banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর): মায়ের বুকে শিশুর স্থান নেওয়ার পূর্বে নারী জাতির সবচেয়ে কঠিন মুহুর্তে যখন প্রসব বেদনায় মা ছটফট করে তখন কাউকে না বলার ভাষা যাকে বুঝতে হয় তিনি দায় বা দনি।

কষ্টকর সেই প্রসব বেদনায় মা যখন কাতর হয়ে যায় ঠিক তখনই সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখাতে দায়ের ভূমিকা অপরিহার্য। এমন প্রায় সাত হাজার মায়ের কঠিন মুহুর্তে যিনি কাছে ছিলেন তিনি গাজীপুর শ্রীপুরের লোহাগাছ গ্রামের রমিজা খাতুন।

যাকে অনেকেই “শিউলীর মা” বলে চিনে। রাত ১টা, ২টা, ৩টা যখনই ডাক পড়ে তখনই ছুটে যান ওই নি:স্বার্থ মহিলা। সবচেয়ে আকর্ষনীয় বিষয় হলো তার হাতে সন্তান জন্ম নেয়ার পর তিনি কোন পারিশ্রমিক না নিয়েই খুশি। তারপরও অনেকেই তাকে খুশি হয়ে পড়নের কাপড় কিংবা কোন সামগ্রী উপহার দেন। 

এলাকাবাসী জানান, তার শ্বাশুরী রহিমা খাতুনও দীর্ঘ ৪০ বছর বিনামূল্যে দায়ের কাজ করেছিল। আর তখন শ্বাশুরী মায়ের সাথে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে দায়ের অভিজ্ঞতা লাভ করেন রহিমা খাতুন। পরবর্তীতে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনার আওতায় স্বল্পকালীন প্রশিক্ষণ নিয়ে হয়ে উঠেন দক্ষ দায়। ১৯৯০ সনে রহিমা খাতুন মারা গেলে দীর্ঘ ২৮ বছর যাবত স্বেচ্ছায় এ কাজ করে আসছেন রমিজা খাতুন।

বিন্দুবাড়ী গ্রামের আমেনা খাতুন জানান, আমার চার সন্তান জন্ম নেয়ার সময় শিউলীর মা দায়ের কাজ করেন। আমি তাকে টাকা দিতে চাইলেও তিনি তা নেননি। আমার মত দরিদ্র মায়েরা ত্রিশ হাজার টাকা দিয়ে তো আর সিজার করতে পারবে না। তাই শিউলীর মা’র তুলনা হয় না। 

লোহাগাছ গ্রামের মজিদা খাতুন জানান, শিউলীর মা এখন নারী জাতির আদর্শ। আমার অন্তিম মুহুর্তে তিনি পাশে থেকে শক্তি যোগিয়েছেন। মায়ের ভাষা শুধু তিনিই বুঝেন। তার তুলনা হয়না।

শ্রীপুর গ্রামের সাহারা বানু জানান, আমি মালা ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম। সিজারের জন্য ১৮ হাজার টাকা লাগবে। আমি গরিব মানুষ এত টাকা কোথায় পামু। স্বামী বললো আল্লাহ আল্লাহ কর। ঠিক কিছুদিন পরেই শিউলীর মাকে খবর দেই। পরবর্তীতে তার হাত ধরেই আমার সন্তান স্বাভাবিক প্রসব করে।ওনি মানুষনা ফেরেশতা। 

ভাংনাহাটি গ্রামের রাজিয়া সুলতানা জানান, সিজারে সন্তান নিলে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। এ পরামর্শটাই আমাকে দিয়েছিল শিউলীর মা। তাই আমার দুটো সন্তানই স্বাভাবিক ভাবে জন্ম নিয়েছে। তার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। 

এ ব্যাপারে শ্রীপুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল সাহিদ জানান, আমার ওয়ার্ডে শিউলীর মাকে চিনে না এমন কোন মহিলা নেই। সন্তান স্বাভাবিক জন্ম নেওয়া ও পরিবার পরিকল্পনার প্রত্যেক বিষয়ে তার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে থাকে সাধারন নারীরা। তাই সরকারি ভাবে যথাযথ প্রশিক্ষনের মাধ্যমে কোন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিলে সে উপকৃত হবে। পাশাপাশি গ্রামের মানুষও স্বাস্থ্যগত ভাবে সঠিক সেবা ও পরামর্শ পাবে। 

শ্রীপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মঈনুল হক জানান, স্বাভাবিক জন্ম নেয়া শিশুরা তুলনামুলক ভাবে স্বাস্থ্যসম্মত হয়। তবে এ বিষয়ে সঠিক প্রশিক্ষনের মাধ্যমে হওয়া উচিৎ। এছাড়াও পরিবার পরিকল্পনার সঠিক সেবা সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। তাহলেই ডিজিটাল বাংলাদেশের জনগনের মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ হবে।

ট্যাগ: Banglanewspaper শ্রীপুর