banglanewspaper

আজ তার ড্রাইভারের অবসরে যাওয়ার দিন। সবকিছু ঠিকঠাক চলছে। এই ড্রাইভারের বদলি ড্রাইভারও প্রস্তুত। এসব নিয়ে একজন জেলা প্রশাসক পর্যায়ের কর্মকর্তার ভাবাভাবির কিছু থাকে না সাধারণত। তবে ভারতের কর্নাটকের কুরুর জেলার কালেক্টর টি. অন্বাঝগান অন্য ধাঁতের মানুষ।

ঘটনাটি ৩০ এপ্রিলের। কালেক্টর টি. অন্বাঝগানের গাড়ি চালকের অবসরে যাওয়ার দিন। সবকিছু ঠিকঠাক। প্রস্তুত বদলি ড্রাইভারও। কিন্তু যে ড্রাইভার দীর্ঘ ৩৫ তামিলনাড়ু সরকারের হয়ে কাজ করে গেছেন, কালেক্টরদের জন্য গাড়ির দরজা খুলে দাঁড়িয়ে থেকেছেন। বিদায় বেলায় তার জন্যই দরজা খুলে দিলেন কালেক্টর অন্বাঝগান। আর তৎক্ষণাতই এমন অনন্য মুহূর্তের ছবি তুলে নেন অনেকে।

এমনকি ওই চালক পরমাসিবাম ও তার স্ত্রীকে গাড়িতে চড়িয়ে তাদের বাসা পর্যন্ত গাড়ি চালিয়ে পৌঁছে দেন জেলা প্রশাসক অন্বাঝগান। রাস্তায় সেই দৃশ্য দেখে অনেকেই বিষম খাওয়ার যোগাড়। তবে নিখাঁদ পেশাদার ড্রাইভারের মতোই গাড়ি চালিয়ে তার ‘সেদিনকার বসকে’বাসায় পৌঁছে দেন অন্বাঝগান। অফিস থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরের পরমাসিবামের বাড়ি গান্ধিগ্রাম পর্যন্ত গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যান তিনি। পরে পরমাসিবামের পরিবারের সঙ্গে তার বাড়ি এক কাপ কফিও খান ওই কালেক্টর।

ঘটনা প্রসঙ্গে ভাগ্যবান ড্রাইভার পরামাসিবম বলেন, আমি পুরো হতভম্ব গিয়েছিলাম। কখনো ভাবিনি যে এমন ঘটনা আমার সঙ্গে ঘটবে। আমি আমার বসের কাছে কৃতজ্ঞ। গর্ববোধ করছি যে নিজের রাজ্যের কিছু সেবা করতে পেরেছি আমার কাজের মাধ্যমে।

ভারতীয় মিডিয়াগুলো জানায়, টি. অন্বাঝগান শুধু তার চালককে নিজে গাড়ি চালিয়ে বাড়ি-ই পৌঁছে দেননি, আগের দিন অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল অফিসে এক পার্টি দেন পরামাসিবমের বিদায় উপলক্ষ্যে। এ ঘটনায় প্রশংসায় ভাসছেন টি. অন্বাঝগান। তিনি মাত্রই গত মার্চে করুর জেলা কালেক্টরের দায়িত্ব নেন।

ড্রাইভারকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া প্রসঙ্গে বলেন, যদি একজন কালেক্টর দিনে ১৬ ঘণ্টা কাজ করে থাকে তবে তার ড্রাইভার কাজ করে ১৮ ঘণ্টা। তাকে সবসময় অ্যালার্ট থাকতে হয়- পথে আমাদের জীবন তার জিম্মায় থাকে।

সে তার বসের আগে কাজে আসে (তাকে অফিসে নিতে তার বাসায় আসে) এবং প্রায়ই দেরিতে নিজের ঘরে ফেরে। গত তেত্রিশ বছর আমাদের যে সেবা তিনি দিয়েছেন তার জন্য তাকে সম্মানিত করতে চাই। সারা জীবন তিনি আমাদের (কালেক্টর সাহেবদের) বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন। আজ আমাদের পর্ব এসেছে তাকে সম্মানের সঙ্গে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার।

পরামাসিবম ৩৩ বছর চাকরিশেষে গত ৩০ এপ্রিল অবসরে যান। দীর্ঘ চাকরি জীবনে তিনি ৮ জন কালেক্টরকে সেবা দিয়েছেন।

ট্যাগ: banglanewspaper গাড়ি