banglanewspaper

এম.পলাশ শরীফ, বাগেরহাট: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে একটি পুলের অভাবে শিক্ষার্থীসহ ৯ গ্রামের মানুষের চরম দুর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে। 
 
প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া পারাপারের মাধ্যমে দু’ পাড়ের বাসিন্দাদের পারাপার হতে হচ্ছে। জনদুর্ভোগ এখন চরমে। এলাকাবাসির দাবী অনতিবিলম্বে সরকারি অর্থায়নে একটি পুল নির্মাণ করার।  
       
বৃহস্পতিবার সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, উত্তর খাউলিয়া গ্রামের বাসিন্দা নিলকান্ত বেপারী, ডাক্তার রতন কুমার হালদার, অরুণ কুমার সিকদার, বাদুরতলা গ্রামের হাসান চৌধুরী, খালেক ফরাজীসহ একাধিক ব্যাক্তি জানান, খাউলিয়া ও মোরেলগঞ্জ সদর ২টি ইউনিয়নের সংযোগ খাউলিয়া খালের ওপর দীর্ঘদিন ধরে পোল না থাকায় চালিতাবুনিয়া, পশ্চিম খাউলিয়া, উত্তর খাউলিয়া, পূর্ব খাউলিয়া, খাউলিয়া, চিপা বারইখালী, বিশারীঘাটা, বাদুরতলা ও ভাইজোড়া গ্রামের ২/৩ হাজার মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে খেয়া পারাপার হতে হচ্ছে। ১৯৯০ সালের সরকারি অর্থায়নে খাউলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে একটি পোল নির্মাণ করা হয়।  দুটি ইউনিয়নের সংযোগ খাউলিয়া খালের ওপরে। পরবর্তীতে ৮/১০ বছর যেতে না যেতেই পুলটি ভেঙ্গে যায়। 

নুতন করে হয়নি আর কোন পোল এমনকি সংস্কারও। স্থানীয় এলাকাবাসিদের উদ্যোগে ২শ’ ফুট লম্বা তৈরী করা হয় সুপারী গাছের সাঁকো। এভাবেই প্রতিবছর গ্রাম থেকে টাকা উত্তোলন করে নির্মাণ করতে হয় সাঁকো। 

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, এপারে উত্তর খাউলিয়ায় রয়েছে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪টি হাট-বাজার, দুটি মসজিদ, ৫/৬ কিঃমিঃ দুরার্ত্বে রয়েছে সন্ন্যাসী এসপি রাশিদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সন্ন্যাসী-বাজার, এ আর খান কলেজ। ওপারে মোরেলগঞ্জ সদর ইউনিয়নে বিশারীঘাটা বাজার, বিবি আফসারিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি মসজিদ ও মাদ্রসা। 
  
সম্প্রতি সময়ে নির্মিত সাকোটি ভেঙ্গে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রামবাসির। প্রতিনিয়ত এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে খেয়া পারাপারের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। স্থানীয়দের উদ্যোগে সাঁকোটি নির্মাণ করতে ব্যায় হবে ৩১ হাজার ৭শ’ টাকা। ইতোমধ্যে ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্নের পথে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় ৯ হাজার টাকা উত্তোলন হলেও টাকার অভাবে কাজ বন্ধ রয়েছে। 

এ ব্যাপারে কথা হয় তরুণ উদ্যোগী সমাজ সেবক মো. মনিরুজ্জামান মনির তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, এলাকার জনপ্রতিনিধি চেয়ারম্যান-মেম্বর থাকা সত্তেও কারও নজরে পড়েনী এ দুর্ভোগের বিষয়টি। 

এ সম্পর্কে খাউলিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাষ্টার আবুল খায়ের বলেন, ১৯৯৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্ধের মাধ্যমে ওই খালের ওপরে একটি পুল নির্মাণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে নুতান করে আর কোন বরাদ্ধ দেওয়া হয়নী। তবে হাট বাজার উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ওই এলাকায় একটি কারপেটির্ং রাস্তা ও ব্রীজ নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে আবেদন করা হয়েছে। 
 

ট্যাগ: Banglanewspaper মোরেলগঞ্জ দুর্ভোগ খেয়া পারাপার