banglanewspaper

মুহা. ইসমাইল খান, নরসিংদী প্রতিনিধি: মিয়াজ টুরস্ অ্যান্ড ট্রাভেলস নামের এক জনশক্তি রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র জালিয়াতি করে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম খান বীরুসহ দুজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত (সিএমএম)। গত সোমবার বিকেলে এই আদেশ জারি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদি পক্ষের আইনজীবি সাহাদাত হোসেন ফকরুল।

মামলার এজাহার ও তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, মেসার্স মিয়াজ ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক মিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। ২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর মনোহরদী উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খান বীরুর মাধ্যমে একই উপজেলার পাঁচকান্দি এলাকার মোখলেছুর রহমান লিবিয়ার ৩৮০টি ভিসা আদান-প্রদান সংক্রান্ত একটি ব্যবসায়ীক চুক্তি করেন। চুক্তি মোতাবেক মোখলেছুর রহমান ২০১৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত উপজেলা চেয়ারম্যানকে অবহিত করে মিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া বিভিন্ন সময় মোখলেছুর রহমানকে মোট ১ কোটি ১৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেন। পরবর্তীতে লিবিয়ায় কর্মী নেওয়া কার্যক্রম স্থগিত হয়ে গেলে মিয়াজ উদ্দিন উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খান ও মোখলেছুর রহমানের কাছে টাকা ফেরত চাইলে তারা টালবাহানা শুরু করেন।

এই মর্মে বিবাদীগনকে উকিল নোটিশও পাঠানো হয়। কিন্তু তাতে কোন কাজে আসেনি। পরবর্তীতে মিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া বাদি হয়ে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত তদন্তের জন্য গুলশান থানাকে নির্দেশ দিলে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ছাদেক মিয়া তদন্ত করে এর সত্যতা পান। যা আদালতে গত বছরের ১৭ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন আকারে আদালতে দাখিল করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার আদালত উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খান বীরু ও মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।  

এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খান বীরু বলেন, ‘মিয়াজ টুরস্ অ্যান্ড ট্রাভেলসের মালিক মিয়াজ উদ্দিনের সাথে মোখলেছুর রহমানের লিবিয়ায় জনশক্তি রপ্তানী বিষয়ে একটি চুক্তিপত্র এবং ভিসা সংক্রান্ত কিছু আর্থিক লেনদেনের সময় আমি উপস্থিত ছিলাম। আমি নিজে কারো সাথে কোন লেনদেন করিনি। সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই মামলায় আমাকে জড়ানো হয়েছে।’  

মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফখরুদ্দীন ভূঁইয়া বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কোন কাগজপত্রও আমার হাতে আসেনি।’

ট্যাগ: banglanewspaper মনোহরদী উপজেলা চেয়ারম্যান