banglanewspaper

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আট দিনের বিদেশ সফর শেষে সোমবার (২৩ এপ্রিল) দেশে ফিরে আসেন।

এরপর তিনি গণভবনে গেলে দলীয় নেতারা ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদকে পরিচয় করিয়ে দেন।

এ সময় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের উদ্দেশে দলীয় সভাপতি বলেন, ‘তুমি! আর কেউ ছিল না?’ গণভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতে যাওয়া আওয়ামী লীগ নেতারা এই তথ্য জানান।

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, তিন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ সিনিয়র কয়েকজন সাংগঠনিক সম্পাদক দেশের বাইরে থাকায় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনকে দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী দলের ১৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি নিয়ে রবিবার ভারতের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগের আগে তাকে মৌখিকভাবে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাও দেশে ছিলেন না।

আট দিনের বিদেশ সফর শেষে তিনি সোমবার দেশে ফিরেছেন। দেশে ফেরার পর দলের অন্যান্য নেতার সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনও গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে যান।

আবু সাঈদ আল মাহমুদের উদ্দেশে দলীয় প্রধানের বিস্ময়সূচক প্রশ্নের জবাবে জবাবে নেতারা বলেন, ‘আপা, সবাই তো দেশের বাইরে।’ তখন শেখ হাসিনা জানতে চান, ‘একজন জয়েন্ট সেক্রেটারিও দেশে নাই?’ এ সময় নেতারা ‘না’ সূচক জবাব দিলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ও সেজন্যই তুমি!’

এদিকে, গণভবনে সাক্ষাৎকালে দলের নেতাদের কাছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন ও লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানকে দেশে ফেরত পাঠাতে যুক্তরাজ্য সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথা জানিয়েছেন সভাপতি শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ ব্যাপারে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। বিদেশে পলাতক তারেক রহমানকে দেশে আসতেই হবে।’

এর আগে যুক্তরাজ্য সফরকালে ১৭ এপ্রিলের অনুষ্ঠানে প্রশ্ন-উত্তর পর্বে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এ ব্যাপারে আমরা যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে কথা বলছি। অবশ্যই একদিন আমরা তাকে (তারেক রহমান) দেশে ফিরিয়ে আনবো। তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।’

এদিকে সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাহাবুদ্দিন ফরাজী বলেন, ‘বিএনপির একজন আইনজীবী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিএনপি ক্ষমতায় এলে জাতির পিতার নাম মুছে ফেলা হবে বলে জানিয়েছেন।’ জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘২১ বছর বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু পারেনি। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজাতে দেয়নি। আজকে এই ভাষণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে।’ দলের নেতাদের লেখালেখির মাধ্যমে অপপ্রচারের জবাব দিতে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফলে আজকে সবাই এক ধরনের সাংবাদিক বলেও তিনি এ সময় মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী সফরের বিভিন্ন বিষয়ে নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। সাক্ষাৎ করতে যাওয়া নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, কৃষি-বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাপা, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মারুফা আক্তার পপি ও ইকবাল হোসেন অপু প্রমুখ।

ট্যাগ: Banglanewspaper ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী প্রধানমন্ত্রী