banglanewspaper

এএইচ জুয়েল, তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: তালায় এক বেকারী মালিকের বিরুদ্ধে স্ত্রী-সন্তানদের রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করে যৌতুকের দাবিতে তাকে নির্যাতনসহ হত্যার হুমকির অভিযোগ করেছেন দ্বিতীয় স্ত্রী নাছরিন সুলতানা।

অভিযোগে জানা গেছে, তালা উপজেলার বারুইহাটি গ্রামের লুৎফর শেখের ছেলে ও তালা সদরের বাংলাদেশ বেকারীর মালিক ছাত্তার শেখ তার প্রথম স্ত্রী, ১ ছেলে ও ২ মেয়ের তথ্য গোপন রেখে ২০১৫ সালের ৫ মার্চ ৩ লক্ষ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন বারুইহাটির আহম্মদ বিশ্বাসের মেয়ে নাছরিন সুলতানা (২৩) কে। বিয়ের ৬ মাসের মধ্যে নাছরিনের কাছে স্বামী ছাত্তারের স্বরুপ ফুটে ওঠে। তার উপর শুরু হয় ২ লক্ষ টাকা যৌতুকের দাবিতে অমানুষিক শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন। তবে নাছরিনের পিতা দরিদ্র হলেও বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ করে মেয়ের সুখের জন্য ১ লক্ষ টাকা দেয় ছাত্তারকে। এরপরও থেমে থাকেনা ছাত্তারের নির্যাতন। যৌতুকের নেশা তাকে যেন পেয়ে বসে। আরো টাকা পাওয়ার আশায় সে নাছরিনের উপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এক পর্যায়ে তাকে পিত্রালয়ে পাঠিয়ে তার সাথে সকল প্রকার যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। 

এরপরও ভবিষ্যতে স্বামীর মানসিক অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে এমন আশা ও নাছরিনদের ৭ বোনের কোন ভাই না থাকায় ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তারা প্রথমত কোথাও কোন মামলা পর্যন্ত করেনি। এনিয়ে তালা সদরে বহুবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশী বৈঠকেও কোন সিদ্ধান্ত না আসায় নাছরিন খুলনা জজ আদালতে পর্যায়ক্রমে তিনটি যৌতুক,পাবিারিক মামলা (দেনমোহর-খোরপোশ) ও নারী নির্যাতন মামলা করেন। মামলাগুলি বিচারাধীন থাকলেও স্বামী ছাত্তার বিভিন্ন অপকৌশলে মামলাগুলি তার অনুকুলে নেওয়ার অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। এনিয়ে এর আগে তিনি সংবাদ সম্মেলন থেকে শুরু করে স্থানীয়দের কাছে অভিযোগ করেও কোন ফল হয়নি।

সর্বশেষ নিজের সম্ভ্রম ও জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় নিজ পিত্রালয়ে এক প্রকার বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন নির্যাতনের শিকার নাছরিন। এ ব্যাপারে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তবে অভিযুক্ত বাংলাদেশ বেকারীর মালিক ছাত্তার শেখে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। নাছরিন সুলতানা নামের কাউকে আমি বিবাহ করিনি, সে আমার স্ত্রী না। 
 

ট্যাগ: banglanewspaper যৌতুক