banglanewspaper

১৯৯৪ সালে সেসময়ের বাংলাদেশের শেষ প্রান্ত খ্যাত টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেয়া ১৮/১৯ বছরের এক তরুণ নিজের ভাগ্যের চাকাকে আরো বেগবান করতে পাড়ি জমায় সুদূর আরব আমিরাতে। কয়েক বছর থাকার পরেও কোন এক অজানা কারণে কোন কাজেই ঠিক নিজেকে সেখানে মানিয়ে নিতে না পেরে ফিরে আসে নিজের প্রাণের দেশ বাংলাদেশের কক্সবাজারে। 

দেশে ফিরে নানা সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে ফেলার পাশাপাশি সেই তরুণ ভাবতে থাকে, কিভাবে বিদেশ বিভুইয়ে গিয়ে নিজের দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য সম্মান আনা যায়! এসব ভাবনা আর বৃহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে পরিকল্পনা করতে সময় পেড়িয়ে যেতে থাকে। সিদ্ধান্ত নেয় - না আর দেশে বসে শুধু স্বপ্ন বুনলে চলবে না। এবার সে তরতাজা যুবক তার সত্যিই দেশের জন্য বড় কিছু করার সময় এসেছে। তখন ২০০৪ সাল, সেই যুবক আবার পাড়ি দেয় প্রবাসে তবে এবারের শহর দুবাই।

নিজের দেশের জেলা শহর কক্সবাজার থেকে দুবাই গিয়ে রাতারাতি তো সব হয়ে যাবেনা তাই  আরো খানিক সময় নিয়ে এটেঁসেটে ২০০৮ সালে নিজেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে বসে বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলার সেই টগবগে যুবক মোহাম্মদ ইসমাইল।

নিজের অদম্য ইচ্ছা শক্তি, কর্তব্যনিষ্ঠা,সততা আর উদ্যমতার মধ্য দিয়ে মোহাম্মদ ইসমাইল জয় করেছে প্রবাস জীবন। এক সময় যে প্রবাসে একজন সাধারণ কর্মচারী হয়ে গিয়েছিলো নিজের জীবন আরো সুন্দর করে সাজাতে। সে ইসমাইল  নিজের প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছেন দশ-দশটি আবাইয়া/লেডিস গাউন ড্রেস এর দোকান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের বিখ্যাত আবাইয়া মার্কেট নামে পরিচিত আবু হাইল সেন্টারে তার শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে গত ১৫/১৬ বছর ধরে।

প্রবাসে এত স্বল্প সময়ে শূণ্য থেকে সফল হওয়ার গল্প খুব কমই চোখে পড়ে। গুটি কয়েকজনের মধ্যে তিনি পৌঁছে গেছেন সাফল্যের চূড়ায়। মোহাম্মদ ইসমাইল এর মালিকানাধীন ১০টি বোরকা দোকানকে যোগান দিতে দুবাইতে রয়েছে আরও ৮/১০ টি ওয়্যার হাউস। তাঁর দশম শোরুম এর  নাম এলিগেন্স ওখানে রয়েছে বিশ্বের সর্বাধুনিক ডিজাইনের আবাইয়া,  লেডিস গাউন সহ  ফ্যাশন সচেতন নারীদের জন্য অসংখ্য পণ্য সম্ভার।

মোহাম্মদ ইসমাইল স্বপ্ন দেখেছিলেন এই শিল্পকে আরও বড় করে তোলার। পাশাপাশি বাংলাদেশে রেমিটেন্স পাঠিয়ে বিভিন্ন সেক্টরে বিনিয়োগের। অসীম দেশপ্রেম আর পারিবারিক সুত্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অনুসারী পরিবারে জন্ম নেয়া যুবক, দুবাই গিয়ে শুধু ব্যবসা নিয়েই আটকে থাকেনি। নিজেকে জড়িয়েছেন রাজনীতি সহ নানাবিধ  কর্মকান্ডের সাথে, উদ্দেশ্য দেশের জন্য ভালো কিছু করে বিদেশের মাটিতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা। দিনে দিনে মোহাম্মদ ইসমাইল হয়ে উঠেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ কমিউনিটির সিনিয়ার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত আওয়ামী লীগের সর্ব সিনিয়ার নেতা।

মোহাম্মদ ইসমাইল শুধু প্রবাসেই নিজের সক্ষমতা জাহির করে থেমে থাকেননি বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারেও রয়েছে তার মালিকানাধীন বিভিন্ন ব্যবসা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান, এখানেও তার অধীনে কাজ করছে শত শত কর্মকর্তা কর্মচারী। রয়েছে বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠান।

মধ্যপ্রাচ্যের বোরকা বা আবাইয়া ব্যবসার সিংহভাগ বাংলাদেশের দখলে। শুধু দুবাইয়েই বোরকা শিল্পে বাংলাদেশের প্রায় ৪০-৪৫ হাজার কর্মী কাজ করেন। তাদের পাঠানো রেমিটেন্সে বাংলাদেশ সমৃদ্ধ হচ্ছে। ভিসা জটিলতার কারণে এ শিল্পে বাংলাদেশের কারিগর নিয়োগের ক্ষেত্রে সমস্যায় পরতে হয় প্রায়শ। ফলে লাভজনক এই শিল্প ধীরে ধীরে চলে যাচ্ছে ফিলিপাইন ও ভারতীয়দের হাতে। এ শিল্পে নিপুন ও আধুনিক সেলাইয়ে বাংলাদেশিরা অভিজ্ঞ ও দক্ষ। বাংলাদেশিরা সেলাইয়ে দক্ষতা প্রদর্শন করলেও ডিজাইনের ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে পরলে সে বিষয়ে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন বাংলাদেশী মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। পাশাপাশি ফিলিপাইন, ভারত, ইরান সহ বিভিন্ন দেশ থেকে সর্বাধুনিক ডিজাইনার এনে আরো সমৃদ্ধ করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন এই যুবক মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন।

মোহাম্মদ ইসমাইল গত ১৫/১৬ বছর ধরেই বাংলাদেশ সরকারকে সর্বাধিক রেমিট্যান্স দিয়ে দেশের উন্নয়নের কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। ইতোপূর্বে চারবার সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স দাতা হিসেবে সরকারী ভাবে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি এবং সম্মাননাও পেয়েছেন। 

প্রবাসে গিয়ে সম্পূর্ণ নিজের চেষ্ঠায় দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রম এবং শতভাগ সততা নিয়ে সফলতার শীর্ষে অবস্থান করে দেশ এবং দেশের মানুষের জন্য অবিরাম কাজ করে চলা এই মানুষটিকে বাংলাদেশ সরকার C.I.P. নির্বাচন করে তাকে তার যোগ্য সম্মান শুধু নয়, বরং বাংলাদেশ সরকার মোহাম্মদ ইসমাইলকে চিরকালের জন্য বেধে দিয়েছেন, আরো বেশী কর্তব্য পালন সহ দেশের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার দায়ে।  

অত্যন্ত ভদ্র সদালাপী এবং বন্ধুবৎসল  মোহাম্মদ ইসমাইল এর জন্য নিরন্তর শুভকামনা সহ প্রতিটি দেশপ্রেমী বাংলাদেশী প্রবাসী ভাই- বোনদের কাছে অনুরোধ-আপনারাও এগিয়ে আসুন মোহাম্মদ ইসমাইলের মতো শতভাগ সততা নিয়ে দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সরকারের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। এক মোহাম্মদ ইসমাইল হোক আপনাদের অনুপ্রেরণার প্রতিক।

 

 

ট্যাগ: banglanewspaper সফলতা