banglanewspaper

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামে বিয়ের দাবীতে প্রেমিকের বাড়িতে ৩ দিনের অনশন বিফলে গেল প্রেমিকা নমীতা রানীর। প্রেমিকের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে প্রেমিকাকে জোড় করে থানায় নিয়ে আসে সদর থানা পুলিশ।

প্রেমিকাকে বাড়ি থেকে বের করে আনার সময় এলাকাবাসী বাঁধা দিলে তাদেরকে লাঠিপেটা করে পুলিশ। এসময় এক সাংবাদিককে রাইফেলের বাট দিয়ে আঘাত করা হয়।

এর আগে প্রেমিকের বাড়িতে সাংবাদিকদের প্রেমিকার ছবি তোলা দেখে ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে ছবি ডিলিট করে দেন সদর থানার এসআই শরীফ। ছবি তোলার অপরাধে এসময় সাংবাদিকদের থানায় তুলে আনার হুমকিও দেন তিনি।

এলাকাবাসী জানায়, গত শনিবার কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের ধনঞ্জয় গ্রামের প্রেমিক মোহন চন্দ্রের বাড়িতে বিয়ের দাবীতে অনশন শুরু করে রাজারহাট উপজেলার আমতলী গ্রামের সঞ্জিতের গণিতে মাস্টার্স পাশ মেয়ে নমীতা রানী। ঐ দিন প্রেমিকার উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে বাড়ি থেকে পল্লী বিদ্যুতের কর্মস্থল ঝিনাইদহে যায় প্রেমিক মোহন চন্দ্র।

এরপর থেকে বেলগাছা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ প্রেমিক পক্ষের লোকজন প্রেমিকাকে বিভিন্ন ভাবে বুঝিয়েও বাড়ি থেকে বের করে দিতে ব্যার্থ হয়। পরে বেলগাছা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাহবুবার রহমানের পরামর্শে প্রেমিকের বাবা মুক্তিযোদ্ধা অমল চন্দ্র সদর থানায় অভিযোগ করে।

এর প্রেক্ষিতে সদর থানা পুলিশ সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রেমিকের বাড়ি উপস্থিত হয়ে দীর্ঘ সময় প্রেমিকাকে নানা ভাবে বুঝিয়ে বাড়ি থেকে বের করতে না পেরে এক পর্যায়ে মহিলা পুলিশ দিয়ে জোড় করে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে আসে। এসময় গ্রামবাসী বাঁধা দিলে তাদেরকে লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে প্রেমিকাকে পুলিশ ভ্যানে তুলে থানায় নিয়ে আসা হয়।

এ ব্যাপারে অনশন থেকে জোড় করে সদর থানায় নিয়ে আসার আগে প্রেমিকা নমীতা রানী জানান, ২০১১ সাল থেকে মোহনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক তার। এতোদিনে মোহনের সাথে স্বামী-স্ত্রীর মতো সবকিছুই হয়েছে তাদের। এর আগে একবার মোহনের বাড়িতে এসে বিয়ের দাবী করলে তার মাস্টার্স পাশের পর এবং মোহনের যেকোন একটা চাকুরী হলেই বিয়ে দেয়ার কথা বলে তাকে ফিরিয়ে দেয়। এরপর সে কুড়িগ্রাম সরকারী কলেজ থেকে গণিতে মাস্টার্স পাশ করে। আর মোহনেরও পল্লী বিদ্যুতে চাকুরী হয়। কিন্তু হঠাৎ করেই নমীতা রানীর বাড়ির পাশেই মোহনের বিয়ে ঠিক করে বাবা অমল চন্দ্র। বিষয়টি জানতে পেরে প্রেমিকের বাড়িতে এসে অনশনে বসে সে।

প্রেমিকের বাবা মুক্তিযোদ্ধা মোহন চন্দ্র জানান, আমার ছেলের অন্যত্র বিয়ে হয়ে গেছে। তারপরও মেয়েটি এসে বাড়িতে বসে আছে। বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানানোর পর চেয়ারম্যান নিজেই এসে মেয়েটিকে বাড়ি থেকে বের করতে না পেরে আমাকে থানায় পাঠিয়ে দেয়। 

এব্যাপারে বেলগাছা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাহবুবার রহমান জানান, মেয়েটি যে বিয়ের দাবীতে অনশন করছে তার কোন বৈধ্যতা নেই। ছেলে বলেছে মেয়েটি তার তাওয়াতো বোন হয়। কিন্তু তার সাথে কোন রকমের সম্পর্ক নেই। এজন্যই মেয়েটিকে বোঝাতে ব্যার্থ হয়ে ছেলের বাবাকে আইনের আশ্রয় নেয়ার জন্য থানায় পাঠিয়েছি।

কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস সোবহান জানান, ছেলের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে মেয়েটিকে থানায় আনা হয়েছিল এবং তার কোন অভিযোগ না থাকায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। 

৩ দিনের অনশনসহ এতো সব ঘটনার পর প্রেমিকা নমীতা রানী থানায় অবস্থানকালে সাংবাদিকদের জানান, আমি কোন অভিযোগ করবো না। বাসায় চলে যাবো। ৩দিন প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি সেখানে আত্মীয় হিসেবে ছিলাম।

ট্যাগ: Banglanewspaper বিয়ের দাবী প্রেমিকার অনশন সাংবাদিক পেটালো পুলিশ