banglanewspaper

রাবি প্রতিনিধি: নতুন পোশাক হাতে পেয়ে শাহীন আলমের চোখ মুখে আনন্দের তর যেন উপচে পড়ছে। শাহীন ভদ্রা এলাকার ৮ বছরের শিশু। বাবা লিটনের সাথে থাকে ভদ্রা বস্তিতে। শাহীন তার পাশেই বসে থাকা ভদ্রা বস্তির আরেক শিশু নাফিসকে নিজের প্যাকেটটি দেখাচ্ছে আর বলছে, ‘তোরটা থেকে আমারটা সুন্দর।’ নাফিসও প্রতিবাদি হয়ে নিজেরটা সুন্দর বলে দাবি করছে।

কিন্তু এই প্রতিবাদে রাগের লেশমাত্র নেই। বরং রয়েছে সীমাহীন আনন্দের ঝলকানি। দুজনের চোখ-মুখে মলিনতার ছাপ থাকলেও হাসিতে কোনো মলিনতা নেই। এমন অমলিন হাসিতে গমগম করছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসির পুরো হলরুম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আশে-পাশে বাস করা ১৪৭ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও তিনজন বৃদ্ধ মহিলাকে ঈদবস্ত্র বিতরণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নবজাগরণ ফাউন্ডেশন। সোমবার শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে (টিএসসিসি) এসব শিশু ও মহিলাদের হাতে ঈদবস্ত্র তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সাইদুর রহমান খান।

ঈদবস্ত্র হাতে পেয়ে খুশি যেন ধরে না ভদ্রা বস্তির রেবেকা ফারজানার। সে ৫ম শ্রেণিতে পড়ছে। রাজ্য জয় করা হাসি উপহার দিয়ে বললো, ‘আমাগো বাপ-মায় গরীব। প্রত্যেক ঈদে নতুন জামা কিনে দিবার পারে না। ভাইয়ারা নতুন জামা দিছে, এইডা পড়ে ঈদের মাঠে যাবো। সবাইকে দেহাবো আমারো নতুন জামা। খুব খুশি লাগছে।’

নবজাগরণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি খন্দকার মার্জান আতিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সোবহান, উপউপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা ও ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস।

এসময় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নবজাগরণ ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক সাদেকুল আরেফিন মাতিন, সাবেক জনসংযোগ প্রশাসক অধ্যাপক ইলিয়াস হোসেন ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রোকসানা বেগম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন নবজাগরণের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আহম্মেদ সজীব।

নবজাগরণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি খন্দকার মার্জার আতিক বলেন, ‘আগামী ১৬ তারিখ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তাই ঈদের আগেই এই আয়োজন। ঈদ যেহেতু সবার মধ্যে আনন্দ বয়ে আনে তাই নতুন জামা প্রদানের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সাথে ঈদের খুশি একটু ভাগাভাগি করে নেবার প্রত্যয়েই এই আয়োজন।’ নবজাগরণ ফাউন্ডেশনের সদস্যদের, উপদেষ্টা পরিষদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাবেক সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ সহায়তা নিয়েই এই সহায়তা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, নবজাগরণ ফাউন্ডেশন ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে বিভিন্ন কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী হরিজন পল্লীতে প্রতিষ্ঠা করেছে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য স্কুল ‘শিক্ষানিকেতন’। নিয়মিত ১১৪ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে পাঠদান ও তাদের শিক্ষা উপকরণ প্রদান করে যাচ্ছে সংগঠনটি।

ট্যাগ: Banglanewspaper সুবিধা বঞ্চিত