banglanewspaper

স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ আজ উন্নয়নগামীতা থেকে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পাওয়ার আশ্বাস বর্তমান ধারাবাহিকতারই প্রমাণ। সরকার/সরকার প্রধান সংবর্ধিত হচ্ছেন, প্রশংসিত হচ্ছেন। আমরা মাসিক ও আজীবন পেনশনভোগী এসব কর্মচারী ও কর্মকর্তা (মোদের বয়স ৬৫ বছরের উর্ধ্বে) নীট পেনশন পরিমাণ ৫০% এবং অন্যান্যদের নীট পেনশনের ৪০% বৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি বিমাতাসূলভ সিদ্ধান্ত বলে মনে করা যায়। অর্থ্যাৎ চাকুরীরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বেতনবৃদ্ধির পরিমান শতকরা একশতভাগ করা হয়েছে। অথচ অবসরভোগী এসব কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণই আজকের বাংলাদেশ বিনির্মাণের ভিত্তিভূমী তৈরী করে দিয়ে এসেছি। যার ওপর উন্নয়নশীল বাংলাদেশ ‘উন্নত’ বাংলাদেশের দিকে ধাবমান। এই প্রেক্ষাপটে আমরা পেনশনভোগীরা নিম্নলেখ বিষয়গুলোর প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে সংবর্ধিত করছি এবং তার সুযোগ্য অর্থমন্ত্রী মহোদয়ের শুভদৃষ্টি আকর্ষণ করছিঃ

১. আমরা যারা ২০০৮ সালের আগে (ডিসেম্বর ২০০৭) অবসরপ্রাপ্ত হয়ে চলে এসেছি, বর্তমান ঊর্ধ্বমূখী বাজারে সম্মানজনক অবস্থানে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অতএব ২০০৯ সালের এবং ২০১৫ সালের বেতন স্কেলের পূর্বেকার অর্থাৎ ২০০৫ সালের বেতন কাঠামোয় অবসরে আসা কর্মকর্তা কর্মচারীদের পেনশন ও ভাতা বৃদ্ধি করার কথা চিন্তা করার বিণীত অনুরোধ করি।

২. চিকিৎসা ভাতা ৬৫ বছর পূর্ণ হলে ১,৫০০/- (পনেরশত) টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২,৫০০/- (দুই হাজার পাঁচশত) টাকা প্রাপ্তির বিধান রাখা হয়েছে। বয়স বাড়তে থাকার সাথে সাথে শারীরিক যোগ্যতা যেমন কমতে থাকে তেমনি রোগশোকের আক্রমণও বৃদ্ধি পায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকার কারণে। সুতরাং মাসে ২৫,০০/- টাকা চিকিৎসা ভাতা যথেষ্ঠ নয়। এ ছাড়া চিকিৎসামূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি ঔষধাদির মূল্য যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে ২,৫০০/- টাকার চিকিৎসা ভাতা কমপক্ষে ৫,০০০/- টাকা বৃদ্ধি করা অযৌক্তিক বিধিত হবে মনে হয়না।

৩. বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। নদী-ভাঙ্গনসহ উপকূলীয় দুর্যোগে বহু লোক ভিটে-মাটি ঘরবাড়ী হারা। চাকুরীজীবীদের মধ্যে এরূপ দুর্যোগ-দূর্ঘটনা কবলিত বহূ কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন - যারা ভাড়া বাড়ীতে থাকতে থাকতেই পেনশনপ্রাপ্ত হয়ে চলে এসেছেন। ঋণগ্রস্ততা, পরিবার প্রতিপালন, রোগব্যাধির মোকাবেলা করতে গিয়ে অবসর পরবর্তী জীবনও ভাড়া বাড়ীতে কাটাতে হয় অতি কষ্টে। এ ক্ষেত্রে বাজেটে অবসরভোগী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য বাড়ীভাড়া ভাতা প্রদান করার একটি বিধান রাখা হলে এ সমস্ত লোক যারপরনাই উপকৃত হবে।

৪. যাঁরা বা যে সমস্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারী ২০০৫ সালের পে-স্কেলের অন্তর্ভূক্ত এবং ২০০৯ সালের পে-স্কেলের পূর্বেই অবসরপ্রাপ্ত হয়ে চলে এসেছেন, তাাঁরা বর্তমানে নিধারুন বৈষম্যের শিকারে পরিণত। ২০০৫ সালের যেকোনোও স্কেলের কর্মচারী-কর্মকর্তা বর্তমানে যে পেনশন পান সেই একই মানের স্কেলের কর্মচারী/কর্মকর্তা (২০০৯ এবং ২০১৫-এর পে-স্কেলের অন্তর্ভুক্ত) বর্তমানে অবসর প্রাপ্ত হয়ে এলে পেনশন পান তার প্রায় তিনগুণ। ফলে সমমানের পদবী সম্পন্ন কর্মচারী-কর্মকর্তার মধ্যে যে পেনশন বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে তা চোখে পড়ার মতো। প্রবীণদের জন্য যা খুবই মর্মপীড়াদায়ক। সুতরাং একই বাজারে টিকে থাকার জন্যে পেনশনী কর্মচারী-কর্মকর্তাদের পেনশন বৈষম্য কমিয়ে আনার একটি যৌক্তিক চিন্তা সংযোজিত হওয়া বঞ্ছনীয়।

উপর্যুক্ত বিষয়গুলো ২০১৮-২০১৯ এর বাজেট ভাবনায় বিবেচিত হলে বর্তমান সরকার তথা আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতার ক্ষেত্র যেমন প্রসারিত হবে ২০২৪-এর উন্নয়নশীল বাংলাদেশের স্বীকৃতির পক্ষেও দৃঢ়তর যুক্তি সৃষ্টি হবে সন্দেহ নেই।

ট্যাগ: banglanewspaper বাজেট