banglanewspaper

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজধানীতে আবার বাসে এক চাকরিজীবী নারীর যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি লালবাগ থানায় বিচার চাইতে গেলে সেখানে গিয়েও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে দুর্ব্যবহারের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন। এমনকি তাকে থানা থেকে বের করে দেয়া হয়।

ভুক্তভোগী অভিযোগ, যে যুবক তাকে লাঞ্ছিত করেছেন, পুলিশ তাকে বাঁচাতে মরিয়া ছিল। এর কোনো কারণ তিনি বুঝতে পারছেন না। এমনকি একজন পুলিশ সদস্য তাকে এমনও বলেন যে, নারীদেরকে এগুলো মেনে নিতেই হবে।

ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মুষলধারে বৃষ্টি ও ঝড়ের মধ্যে তিনি ও তার এক নারী সহকর্মী মোহাম্মদপুরের আসাদ গেট থেকে ঠিকানা পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। সামনের দিকে আসন ফাঁকা না থাকায় তারা দুই পেছনের আসনে বসেছিলেন।

হঠাৎ পেছনে থেকে কয়েকজন যুবক তাদেরকে উদ্দেশ্যে করে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ছুড়ে দেন। এ সময় প্রতিবাদ জানান দুই নারী। তখন বাসের পুরুষ যাত্রীরাও ওই যুবকদের পক্ষ নেয়। এমনকি বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন।

আজিমপুর পৌঁছলে বাস থেকে নেমে পুলিশকে অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী এক নারী। আর এরপর লালবাগ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল মাজিদ বাস থেকে অভিযুক্ত যুবককে আটক করে আজিমপুরের একটি দোকানের সামনে নিয়ে যান।

ওই নারী বলেন, ‘আমি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাইলে পুলিশের কনস্টেবল বিশ্বনাথ বলেন, ‘নারীরা তো ইভটিজিংয়ের শিকার হবেই।’ এ সময় অভিযুক্ত ওই যুবক এএসআই মাজিদের সঙ্গে পাশে গিয়ে একান্তে কথা বলেন।

পরে এই পুলিশ কর্মকর্তা ওই নারীকে বলেন, ‘আপা এটা নিয়ে আর বেশি দূর না যাওয়াই ভালো। আপনি মহিলা মানুষ, মামলা হলে সেটা নিয়ে দৌড়াদৌড়ি কষ্ট হবে।’

এরপর ওই যুবককে ‘সরি’ বলতে বলেন এএসআই মাজিদ। এরপর অভিযোগকারীর অনুমতি ছাড়াই তাকে ছেড়ে দেন তিনি।

‘এরপর আমি ও আমার মা লালবাগ থানার ওসির (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) রুমে গিয়ে বিষয়টি বললে তিনি এএসআই মাজিদকে ডেকে পাঠান। পরে আসছি বলে আর ওসির রুমে না আসলে আমরা ওসিকে বলি আপনি থানার বড় কর্মকর্তা। আমাদেরও অনেক আত্মীয় আছে পুলিশে’-বলেন ভুক্তভোগী নারী।

“এই কথা বলতেই ওসি আমাদের উপর ক্ষেপে গিয়ে বলেন, ‘আপনাদের বড় অফিসার আছে সেখানে যান, বলে তার রুম থেকে বের করে দেন’।”

কোন কর্তৃত্ববলে অভিযোগকারীর অনুমতি ছাড়া ‘হয়রানিতে’ জড়িত যুবককে ছেড়ে দিয়েছেন-জানতে চাইলে এসআই আব্দুল মাজিদ বলেন, ‘ঘটনার সময় বৃষ্টি হচ্ছিল। আমি ও আমার ফোর্স সেখানে গিয়ে অভিযুক্ত যুবককে আটক করি। পরে স্থানীয়রা ও বাসের অন্য ওই নারীকে বলল, এটা নিয়ে আর বেশি দূর না গিয়ে মাফ চাইতে। পরে ওই যুবক মাফ চাইলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

ওই নারী মামলা থানায় অভিযোগ দিতে চাইলেও কেন তা আমলে নেওয়া হলো না জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।

জানতে চাইলে ব্যাপারে লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুভাষ চন্দ্র পাল বলেন, ‘ঘটনার পর আমার অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে তারা থানায় এসেছিল। তবে তাদের ব্যবহার বা আচরণগত সমস্যা ছিল। স্থানীয় অনেকে বসেছিলেন, তাদের কাছেও শুনতে পারেন’- বলে নিজের ও এএসআই মাজিদের পক্ষে সাফাই করেন ওসি সুভাষ।

ট্যাগ: Banglanewspaper রাজধানী