banglanewspaper

মনির হোসেন জীবন, নিজস্ব প্রতিনিধি : বাড়ইপাড়া-গোসাত্রা সড়ক। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক। সড়কটি দিয়ে প্রতিনিয়ত উপজেলার আটাবহ ইউনিয়নের অন্তত প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ চলাচল করে। এছাড়া চন্দ্রা-নবীনগর মহাসড়ক ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যানজট এড়াতে এ সড়কটি প্রায়ই বাইপাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 

অথচ দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ও সড়কে ড্রেনেজ এবং পানি চলাচলের সঠিক ব্যবস্থা না থাকার কারণে একটু বৃষ্টি হলেই সড়কে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতার। ফলে সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয় ছোট-বড় অসংখ্য খানা-খন্দের। আর এতে করে সড়কের এমন বেহাল দশায় চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসিসহ সড়কটি দিয়ে চলাচলরত পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ মানুষদের। দীর্ঘ সময় ধরে সড়কটি সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও বাধ্য হয়ে জীবিকার তাগিদে সাধারণ জনগণ এ সড়ক ব্যবহার করছে। এলাকাবাসির দাবি যত দ্রুত সম্ভব সড়কটি যাতে সংস্কার করা হয়।   

সরেজমিনে সড়কটি ঘুরে দেখা গেছে, চন্দ্রা-নবীনগর মহাসড়কের কালিয়াকৈর উপজেলার বাড়ইপাড়া থেকে উপজেলার গোসাত্রা পর্যন্ত সড়কটি উপজেলার আটাবহ ইউনিয়নের ( হিজলহাটি, পূর্ব বড়ইছুটি, পশ্চিম বড়ইছুটি, কাপাসিয়াচালা, খোলাপাড়া, কাঞ্চনপুর, জালশুকা, চেীধুরীটেক, গোসাত্রা, চান্দাবহ, পাকুল্লা, কামারিয়া, মাথালিয়া, মহরাবহ, বলিয়াদি, জাঙ্গালিয়াপাড়া) সহ ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রামের বাসিন্দারা ব্যবহার করে থাকে। 

সড়কটি উপজেলা সদর ও রাজধানী ঢাকা শহরের অন্যতম প্রবেশ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সড়কটির আশেপাশে রয়েছে বেশ কয়েকটি শিল্প-কারখানা। রয়েছে অসংখ্য স্কুল, মাদ্রাসা ও দোকানপাট। এছাড়া চন্দ্রা-নবীনগর ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হলে সড়কটি বাইপাস সড়ক হিসেবেই অনেকেই ব্যবহার করে থাকে। 

সড়কটি নিচু হওয়ায় এবং ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা না থাকার সড়কের বাড়ইপাড়া থেকে খোলাপাড়া পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য খানা খন্দের। আর গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি সড়কের বেশিরভাগ জায়গাতেই সৃষ্টি হয়ে জলাবদ্ধতার। সড়কের বাড়ইপাড়া (পলমল ও হেসং গেইট), কয়েল ফ্যাক্টরী, হিজলহাটি এলাকার (সালাম সাহেবের মাঠ এলাকা থেকে শুরু করে হিজলহাটি (ফার্ম বাজার) ও সাউদার্ন ফ্যাক্টরী এলাকা এবং রাঙ্গামাটি এলাকায় খানা-খন্দ ও জলাবদ্ধতার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এছাড়া সড়কের খোলাপাড়া, জালশুকা (প্রকাশ), জালশুকা বাজার, চেীধুরীটেক, গোসাত্রা হাইস্কুল মোড়ে রয়েছে ছোট-বড় খানা খন্দ। 

স্থানীয় তরুণ ব্যবসায়ী আমিনুর ইসলাম ‘বিডিনিউজ আওয়ার’কে বলেন, সড়কের নাজেহাল অবস্থার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে খুবই সমস্যা হচ্ছে। মালামাল আনা-নেয়ায় পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে আর্থিক-অনার্থিক দুই ভাবেই। তিনি সড়কটি দ্রুত সংস্কার করার দাবি জানান প্রশাসনের কাছে। 
সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন মালবাহী ট্রাক ও শিল্প-কারখানার ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে অনেক জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে ফলে যান চলাচলে অনেক বেগ পেতে হতে হচ্ছে। স্কুল, কলেজ, ও বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থী এবং সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিল্পকারখানার শ্রমিকসহ জনসাধারণের যাতায়াতে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়।

জালশুকা এলাকার বাসিন্দা আশিক মাহমুদ ‘বিডিনিউজ আওয়ার’কে বলেন, সড়কে খানা-খন্দের কারণে চরম ভোগান্তীতে রয়েছি। সঠিক সময়ে অফিসে পৌঁছানো যায় না। সময় নিয়ে বাসা থেকে বের হলেও সড়কের এমন অবস্থা থাকার কারণে মাঝে মাঝে সিএনজি, রিকশা আটকে যায়। এতে করে সময় ও আর্থিক উভয় ভাবেই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত। যত দ্রুত সম্ভব সড়কটি সংস্কার করে সাধারণ মানুষের দূর্ভোগ লাঘব করার জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি। 
সড়কের সাউদার্ণ এলাকার দোকানদার শাহিন আলম ‘বিডিনিউজ আওয়ার’কে বলেন, সড়কে খানা-খন্দ আর পানি জমে থাকায় সড়ক দিয়ে চলাচল করতে সমস্যা। এছাড়া দোকানের মালামাল আনা-নেয়াতেই অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। সড়কের এমন বেহাল দশার কারণে দোকানে ক্রেতা তেমন আসে না। ফলে ব্যবসায়ীক দিক থেকে আমরা ক্ষতির মুখে পড়ছি।

এ ছাড়া একটানা দুই-তিন ঘন্টা বৃষ্টি হলে সড়কের বেশিরভাগ এলাকায় পানিতে ডুবে যায়। এমনিতেই সড়কের বেহাল অবস্থা উপর আবার বৃষ্টিপাত। একটু বৃষ্টি হলে সড়কে সৃষ্টি হওয়া গর্তগুলো দেখা যায়না। ফলে অসতর্কতার কারণে ছোট যানবাহন যেমন, রিকশা ভ্যান, সিএনজিসহ নানা যানবাহন রাস্তায় আটকে যায়। যার কারণে বেঁধে যায় যানজট। দূর্ভোগে পড়েন সড়কে চলাচলরত যাত্রীরা। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সড়কে চলাচলরত এক সিএনজি চালক বলেন, গত দুই বছরে সড়কে কোন সংস্কার হয়নি। ফলে সড়কের বেশিরভাগ জায়গাতেই খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। আর বৃষ্টিতে পানি জমে থাকার কারণে গর্তগুলো দেখা যায় না। ফলে অনেক সময় গর্তে সিএনজি আটকে যায়। এতে করে অনেক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যায়। যার ফলে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। 

খোলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আজিজুল হাকিম বলেন, সড়কে খানা-খন্দের কারণে মাত্র ২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ১৫-২০ মিনিট সময় লেগে যায়। এছাড়া অনেক সময় সড়কে পরিবহন পাওয়া যায় না। অথচ সড়কের এমন বেহাল দশার কারণেই আমাদের নানান ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে। 

দীর্ঘদিন ধরে গর্ত ও খানা-খন্দ মেরামত বা সংস্কার না করায় এসড়কটি এখন মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। তাই জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভের অন্ত নেই। এলাকাবাসির পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে দাবি যত দ্রুত সম্ভব সড়কটি সংস্কার করে ইউনিয়নটির সাধারণ মানুষের চলাচল যাতে স্বাভাবিক ও সহজ করা হয়। 
 

ট্যাগ: banglanewspaper গাজীপুর কালিয়াকৈর চন্দ্রা