banglanewspaper

মজিবুর রহমান, কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি: নেত্রকোণার কেন্দুয়া ডিগ্রী কলেজে নকলের সুযোগ না দেয়ায় বাংলা বিভাগের প্রভাষক আব্দুল কাদের নয়নকে মারপিট করেছে ছাত্রলীগ নামদারী শিক্ষার্থীরা।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে কলেজের একাদশ শ্রেণির বর্ষ সমাপনী পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ উত্তম কুমার কর বাদী হয়ে ছাত্রলীগ নেতা আপেল মাহমুদকে প্রধান আসামী করে ৬ জনের বিরুদ্ধে কেন্দুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে অজ্ঞাত আরো ৮/১০ জনকে আসামী করা হয়েছে। 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কেন্দুয়া ডিগ্রী কলেজের একাদশ শ্রেণীর বর্ষ সমাপনী পরীক্ষায় গতকাল সোমবার বাংলা বিষয়ে পরীক্ষা চলছিল। এ সময় ৫নং কক্ষে দায়িত্বে থাকা বাংলা প্রভাষক আব্দুল কাদের নয়নকে নকলের সুযোগ দেয়ার জন্য কলেজ ছাত্রলীগ নামদারী শিক্ষার্থীরা চাপ প্রয়োগ করে। এ অন্যায় আবদারে শিক্ষক নয়ন রাজি না হওয়ায় উল্লেখিত শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার ৫নং কক্ষের আসবাব পত্র ভাংচুর করে কলেজে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে পরীক্ষার্থীরা ভয়ে দিক-বিদ্বিক  ছোটাছুটি করতে থাকে। এ সময় শিক্ষকের কাছ থেকে প্রশ্ন ও পরীক্ষার খাতা ছিনিয়ে নেয়ার সময় বাধাঁ দিলে শিক্ষক আব্দুল কাদের নয়নকে বেদড়ক মারপিট করে হামলাকারীরা। পরে হামলাকারীরা অস্ত্রের মহড়া প্রর্দশন করে শিক্ষকদের খুন করে গুম করার হুমকি দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।

এঘটনার পর গতকালের পরীক্ষা স্থগিত করেছে কলেজ কতৃপক্ষ। এ দিকে হামলার ঘটনার পর পরেই কলেজ স্টাফদের জরুরী সভায় উছ¦শৃঙ্খল শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পরে কলেজের অধ্যক্ষ উত্তম কুমার কর বাদী হয়ে ছাত্রলীগ নেতা আপেল মাহমুদকে প্রধান আসামী করে ৬ জনের নাম উল্লেখ্যসহ ৮/১০ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ নেতা আপেল মাহমুদ জানায়, শিক্ষার্থীদের কাছে কলেজের মাসিক বেতনসহ অন্যান্য পাওনাদি কিছু কমানোর জন্য দাবী করে আসলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ কোন কর্নপাত করেনি। শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনা অস্বীকার করে আপেল আরো বলেন, পরীক্ষা শুরুর আগে এ নিয়ে স্যারদের সাথে কথার কাটাকাটি হয়েছে। হামলার ঘটনা ঘটেনি।

কেন্দুয়া ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ উত্তম কুমার কর জানান, নকলের সুযোগ না দেয়া আপেলসহ ১০/১৫ মিলে ৫ নং হলের শিক্ষকের ওপর হামলা ছালিয়েছে। আমরা এঘটনার বিচার চাই।

কেন্দুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ ( তদন্ত) স্বপন সরকার জানান,অভিযোগ পেয়েছি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 

ট্যাগ: banglanewspaper কেন্দুয়া