banglanewspaper

শরীফ আনোয়ারুল হাসান রবীন: জমির নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম মূল্য দেখিয়ে দলিল রেজিস্ট্রি করায় মাগুরা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে প্রতি মাসে কমপক্ষে পাঁচ কোটি টাকার রাজস্ব হারায় সরকার।

সে হিসাবে বছরে ৬০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাকি দেয়া হয়। জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে কম মূল্যে দলিল সম্পাদন করার মাধ্যমে সাব-রেজিস্টারসহ এক শ্রেণির দালাল চক্র বছরে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালী মৌজার ধানি শ্রেণির প্রতি শতক জমির মূল্য এক লাখ ৪ হাজার ৪৪৭ টাকা। সম্প্রতি ওই মৌজার ৮ শতক ধানি শ্রেণির জমি পুকুর শ্রেণি উল্লেখ করে প্রতি শতক বিক্রি মূল্য লেখা হয়েছে মাত্র পাঁচ হাজার ৮১৬ টাকা দরে। সে হিসাবে ওই একটি  দলিল থেকেই সরকার রাজস্ব হারিয়েছে ৫ লাখ ৯১ হাজার ৬৮২ টাকা।

সরজমিনে পারনান্দুয়ালী ওই মৌজায় গিয়ে ৬ বছর আগে ক্রয় সুত্রে জমির মালিক সেখানে বসবাসরত মনতোষ বকসীর স্ত্রী ও এলাকায় স্থানিয়দের সাথে আলোচনায় দেখা যায় বিগত আমলে কখনোই সেখানে বা আশেপাশেও পুকুরের কোন চিহ্নই ছিলো না, এলাকায় সবই ছিলো ধানি জমি। এমনি করেই বছরের পর বছর ধরে কিছু অসাধু চক্র মিলে সরকার কে রাজস্ব ফাকি দেয়াসহ নিজেরা হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

সম্প্রতি মাগুরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বিরুদ্ধে এ-সংক্রান্ত  অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে একাধিক জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে অবমূল্যায়নের তথ্য পেয়েছে মাগুরা  জেলা প্রশাসন। তদন্তে বেশ কয়েকটি দলিলে এ ধরনের জালিয়াতির তথ্য উঠে আশায়, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই যা লিখিতভাবে আইন মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

একাধিক সূত্র জানায়, মাগুরা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গড়ে প্রতি মাসে প্রায় এক হাজার দলিল রেজিস্ট্রি হয়ে থাকে। আর এসব দলিলের একটি বড় অংশেরই শ্রেণি পরিবর্তন করে বসতি কে ধানি, আবার ধানি কে পুকুর দেখিয়ে কম মূল্যে রেজিস্ট্রি করা হয়ে থাকে। এভাবে সরকারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম মূল্য দেখিয়ে দলিল রেজিস্ট্রি করায় সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে সরকারের প্রতি মাসে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার মত কম রাজস্ব আদায় হচ্ছে। সে হিসাবে বছরে ৬০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। এ ধরনের দলিল তৈরিতে কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে সংশ্নিষ্ট এক শ্রেণির দলিল লেখক ও সাব-রেজিস্টারসহ অফিসের একটি শক্তিশালী চক্র জড়িত রয়েছে বলেই অভিযোগ রয়েছে।

মাগুরা সদর সাব-রেজিস্টার আলী আকবর অনিয়মের কথা অস্বীকার করে বলেন, সংশ্নিষ্ট প্রতিটি কাগজের সঙ্গে মিল রেখেই দলিল সম্পাদন করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে এসএ পর্চা ও আরএস পর্চার ভিন্নতার কারণে জমির শ্রেণি নিয়ে দু-একটি ব্যত্যয় দেখা দিতে পারে।

ট্যাগ: Banglanewspaper মাগুরা সাব-রেজিস্ট্রি