আদালতে আপিল করেন। সেখানে ছেলের বাবা জহুরুল ইসলাম হেরে যান। এর পর ছেলের বাবা হাইকোর্টে আপিল করেন। মরদেহের দু’জন দাবিদার হওয়ায় সেখানেও সৃষ্টি হয় আইনি জটিলতা।

মামলাটি বিচারিক আদালত ঘুরে হাইকোর্টে যায়। রংপুর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে মরদেহ হস্তান্তর করতে পারেনি। সেখানে ময়না তদন্তের পর ২০১৪ সালের ১০ মার্চ থেকে মরদেহটি হিমঘরে পড়ে আছে।

মরদেহটি নিজের মেয়ের বলে দাবি করে সনাতন ধর্মমতে সৎকার করার আবেদন করেন হিন্দু বাবা অক্ষয় কমার রায়, আর পুত্রবধূ হিসেবে দাবি করে তাকে মুসলমান রীতিতে দাফনের আবেদন জানান মুসলমান শ্বশুর জহুরুল ইসলাম।

দীর্ঘ সাড়ে চার বছর পর হোসনে আরার লাইজু (লিপা রানী) মরদেহ ইসলামি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন করার নির্দেশনা দেয় হাইকোর্ট। রায়ের কপি পাওয়ার পর দ্ইু দিনের মধ্যে মরদেহ দাফন করতে হবে।

নীলফামারীর জেলা প্রশাসককে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে দাফন কাজ সম্পন্ন করতে হবে। দাফনের আগে হোসনে আরা লাইজু (লিপা রানীর) মরদেহ তার বাবার পরিবারকে দেখার সুযোগ দিতে বলা হয়েছে।

গত ১২ এপ্রিল বিচারপতি মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে মেয়ের বাবার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সমীর মজুমদার। ছেলের বাবার পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এ কে এম বদরুদ্দোজা।

লাইজুর শশুর জহুরুল ইসলাম রায়ের দ্রত বাস্তবায়ন চেয়ে লাশ দাফনের অনুমতি চেয়ে জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে রায়ের নকলের কপি সরবরাহ করেন। হাইকোর্টের রায়ের ১০দিন পেরিয়ে গেলেও হাইকোর্ট থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে কোন নথি না আসায় দাফন কার্যক্রম সম্ভব হচ্ছে না।

ট্যাগ: Banglanewspaper হাইকোর্ট