banglanewspaper

কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি: নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বেধরক পিঠিয়ে গুরুতর আহত করেছে প্রতিপক্ষরা। গুরুত্বর আহত অবস্থায় অন্তঃসত্ত্বা শিউলীকে শুক্রবার রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনাটি শুক্রবার বিকালে উপজেলার সান্দিকোণা ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামে ঘটে। জানা যায়, উপজেলার বিরামপুর গ্রামের হাছেন আলীর পুত্র সন্তান না থাকায় চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলাম মিলন গং বিভিন্ন ভাবে হাছেন আলীর উপর অত্যাচার-নির্যাতন করে। সম্প্রতি মিলন গংরা হাছেন আলীর জমি দখল নিতে গেলে হাছেন আলী ও তার সহোদর ভাই আব্দুল কদ্দুছকে বেধরক পিঠিয়ে রক্তাত্ত জখম করে। ওই সময়ে আহত আব্দুল কদ্দুছের হাত ভেঙ্গে পেলায় বর্তমানে তিনি পুঙ্গুত্ব জীবন-যাপন করছেন। 

বাড়ির পিচনে হাছেন আলীর পুকুর পাড়ে একটি ঝড়ে ফেলে দেয়ায় গাছটি শুক্রবার বিকালে কাটতে যান হাছেন আলী ও তার ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে শেউলি। এসময় রফিকুল ইসলাম মিলনের ভাতিজা রকি,একরামসহ কয়েকজন সঙ্গবদ্ধ হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে হাছেন ও শিউলী দৌড়ে পালানোর সময় পাট ক্ষেতে  শিউলী পরে গেলে এলোপাতারি কোপায়ে ও লাঠি দিয়ে পিঠিয়ে রক্তাত্ত গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাতে কেন্দুয়া উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে শিউলী অবস্থা বেগতিক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ প্রেরণ করেন। 
আহত শিউলী আক্তার জানায়,তাদের বাড়ির পাশে একটি গাছ ঝড়ে ফেলে দেয়ায় বাবা ও মাকে নিয়ে গাছটি কাটতে গেলে রফিকুল ইসলাম মিলনের নির্দেশে তার ভাতিজা রকি, একরামসহ কয়েকজন মিলে তাদের ওপর হামলা চালালে তারা দৌড়ে পালানোর সময় পাট ক্ষেতে পড়ে গেলে তাকে লাঠি দিয়ে বেধরক পিটায়-কোপায় এবং গায়ের কাপড় খুলে নেয় হামলাকারীরা।

শিউলী আরো বলেন, তারা দুই বোন ভাই নেই বাবাও সহজ-সরল মানুষ তাই তার বাবার জমিগুলো তারা জোর করে ভোগদখল করে রাখছে। এতে বাধাঁ দেয়ায় ৩/৪ বছর আগে তার বাবা ও চাচাকে মেরে পুঙ্গু করে রেখেছে। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য মনির খান ও বিরামপুর গ্রামে বাসিন্দা ইসলাম উদ্দিন বলেন, এরা ( রফিকুল ইসলাম মিলনরা) লোক ভাল না। হাছেন আলী সহজ-সরল থাকায় তার ওপর ব্যাপক জুলুম-নির্যাতন করে তারা। 

এদিকে রফিকুল ইসলাম মিলনের মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি বাড়িতে নেই এবং এব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা।

এব্যাপারে কেন্দুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ ইমারত হোসেন গাজী বলেন,ঘটনাটি শুনে রাতেই কেন্দুয়া হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়ে আহতদের খোঁজ-খবর নিয়েছি এবং তাদেরকে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছি।

ট্যাগ: Banglanewspaper কেন্দুয়া