banglanewspaper

আজ ৮ মে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস। এ উপলক্ষে বিয়ের আগে রক্তপরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন।

এবারের বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবসের প্রতিপাদ্য—বিয়ের আগে পরীক্ষা করলে রক্ত, সন্তান থাকবে থ্যালাসেমিয়া মুক্ত।

বিয়ের আগে বর-কনের রক্ত পরীক্ষা করে নেওয়া হলে সন্তান থ্যালাসেমিয়া মুক্ত থাকবে। সারাবিশ্বে যেসব দেশে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ কর্মসূচি সফল হয়েছে, সেসব দেশে মূলত বিয়ের আগে ছেলে-মেয়েদের রক্ত পরীক্ষা বাধ্যতামূলক, এমন তথ্য জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন—গর্ভস্থ ভ্রুণ পরীক্ষা করে সন্তান গ্রহণ,নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করা হলেও থ্যালাসেমিয়া থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বাংলাদেশের সাত ভাগ মানুষ থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক। দেশে মোট এককোটি ১০ লাখ থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক রয়েছে। অর্থাৎ, প্রতি ১৪ জনে একজন থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক। প্রতিবছর সাত হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। থ্যালাসেমিয়া ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৬০ হাজার থ্যালাসেমিয়া রোগী রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে প্রকাশিত ২০০৯ সালের হেলথ বুলেটিনে দেখা গেছে, সরকারি হাসপাতালে ভর্তি বিভিন্ন রোগীদের মধ্যে থ্যালাসেমিয়ার অবস্থান দশম।

বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ডা. মো. আবদুর রহিম বলেন, কোনও পরিবারে স্বামী-স্ত্রী দু’জনই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হলে সন্তানের থ্যালাসেমিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে ২৫ ভাগ। বিয়ে বা সন্তান নেওয়ার আগে থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিং করে নিশ্চিত হতে হবে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনও একজন থ্যালাসেমিয়ার বাহক কিনা। বাহক হলে তাদের গর্ভস্থ ভ্রুণ পরীক্ষা করে সন্তান গ্রহণ করতে হবে। তাহলে এই রোগ নির্মূল সম্ভব। তবে রক্তের গ্রুপের সঙ্গে থ্যালাসেমিয়া রোগের কোনও সম্পর্ক নেই।

তিনি আরও বলেন, থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত মারাত্মক রক্তের রোগ। কোন ব্যক্তি থ্যালাসেমিয়ার বাহক কিনা ‘হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস’ নামে  রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে তা নির্ণয় করা যায়। থ্যালাসেমিয়ার গুরুতর রোগীরা প্রতি মাসে এক থেকে দুইব্যাগ রক্ত গ্রহণ করে বেঁচে থাকেন। আর যদি ঠিক সময়ে চিকিৎসা না হয়, আক্রান্ত রোগী রক্তশূন্যতায় মারা যেতে পারেন। কিন্তু নিয়মিত রক্ত গ্রহণের কারণে রোগীর শরীরে আয়রনের আধিক্য দেখা দেয়। ফলে রোগীদের নানা জটিলতা দেখা দেয় যেমন— হার্ট ফেইলিওর, ডায়াবেটিস, ডিলেইড পিউবার্টি ইত্যাদি। এগুলো প্রতিরোধে নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ করতে হয়, যা বেশ ব্যয়বহুল।

বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন জানান, এই রোগটি প্রতিরোধ করার জন্য প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতার। আমরা জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলেই বাংলাদেশ থেকে এই রোগটি পুরোপুরি নির্মূল করতে সক্ষম হবো।

ট্যাগ: banglanewspaper বিয়ে