banglanewspaper

ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুর শহরের দক্ষিণ ঝিলটুলি এলাকার একটি বাসা থেকে সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের এক শিক্ষিকা ও সোনালি ব্যাংক কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ। শিক্ষিকার লাশ রক্তাক্ত অবস্থায় এবং ব্যাংক কর্মকর্তার লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।

এদিকে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিক্ষিকার স্বামী মটর পার্টস ব্যবসায়ী শেখ শহিদুল ইসলামকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

এটি আত্মহত্যা, নাকি হত্যাকাণ্ড- এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে এরই মধ্যে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, তাদের মধ্যে পরকীয়া ছিল। ফলে বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে তদন্তে। সোমবার সকালে সাজিয়ার স্বামী শেখ শহিদুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ। তিনি ঢাকায় মোটর পার্টসের ব্যবসা করেন। মাঝে মধ্যে ফরিদপুরে আসতেন। দুই ছেলে নিয়ে ঝিলটুলীর নুরুল ইসলামের বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকতেন তার স্ত্রী সাজিয়া। তবে রোবরার ঘটনার সময় ফরিদপুরে ছিলেন শহিদুল।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এএফএম নাসিম জানান, শিক্ষিকার লাশ দরজার পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় এবং ব্যাংক কর্মকর্তার লাশ ফ্যানের হুকের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার বুকে ক্ষত রয়েছে। ফ্ল্যাটে রক্তমাখা ছুরি পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দু'জনের পারিবারিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তাদের মধ্যে পরকীয়া ছিল। প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম, শিক্ষিকাকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেছেন ফারুক। তবে বেশ কিছু আলামত থেকে এটিকে আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে না। তাদের হত্যা করা হয়েছে বলে মনে করছি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও অনুসন্ধান শেষে বিষয়টি পরিষ্কার  হওয়া যাবে।

ওসি নাসিম আরও জানান, ফারুক পরিচয় গোপন করে সাজিয়ার পাশের ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন। সোনালী ব্যাংক ফরিদপুর শহর শাখায় চাকরি করার তথ্য দিয়ে বাসা ভাড়া নিলেও তিনি মূলত ঢাকার মতিঝিল করপোরেট শাখার লিগ্যাল মেটারস বিভাগের প্রিন্সিপাল কর্মকর্তা ছিলেন। কয়েকদিন আগে তিনি এই বাসায় ওঠেন। নিয়মিত থাকতেন না। ফলে ফারুক-সাজিয়া পরকীয়ার কারণে অন্য কারও ক্রোধের বলি হয়েছেন কি-না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে, জিজ্ঞাসাবাদে শহিদুলের কাছ থেকে কিছু জানা গেছে কি-না জানতে চাইলে এ বিষয়ে এখনই কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান ওসি। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ওসি বলেন, সব বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত চলছে।

সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের শিক্ষিকার এমন নির্মম মৃত্যুতে শোক পালন করছেন কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক সুলতান মাহমুদ জানান, একাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার আজকের তারিখের সকল পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। মানুষের এমন মৃত্যু মেনে নেয়া যায় না। যে বা যারাই সাজিয়া হত্যার সাথে জড়িত থাকুক না কেন তাদের অতিসত্ত্বর আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই আমরা।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা বলেন, আমরা একাধিক সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আশা করি, খুব শিগগিরই সত্যটা জানাতে পারব।

ট্যাগ: banglanewspaper পরকীয়া