banglanewspaper

এম মতিউর রহমান মামুনঃ নদী আছে বটে, তাতে আনা কড়ি জল নেই----/ গুটিকতক খোড়ো ঘড়, চালশূন্য মাটির দেয়াল---/ ভয়ানক রৌদ্র।--নাগর নদীর জল কমিয়ে কেবল শৈবাল দল/ পতিসরের নাগর নদী নিতান্তই গ্রাম্য-- তার এক তীরে দরিদ্র লোকালয়-- অন্য তীরে বিস্তীর্ণ শস্য খেত--/ ঐ- যে মস্ত পৃথিবীটা চুপ করে পড়ে রয়েছে ওটাকে এমন ভালোবাসি---/ ঐ মা জন্ম দিতে পারে কিন্তু সন্তানকে মত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে পারেনা---/ঐ আমার মা ঐ আমার ধাত্রী ----।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ কখনো নাগর নদীতে ভেসে ভেসে আবার কখনো নাগর পাড়ে হেঁটে আবার নাগর ঘাটে বসে পত্র সাহিত্য রচনা করেছেন। কাঁকে দলবেঁধে গ্রামের বধুর বাড়ি ফেরা, গ্রামের নব বধুর মন জয় করতে সেই গান' পাবনা থ্যাক্যা আইন্যা দিমু ট্যাহা দামের মটোরী' গরু- গাড়ী পার হওয়া, ঊলঙ্গ শিশুর সাঁতার কাটা, সারি-সারি ডিঙি নৌকা চলা বাঁক ফেরা এই নাগর নদী রবীন্দ্র সাহিত্যে স্থান করে নিয়েছে বিশাল অংশ জুড়েই।

১৮৯১ সালের ১৩ জানুয়রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই নাগর নদীতে ভেসেই প্রথম এসেছিলেন পতিসর। কবিগুরুর দীর্ঘ জীবনে পতিসর আসার একমাত্র পথ নাগরের জল। ১৯১৩ সালে নবেল প্রাপ্তির পর ১৯১৪ সালে নবেলের অর্থ এই নাগর নদী যোগে কবিগুরু পতিসর এনেছিলেন, নাগরের জল নাগর নদীর ঘাট সেই স্বাক্ষ্য বহন করে।

১৯৩৭ সলে ২৭ জানুয়ারী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পতিসর তথা পূর্ববঙ্গ থেকে শেষ বিদায় নিয়েছিলেন এই নাগর নদী ঘাটে থেকে। নাগরের দু'ধারে সেদিন হাজার হাজার মানুষ প্রিয় কবিকে শেষ বিদায় জানানোর জন্য দাঁড়িয়ে অশ্রুশিক্ত চোখে হাত নাড়িয়ে বিদায় জানালেন। 

কবি কাঁদলেন, হাজার হাজার হাজার প্রজা কাঁদলেন, নাগর বয়ে নিয়ে গেল অশ্রুসিক্ত তার প্রিয় যাত্রীকে। সেই অশ্রুধারা নাগর আজও বহন করছে। ৫০ দশকে ঘাটটির ধবংস হলেও দুঃখের বিষয় এতদিন তা নতুন করে করা হয়নি। তবে আনন্দের বিষয় এলাকার রবীন্দ্রনুরাগী সাংসদ জননেতা ইসরাফিল আলমের একান্ত ইচ্ছায় আত্রাইয়ের গুণী নির্বাহী কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান ও মনিয়ারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আল্লামা শের-ই বিল্পবের সহযোগিতায় নতুন করে ঘাট ঘাটটি নির্মান করা সম্ভব হলো।

নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আহসান হাবীব ঘাটটির উদ্বোধন করেছেন। রবীন্দ্রস্মৃতি উদ্ধার ও সংরক্ষণের অংশ হিসাবে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী ছিল 'নাগর ঘাট' নির্মানের।

এর আগে এই নির্বাহী কর্মকর্তা রবীন্দ্রনাথের শিশু সাহিত্য 'তালগাছ' কবিতার তালগাছ' যে স্থানে ছিল সেই স্থানেই নতুন করে তালগাছের চারা রোপন করেছেন। পতিসরের সার্বিক উন্নয়নে রবীন্দ্রনুরাগী সংসদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মে যাঁরা নিজকে নিয়োজিত রেখেছেন তাঁরা আজীবন সমাদৃত হবেন। 

লেখকঃ রবীন্দ্রস্মতি সংগ্রাহক ও গবেষক

ট্যাগ: Banglanewspaper রবীন্দ্রনাথের স্বপ্নের নাগর নদীর ঘাট উদ্বোধন