banglanewspaper

নিজস্ব প্রতিনিধি: ছাত্রলীগের সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে প্রতিপক্ষ পদপ্রত্যাশীদের সমর্থকেরা। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে যাচাই-বাছাই করে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা দিবেন জানার পরেও এমনটা করছে তারা। এতে ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছে আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড।

ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে তিনি বিবাহিত। তার স্ত্রীর নাম তহুরা সাবিহা বিথি, তিনি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারি উপজলায়।

আজকের কণ্ঠের পক্ষ থেকে বিথির বাবা আব্দুস সামাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘আমার মেয়ে বিথি এখনও অবিবাহিত। ছাত্রলীগ নেতা শোভনের সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নেই। যারা এসব কথা ছড়াচ্ছে তারা ভাল মানুষ না’।

রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ তিনি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী পরিবারের সন্তান!

ঢাবি’র আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শোভনের দাদা শামসুল হক চৌধুরী ছিলেন কুড়িগ্রামে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। তিনি ১৯৭০ সালের গণপরিষদের সদস্য। এরপর ১৯৭১ ও ১৯৭৯ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে কুড়িগ্রামের সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি। ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

শোভনের বাবা নুরুন্নবী চৌধুরী খোকন ২০০১ সাল থেকে বর্তমানে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের মনোনয়নে একই উপজেলার বর্তমানে চেয়াম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সদ্য বিদায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শোভন এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক, বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

অন্যদিকে ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক কমিটির সহ সভাপতি আদিত্য নন্দীর নামেও ছড়ানো হচ্ছে বিভ্রান্তি। তার নামে বলা হচ্ছে তিনি পরীক্ষায় ফেল করেছেন। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামের ছেলে আদিত্য ২০১২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টে বিভাগ থেকে সিজিপিএ ৪.০০ এর মধ্যে ৩.০৬ পেয়ে স্নাতক পাস করেছেন।

বর্তমানে একই বিভাগের স্নাতকোত্তর বিভাগের শিক্ষার্থী আদিত্য। তিনি ২০০৫ ও ২০০৭ সালে ব্যাবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় সিজিপিএ ফাইভ অর্থাৎ এ প্লাস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

চট্টগ্রাম কমার্স কলেজে পড়াকালে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে হাতেখড়ি আদিত্যের। এরপর ২০০৮ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগে সক্রিয়। ১/১১ এর সরকারের সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কারামুক্তি আন্দোলনে প্রথম বর্ষে পড়েও সক্রিয় ছিলেন আদিত্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকও ছিলেন জগন্নাথ হলের এ শিক্ষার্থী।

আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, অপপ্রচারের পাশাপাশি অনেকে কোন কোন প্রার্থীকে সভাপতি-সম্পাদক বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি করছেন- এটাও অপরাধ। এগুলোকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও ধৃষ্ঠতার শামিল হিসেবে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার আগে কাউকে সভাপতি-সম্পাদক বানিয়ে দেয়া যেমন অপরাধ, সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোও অপরাধ।

উল্লেখ্য, কমিটি ঘোষণা ছাড়াই শনিবার শেষ হয় ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশমতো সমঝোতার মাধ্যমে কমিটি করতে ব্যর্থ হয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশী সকলের নামের তালিকা গণভবনে দিয়ে আসেন ছাত্রলীগের সদ্য বিদায়ী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু এর মধ্যেই সম্ভাব্য নেতাদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে নানা প্রচার শুরু হয়।

আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা জানান, ‘ছাত্রলীগের কমিটি দেওয়ার দায়িত্ব আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার। তিনি সোহাগ ও জাকিরকে বলেছেন, তোমরা কাউন্সিলরদের বাড়ি চলে যেতে বলো। কমিটি আমি ঘোষণা করব। তারপর থেকেই ছাত্রলীগের শীর্ষ পদের আলোচিত প্রার্থীদের নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একের পর সংঘবদ্ধ অপপ্রচার ছড়ানো শুরু হয়েছে। যার দাদা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা তাকে বানানো হচ্ছে রাজাকার। একজন স্নাতক পাস ছেলেকে বলা হচ্ছে পরীক্ষায় অকৃতকার্য। এগুলো কোন ধরনের নোংরামি?’

আওয়ামী লীগের আরেকজন নেতা বলেন, ‘একটি কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাত্রলীগের বিভিন্ন ছেলেমেয়েদের নামে অপপ্রচার ছড়াচ্ছে। কারণ, তারা বুঝতে পেরেছে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার তদারকিতে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষিত হলে দীর্ঘদিন ধরে তারা যেভাবে ছাত্রলীগকে পরিচালিত করে এসেছে, সেভাবে আর পারবে না। এজন্য তারা প্রধানমন্ত্রীকে বিভ্রান্ত করতে এই নোংরামিগুলো করছে।’

ট্যাগ: Banglanewspaper ছাত্রলীগ