banglanewspaper

মো:মোজাম্মেল ভূইয়া, আখাউড়া (ব্রাক্ষণবাড়িয়া): আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম বেড়ে চলেছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের চেয়ে থাকছে তাদের দীর্ঘ লাইন। সকাল ৯টা থেকে দুপুর পযর্ন্ত প্রতিনিধির লোকজন সময় অসময় ডাক্তারদের চেম্বারে বসে থাকছেন। ফলে দুরদুরান্ত থেকে স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসা এলাকার লোকজন প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ৯টার সময় বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দীর্ঘ লাইন। সবাই বসে অপেক্ষা করছেন কখন ডাক্তার চেম্বারে আসবেন। অন্যদিকে রয়েছে রোগীরাও। কিন্তু তারা চেম্বারে ডুকার আগেই তারা প্রবেশ করছেন। যে সমস্ত রোগীরা চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে আসলে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা তাদের নিয়ে টানা টানি ও ছবি তোলা শুরু করেন। রোগী ও তাদের স্বজনদের অনুমতি ছাড়াই রোগীদের হাত থেকে ব্যবস্থাপত্র হাত থেকে নিয়ে নেয়। এতে রোগী ও তাদের সঙ্গে আসা স্বজনরা পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়। এ চিত্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রতিদিনের এমন অভিযোগ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলাসহ সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়ন, বিজয়নগর উপজেলার প্রায় আড়াই লাখ জনগোষ্ঠি এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন। প্রতিদিন প্রায় ৩শতাধিকের উপর রোগী এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন। রোগীরা অভিযোগ করেন রোগী দেখার সময় ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা চিকিৎসকের চেম্বারে বসে গল্প করে থাকেন। এসময় বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে আগত রোগীদের। গল্পের ফাঁক ফুকুরে যেসব রোগীরা ভিতরে গিয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন তারা চিকিৎসকের কক্ষ থেকে বের হতে না হতেই পড়তে হচ্ছে নানা বিড়ম্বনায়।

ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা তাদের কোন অনুমতি না নিয়েই চিকিৎসকের দেওয়া ব্যবস্থাপত্র নিয়ে তারা কাড়াকাড়ি শুরু করে। তারা পালাক্রমে তুলতে থাকেন ব্যবস্থাপত্রের ছবি। হাসপাতালে প্রবেশ করলেই যে কেউ মনে করবে এটা যেন বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরা জিম্মি হয়ে আছে।

একাধিক সূত্র জানায়, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দেখা করা জন্য প্রতিদিন নিদ্দিষ্ট একটি সময় নির্ধারন করা আছে। কিন্তু সে সেব নিয়ম যেন ব্যস্তে যেতে বসেছে। ঔষধ কোম্পানি প্রতিনিধিরা কোন নিয়ম মানছেনা বলে অভিযোগ করেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। প্রতিদিন অফসোনিন, একমি, রেনোভা, বায়োফারমা,স্কয়ার,

ইনসেপটা,এরিস্টোফারমা,হেলথ কেয়ার, বেক্সিমকোসহ অসংখ্য ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা সকাল থেকেই প্রতিটি বিভাগের চিকিৎসকের কক্ষে গিয়ে ভিড় করে। এমন কি রোগীদের বসার জন্য নির্ধারিত আসনগুলো দখল করে তারা ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকেন। পদোন্নতি ও চাকুরি বাচানোর জন্য দিনের পর দিন তারা এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তারা কোন নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে বসে থাকেন।

সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের বরিশল গ্রামের গৃহিনি খোদেজা বেগম বলেন, অসুস্থ শিশু ছেলেকে নিয়ে অনেক্ষন দাড়িয়ে চিকিৎসকে দেখিয়েছি। কক্ষ থেকে বের হতে না হতেই একজন কোন কিছু না বলে আমার হাতে থাকা ব্যবস্থাপত্র নিয়ে যায়। কেউ কেউ তুলছেন ছবি। আমাকে না বলেন এটা নিলেন কেন তারা উত্তরে বলে কোন অসুবিধে নেই আমরা ঔষধ দেখছি। পৌর শহরের দেবগ্রামের ব্যবসায়ী মো. আলী আজগর বলেন, স্ত্রীকে নিয়ে অনেক কষ্টে চিকিৎসকের কক্ষে যায়। সেখানে দুজন ঔষধ কোম্পানির লোক বসা। দাঁড়িয়ে থেকে চিকিৎসা নেওয়া হয়। কিন্ত কক্ষ থেকে বের হলে কয়েকজন এসে হঠাৎ ব্যবস্থাপত্র না বলে নিয়ে যার যার মতো ছবি তুলতে থাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধি বলেন, পদোন্নতি এবং ঔষধ কোম্পানির টার্গেট পূরণ করতেই তারা রোগীদের কাছ থেকে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে নিশ্চিত হতে চান চিকিৎসকরা কোন কোন কোম্পানির ঔষধ লিখেছেন। কারন কোম্পানির ওষধ লেখার জন্য চিকিৎসককে তো প্রতি মাসে উপঢোকন দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকগন তাদের কোম্পানির ঔষধ লিখছে কি না মূলত জানতে ব্যবস্থাপত্র দেখা হয়।

ট্যাগ: Banglanewspaper আখাউড়া ঔষধ কোম্পানি প্রতিনিধি