banglanewspaper

মোঃ আব্দুল হালীম শরীফ

..........................................................................

দয়াময় আল্লাহর করুনা অপার: সৌর বছরের চেয়ে এগার দিন পূর্বেই শুরু হয় চান্দ্র বছর। অগ্রসর হয় ধর্মীয় সাংস্কৃতির অমোগ ধারা। মাহে রমজান তারই এক উজ্জল দৃষ্টান্ত নয় কি? মানুষ এক স্রষ্টার দাসত্বে স্বীকৃতি দিয়ে দৃঢ প্রত্যেয়ের সাথে সুবহে সাদিক হতে লাল সূর্যটি ডুবে যাওয়া পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকে।

সরে দাড়ায় কামভাব চরিতার্থ করা হতে। হস্ত পদ, চক্ষু কর্ণ ও জিহ্বা সামাল দেয়। কুচিন্তা হতে মুক্ত রাখে মস্তিস্ক। থামিয়ে দেয় গর্হিত পথে পদচারণা। এক আল্লাহতে বিশ্বাস ও সওয়াবের প্রত্যাশা হয় তার লক্ষ্যস্থল। পার্থিব ব্যাস্ততা পরিহার করে পারলৌকিক কর্মে নিবিষ্ট হয়। তখন সেই মানষটি আত্মপ্রকাশ করে বেহেশতি মানুষ রূপে।

ইতিপূর্বেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে সিয়াম সাধনায় পাপাত্মার তাড়না। খুলে গেলো তার অভ্যর্থনার নিমিত্তে জান্নাতের সমস্ত ফটক, বন্ধ হল জাহান্নামের সব কটি দরজা। পায়ে বেড়ী পরিয়ে দেওয়া হল বিতারিত শয়তান কে, যেন ঐ স্বর্গীয় মানুষটিকে ধোকার জ্বালে ফেলতে না পারে। আকাশের পথ বেয়ে নেমে এল অসীম রহমত।

পাপাত্মা তখন রূপ নেয় স্বর্গীয় আতœার। আনন্দের ঢেউ বইতে থাকলো তার সকল অঙ্গে, প্রত্যন্ত শাখায়। ফুলে ফলে সুশোভিত প্রবাহিত ঝর্ণাধারায় পরিবেষ্টিত রাইয়্যান দ্বার থাকে সেই মোমিন রোজাদারের জন্য সুরক্ষিত। বান্দা তখন ভাবতে থাকে; আমিতো সিয়াম পালন করেছি, ক্বিয়াম করেছি, ক্বদরের রজনীতে বন্দেগী করেছি, তাই আমার ছোট খাটো যাবতীয় গোনাহ মাফ হয়ে গেলো। আমার এ রোযা আল্লাহ তারই জন্য নির্দ্ধারন করে নিলেন। তাই মহান সত্বাই আমার পুরস্কার। সে পুরস্কার তার স্বীয় হস্ত হতে লাভ করবো। আমার মুখের গন্ধ মহান শাহানশাহের কাছে সুগন্ধির বস্তু হয়েছে। যেন উহা মেশক আম্বার।

পবিত্র রোজা ও কোরআন তেলাওয়াত আমার নাযাতের লক্ষ্যে সুপারিশ করবে এবং তা গৃহীতও হবে। এ মাসের একটি নফল ইবাদত ভিন মাসের একটি ফরজ ইবাদতের সমান আর একটি ফরজ ভিন মাসের ৭০টি ফরজের সমান পূণ্য এনে দেয়। বেহেশত আমার জন্য, কারণ আমি সহ্যের পরিচয় দিয়েছি, সহমর্মিতা দেখিয়েছি। ঈমানদারের রুজি বৃদ্ধির মাস। দুধের মিকসার/একটি খোরমা/ না হয় অন্তত; পানি দিয়ে ইফতার করালে তিনটি পুরস্কার; গোনাহ মাফ, জাহান্নাম থেকে নাযাত এবং ঐ রোজাদারের রোজার সমান সওয়াবের মালিক হওয়া গেলো।

আর পেট পুরে খাওয়াতে পারলে রাসুল (সাঃ) এর হাউজে কাউছার হতে পান করবে এমন শরবত যে, জান্নাতে প্রবেশ না করা পর্যন্ত পিপাসার কোন বালাই থাকবে না। রাসুল (সাঃ) এর মধুর বাণী; সাহরী খাও তাতে বরকত রয়েছে। প্রতি দশ দিন যথা ক্রমে করুণা, ক্ষমা ও মুক্তির সওগাতবাহী মাহে রমজান। চাকর চাকরানির কাজের বোঝা কমিয়ে দিলে গোনাহ মাফ ও দোযখ মুক্তি। বান্দা কি চায়, তা দেখার জন্য আল্লাহ হাজির। বেহেশত রাখা হয় সুসজ্জিত করে রমজানের জন্য একটি বছর ধরে। মাসের প্রথম দিনে বইতে থাকে আরশের নিচে সুশিতল সমিরণ জান্নাতের বৃক্ষের পত্ররাজি দুলিয়ে কুচকুচে কালো আখিঁবিশিষ্ট হুর দের গায়ের উপর দিয়ে।

তারা তখন বলতে থাকে প্রভো, তোমার বান্দা যারা, হোক যে সাথি মোদের তারা, মোদের দেখে মন জুড়ায়, তাদের দেখেও মন জুড়াই। রমজানের শেষ রজনীতে রাসুলের (সাঃ) উম্মত ক্ষমা পেয়ে গেলো। তবে কি কদরের রাতে? কখনই নয়। কাজ যখন শেষ হয়, মুজরী তখনই পায়।

এ সকল আশার বাণী ঐ মানুষটির জন্য প্রযোজ্য, যে দহন করতে পেরেছে তার সকল কু প্রবৃত্তি কে। তা না হলে নয়। যে মিথ্যে বচন ও সেরূপ কর্ম ছাড়তে পারেনি, আল্লাহর নিকট কোন প্রয়োজন নেই তার নিছক পানাহার বর্জন করে রোজা রাখার। হারাম ভক্ষন করলে, উপার্জন অবৈধ হলে এমন প্রকৃতির রোজার দরকার নেই।

প্রিয় রাসুল (সাঃ) বলেন, বহু রোজাদার এমন রয়েছে যার রোজা শুধু উপবাস, এ ভিন্ন আর কিছুই নয়। আর এমন নামাজী আছে যাদের নামাজ রাত্রী জাগরণ ছাড়া আর কিছুই নয়। 

সিয়াম সাধনা কে যদি মজবুত ঢাল সরূপ ব্যবহার ই না করা গেলো তা হলে এমন রোজা দিয়ে এত বেশি সম্মানের দাবী করা কি যুক্তি যুক্ত যে আমার রোজা আমার কু প্রবৃত্তির প্রজ্জলন আর আমি হতে পারি স্বর্গীয় আনন্দ ভোগী আল্লাহর দাস?। লেখক- সাবেক উপাধ্যাক্ষ, কুওয়াতুল ইসলাম আলিয়া মাদ্রাসা, কুষ্টিয়া এবং খতিব, কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ।

ট্যাগ: Banglanewspaper মাহে রমজান