banglanewspaper

আমরা দুনিয়ার কোনো কাজের ক্ষেত্রে সুচিন্তিতভাবে পরিকল্পনা করি। এটি বাস্তবায়নের ব্যাপারেও সচেতন হই। কিন্তু আখিরাতের ব্যাপারে তা করি না। জুমার খুতবায় খতিব জামাতে নামাজ পড়ার গুরুত্ব সম্পর্কে বয়ান করলে মনে মনে ভাবি আর কখনও জামাতে নামাজ পড়া ছাড়ব না। কিন্তু দু’দিন পরই আবার আগের মতো ঘরকুনো নামাজি হয়ে যাই।

ফজরের সময় মসজিদে গেলেও কাজের অজুহাতে জোহর কিংবা আসর বাদ যায়। তবে অন্য সময় যাই হোক আমরা কমপক্ষে রমজান মাসে নিয়মিত নামাজ পড়ার চেষ্টা করি। যেসব কাজ রোজাকে দূষিত করে আমাদের সেসব কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। এগুলো থেকে দূরে থাকলে মুমিন মুসলমান রোজার মাধ্যমে পুরোপুরি উপকৃত হতে পারবে।

আল্লাহ বলেছেন- হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হল। যেমন তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতের ওপর ফরজ করা হয়েছিল। যাতে তোমরা পরহেজগার হতে পারো। (বাকারা ১৮৩)।

শরিয়তের নিষিদ্ধ কাজগুলো থেকে আমাদের সব সময়ই বেঁচে থাকতে হবে। রোজার সময় এগুলো থেকে বেঁচে থাকার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। মানুষ কাজের মাধ্যমে যতটুকু পাপ করে তার চেয়ে বেশি পাপ করে কথার মাধ্যমে। তাই প্রত্যেকটি কথা বলার আগেই চিন্তা করা উচিত সেটি বলা ঠিক হবে কি না। কেননা ছোড়া তীর আর বলা কথা কখনও ফেরত আনা যায় না।

রাসূল (সা.) বলেছেন, কিছু রোজাদার আছে যাদের রোজায় ক্ষুধা নিবারণ ছাড়া অন্য কিছু লাভ হয় না। এবং কিছু তাহাজ্জুদ গুজার আছে যাদের তাহাজ্জুদে রাত্রি জাগরণ ছাড়া অন্য কিছু লাভ হয় না।

রোজা রেখে মোবাইলে অপ্রয়োজনীয় কথা বলা অথবা গায়রে মাহরামের সঙ্গে অহেতুক গল্প করা যাবে না। রমজান মাসে কোনো মোবাইল অপারেটর কথা বলার বিশেষ সুযোগ দিলেও তা গ্রহণ করে অহেতুক গল্প-গুজব করা যাবে না।

আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেন, মানুষকে তাদের নিজ জিহ্বা ছাড়া অন্যকিছু কি তাদের মুখ অথবা নাক ছেচড়ে দোজখে নিক্ষেপ করবে (তিরমিজি)।

পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম রোজা নয়। আসলে রোজা হল অসার ও অশ্লীল কথা ও কর্ম থেকে বিরত থাকা। কেউ গালাগালি করলে তাকে বলতে হবে আমি রোজাদার। এ জবাবে দুটি উপকার রয়েছে। একটিতে রয়েছে নিজের রাগ দমনের প্রশ্ন অন্যটিতে রয়েছে বিরোধী পক্ষের জন্য সতর্কতা। পরচর্চা বা গিবত করা, চোগলখুরি, অশ্লীল ও মিথ্যা থেকে একজন রোজাদারকে অবশ্যই বেঁচে থাকতে হবে।

মহানবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি রোজা রেখে নোংরা কথা ও তার ওপর আমল ত্যাগ করতে পারল না সে ব্যক্তির পানাহার ত্যাগ করার মাঝে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই (বোখারি)।

রোজাদার রোজা রেখে অশ্লীল কথা শোনা, ব্যভিচারের দিকে আহ্বানকারী গান, নাটক, ফিল্ম ইত্যাদি থেকে দূরে থাকবেন। কেননা কান, চোখ, ও হৃদয়কে আল্লাহর কাছে জবাবদিহী করতে হবে। দেহের রাজা হচ্ছে অন্তর। এটি এমন একটি মাংসপিণ্ড যা ভালো হলে সারা দেহ ভালো থাকে আর খারাপ হলে সারা দেহ খারাপ হয়ে যায়। তাই হৃদয়কে আল্লাহর দিকে অগ্রসর করতে হবে। এজন্য শিরক, বিদাত, নোংরা চিন্তা-ভাবনা, হীন পরিকল্পনা ও খারাপ কল্পনার মতো নিকৃষ্ট উৎপাদন থেকে দূরে থাকতে হবে। প্রকৃত মুমিন হারামকৃত জিনিস দেখা থেকে বিরত থেকে সাওমকে হেফাজত করে। হারাম কিছু দেখলে সে দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে নেয়। তেমনইভাবে মোবাইল, টেলিভিশন কিংবা অন্যান্য মিডিয়ার অশ্লীলতা থেকেও সে দূরে থাকে।

মহান আল্লাহ বলেছেন- মুমিন পুরুষদের বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং নিজ নিজ যৌনাঙ্গ হেফাজত করে, এটিই তাদের জন্য উত্তম (নূর ৩০)।

সালাত আদায় না করে সিয়াম পালন করলে এ সিয়াম শুদ্ধ হবে না। কোনো ব্যক্তি যদি সাওম পালন করে সালাত আদায় না করে তাহলে তার সাওম কোনো কাজে লাগবে না। আল্লাহর কাছে কিয়ামতের দিন তা কোনো উপকারে আসবে না। কারণ সালাতের হিসাব নেয়া হবে সবকিছুর আগে। তলোয়ারের আঘাত থেকে বাঁচার জন্য ঢাল ব্যবহার করা হয়। সব পাপ কাজ থেকে বাঁচাতে পারে একনিষ্ঠভাবে সিয়াম সাধনা।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা.) বলেছেন- সিয়াম ঢালস্বরূপ। সুতরাং অশ্লীলতা করবে না এবং মূর্খের মতো কাজ করবে না...। (সহিহ বোখারি)।

রমজান মাসে সব হারাম কাজ থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। আপনি যদি পরিবারের কর্তা হন তাহলে আপনার জন্য কর্তব্য হল পরিবারের সব লোককে হারাম থেকে দূরে রাখা। বিশেষ করে মিডিয়ার মাধ্যমে রেডিও, টেলিভিশন, মোবাইলের মাধ্যমে সহজে পাপ করা হয়ে থাকে। এগুলো থেকে নিজে বাঁচার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের বিরত রাখতে হবে। আমরা কথা ও কর্মের মাধ্যমে পাপ করে থাকি। সিয়াম পালন করে কেউ যদি এগুলো ত্যাগ করতে না পারে তাহলে তার সিয়াম পালনে উপবাস থাকার মতোই অর্থহীন। তাই এ সময় নেক কাজ করার পাশাপাশি খারাপ কাজ একবারেই ছেড়ে দিতে হবে। রোজাদার ব্যক্তি অলস সময় কাটাবে না। বিশেষ করে ফজরের নামাজের পর কোরআন তিলাওয়াতের জন্য উপযুক্ত সময়। দিনের শেষ ভাগ অর্থাৎ আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত অলসভাবে কাটানো যাবে না। এ ছাড়া সাহরির সময় খাওয়া-দাওয়া নিয়ে অত্যধিক সময় না কাটিয়ে এ সময় তাসবিহ-তাহলিল ও জিকির-আজকার করা যেতে পারে। হারাম খাদ্য খেয়ে রোজা রাখলে তা কবুল হবে না। তাই হারাম উপায়ে সম্পদ অর্জন, সুদ, ঘুষ ও অবৈধ লেনদেন থেকে আমাদের বেঁচে থেকে তাকওয়া অর্জন করতে হবে।

ট্যাগ: banglanewspaper রোজা