banglanewspaper

শিশির কুমার সরকার, বেনাপোল: যশোরের বেনাপোলসহ শার্শা উপজেলায় চলতি মৌসুমে আম পাকা শুরু হলেও এখনও বাজার জাত করতে পারছে না। কারণ ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় আম বোঝাই ট্রাক প্রশাসনের সদস্যরা আটক করে নষ্ট করে দিচ্ছে।

প্রশাসনের ভয়ে আম পাড়তে না পেরে গাছে আম পেকে নষ্ট হচ্ছে। 

সাতক্ষীরা জেলার ৭টি উপজেলা ও যশোর জেলার শার্শা ও ঝিকরগাছা উপজেলার প্রায় ৪৫০০ হেক্টর জমির আম বাগুড়ী বেলতলা বাজারে আমদানি হয়। ঢাকা শরিয়তপুর সহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে কয়েক হাজার পাইকারী ব্যবসায়ীরা এখানে আসে আম কিনতে। প্রতিদিন এ বাজার থেকে অন্যান্য বছর ১/২‘শ ট্রাক আম লোড হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যেত।

কিন্তু এবছর গাছে আম পাকা শুরু হলেও পাড়তে সাহস পাচ্ছে না। ফরমালিন মুক্ত হওয়ায় বেলতলা বাজারের আমের ব্যাপক চাহিদা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। পাইকারী ব্যাপারীরা যে সব আম এ বাজার থেকে কিনছে সেগুলি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাতে পথে পথে প্রশাসন আম বোঝাই ট্রাক আটক করে আম নষ্ট করে দিচ্ছে।

প্রশাসনের দাবি এসব আম এখনও পাকার সময় হয়নি। কিন্তু আসলে শার্শায় আম গাছে পেকে নষ্ট হচ্ছে। আম পাড়তে না পেরে কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে। আমের মৌসুমে এ বাজার এলাকায় শ্রমিক সংকট দেখা দেওয়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিক আসে এখানে কাজ করতে। ৩/৪ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয় এ বাজার থেকে। 

শার্শা উপজেলার বাগুড়ী বেলতলা আম বাজারের সভাপতি নাসির উদ্দিন বলেন, যশোর জেলার শার্শা উপজেলার কায়বা ইউনিয়নে বাগুড়ী আম বাজারটি হল বড় আম বাজার। বহু অঞ্চল থেকে এখানে আম আসে। এ অঞ্চলে আমের মুকুল হয়েছে আগে যার কারণে আম পাকা ধরেছে। আম গাছের থেকে পেকে পড়ে যাচ্ছে। আম বাজার জাত হচ্ছে কিন্তু ঢাকায় অনেক খারাপ খবর।

এজন্য আমাদের আমগুলি যাহাতে সুষ্টুভাবে বাজার জাত করতে পারি তার জন্য সুদৃষ্টি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। বাইরের ব্যাপারী যারা এখানে আসে তারা ভয় পাচ্ছে আম কিনতে। তারা পাকা আম কিনছে কিন্তু ঢাকায় যাওয়ার পর তারা বলছে ফুলো আম। গাছে আম নষ্ট হচ্ছে। এখন বাজার জাত করতে না পারলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এই বাজারে বিষমুক্ত আম পাওয়া যায়, ফরমালিন বা কারবাইড এখানে চলে না। 

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হীরক কুমার সরকার বলেন, চলতি বছর শার্শা উপজেলায় ৩৯০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির আম চাষীরা চাষ করে থাকেন। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে এনএটিপি ফেস-২ প্রকল্পের আওতায় চাষীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। শার্শার চাহিদা মিটিয়ে ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে। আম পরিপক্ষ হলে হারভেষ্ট করার জন্য পরামর্শ প্রদান করছি।

ট্যাগ: Banglanewspaper বেনাপোল শার্শা