banglanewspaper

ঢাকা শহরের প্রায় সব এলাকাতেই শব্দ গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ বেশি। শব্দ দূষণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা উল্লেখ করে শিশুদের সঠিক বিকাশে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন।

বুধবার ধানমন্ডি আবাহনী মাঠের সামনে আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়। জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং প্রকৃতির কল্যাণে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা সৃষ্টিতে ১৯৯৬ সাল থেকে ২৫ এপ্রিল বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস পালন করা হয়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, গ্রীন ভয়েস, মাস্তুল ফাউন্ডেশন, নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম, বিসিএইচআরডি, সিএসডাব্লিউপিডি, রায়েরবাজার উচ্চ বিদ্যালয়, ধানমন্ডি কচিকন্ঠ হাই স্কুল, ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুল এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটারবাংলাদেশ ট্রাস্ট সম্মিলিত উদ্যোগে উক্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর মারুফ হোসেন বলেন, শহরের প্রায় সব এলাকাতেই শব্দ গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ বেশি। শব্দ দূষণে হচ্ছে শিশুরা বেশী ভ’ক্তভোগী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা মতে দেশের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশের শ্রবণ শ্রবণ শক্তি লোপ পেয়েছে, যার মধ্যে ২৬ শতাংশই হচ্ছে শিশু। এলাকাভিত্তিক কমিটি করে শব্দ দূষণ রোধে পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশ ঘুড়ি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মৃধা বেণু বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে গাড়িতে হর্ণ থাকলেও তা বাজানোকে অভদ্রতা মনে করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে উল্টো। চালকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। শব্দ দূষণ বাচ্চাদের খিটখিটে মেজাজের জন্য দায়ী। ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনার ক্ষেত্রে মনোযোগের বিঘœ ঘটাচ্ছে।
 
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা এর যগ্ম সম্পাদক বিধান চন্দ্রপাল বলেন, অধিকাংশ শিল্প কারখানা বড় বড় প্রতিষ্ঠান ঢাকা কেন্দ্রিক। ফলে শব্দ দূষণ প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের বিকেন্দ্রীকরণের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। গ্রীণ ভয়েজ এর হুমায়ন কবীর বলেন, ঢাকা শহরের পাশাপাশি অন্যান্য শহর এমনকি গ্রাম পর্যায়ে শব্দ দূষণ ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনছে। সকলের সম্মিলিত এবং সমন্বিত উদ্যোগই এ সঙ্কট থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারে।

নাগরিক সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল হাবীব বলেন, যে কোন দূষণ রোধে অসংখ্য আইন রয়েছে। কিন্তু ব্যক্তি, প্রাতিষ্ঠানিক এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সেই বিষয়ে সচেষ্ট না হলে তা কোন কাজে আসে না। শব্দ দূষণ রোধে আমাদের সকলকে সচ্ষ্টে হতে হবে। জনআন্দোলন গড়ে তুলে শব্দ দূষণ প্রতিরোধ করতে হবে। তিনি শব্দ দূষণ প্রতিরোধে শিশু সমাবেশের আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে সুপারিশ তুলে ধরেন।  

সমাবেশে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদার প্রতিষ্ঠানসমূহের সমন্বয়ে যথাযথভাবে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ বাস্তবায়ন করা; বিধিমালা’র সংজ্ঞানুযায়ী চিহ্নিত জোনসমূহে (নীরব, আবাসিক, বানিজ্যিক, শিল্প ও মিশ্র)  সাইনপোস্ট স্থাপন করা; শব্দের মানমাত্রানুযায়ী যানবাহনের ছাড়পত্র দেওয়া; হাইড্রোলিক হর্ণ আমদানীবন্ধ, হর্ণ বাজানোর শাস্তি বৃদ্ধি ও চালকদের শব্দ সচেতনতার স্তর যাচাই করে লাইসেন্স প্রদান করা; গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করার মাধ্যমে ব্যক্তিগত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা; সড়কের পাশে গাছ লাগিয়ে সবুজ বেষ্টনী তৈরি করা; জেনারেটর এবং সকল প্রকার যন্ত্রাপাতি ও মেশিনের মানমাত্রা নির্ধারণ করা; শব্দের মানমাত্রা হ্রাসে পদক্ষেপ গ্রহণ ব্যতীত শিল্প-কারখানা স্থাপনে ছাড়পত্র প্রদান না করা; অনুমতি ব্যতীত সভা-সমিতি ও সামাজিক ও যে কোন অনুষ্ঠানে মাইক বাজানো নিষিদ্ধ করা; কমিউনিটি ভিত্তিক কমিটি করে শব্দদূষণ সংক্রান্ত আইন ভঙ্গের বিষয়ে তদারকির দায়িত্ব প্রদান করা; এবং সর্বসাধারণের মাঝে শব্দ দূষণের ক্ষতি, প্রতিকার এবং বিদ্যমান আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়।

সমাবেশে ওয়ার্ক ফর এ বেটারবাংলাদেশ ট্রাস্ট এর সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান এর সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান, ড. আহমেদ কামরুজ্জামান, ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুলের  প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এম এ মান্নান মনির, রায়ের বাজার হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষক তাহাজ্জদ হোসেন এবং দশম শ্রেণীর ছাত্র মোরশেদুল ইসলাম সাকিব, ধানমন্ডি কচিকন্ঠ স্কুলের শিক্ষিকা মাধবী দেবনাথ এবং দশম শ্রেণীর ছাত্র মোরশেদুল ইসলাম সাকিব, মাস্তুল ফাউন্ডেশনের মনির হোসেন নিশাত, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ওয়াচ এর ম্যানেজিং পার্টনার মো: বায়েজিদ হাসান প্রমুখ।

ট্যাগ: banglanewspaper দূষণ