banglanewspaper

বাংলাদেশে ইয়াবার ট্রানজিট পয়েন্ট কক্সবজারে। বিশেষ করে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে সবচয়ে বেশি ইয়াবা প্রবেশ করা হয়। টেকনাফের জনপ্রতিনিধি, সরকারী কর্মচারী, পুলিশ, বিজিবি সদস্য, রাজনৈতিবিদসহ সব শ্রেণীর লোক ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। পিছিয়ে নেই টেকনাফে কর্মরত সাংবাদিকেরাও। বিভিন্ন সরকারী সংস্থার ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকায় উঠে এসেছে টেকনাফের ১০ জন সাংবাদিকের নাম।

এছাড়াও কক্সবাজারে কর্মরত বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমের আরো ৮ সাংবাদিকেরও ইয়াবা ব্যবসার সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ইয়াবা ব্যাবসার মুখোশ ঢাকতে বা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের রক্ষা করতেই সাংবাদিকতা পেশাটাকেই বেছে নিয়েছে অনেকে। অনেক বড় বড় ইয়াবা ব্যবসায়ী নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে সাংবাদিকদের ব্যবহার করছেন। মূলত আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতেই শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীরা সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন।

দেশের এক নাম্বার ইয়াবা ব্যবসায়ী হাজী সাইফুল করিম। তিনি ৫ ভাই সহ পরিবারের ১২ জন সদস্য মিলে তৈরি করেছেন দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী ইয়াবা নেটওয়ার্ক। আবার তাদের পরিবারেই রয়েছেন টেকনাফের প্রথম শ্রেণীর ৩ জন সাংবাদিক। এই সাংবাদিকরাই পুরো টেকনাফের সংবাদ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করে আসছে্ন। যার ফলে দেশের অধিকাংশ গণমাধ্যমে সাইফুল করিমের সংবাদ তেমন প্রকাশ পায় না বললেই চলে। উল্টো দেশের শীর্ষ অনেক গণমাধ্যম সাইফুল করিমের সামাজিক কর্মকান্ডের খবর প্রকাশ করে আসছে।

টেকনাফের সাংবাদিকতার প্রধান নিয়ন্ত্রক হলো শীর্ষ ইয়াবা গডফাদার সাইফুল করিমের ছোটভাই রাশেদুল করিম। নানা কৌশলে ও পৃষ্ঠপোষকতা করে তিনি টেকনাফের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। চট্টগ্রামের একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের ছাত্র রাশেদুল করিম। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ সময় অনুপস্থিত থাকেন তিনি। সার্বক্ষণিক টেকনাফে অবস্থান করে পরিবারের ইয়াবা ব্যবসাকে সাংবাদিকদের ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখেন। রাশেদুল করিম সিটিজিবার্তা২৪.কম নামের একটি অনলাইন নিউজপোর্টাল পরিচালনার করে সাংবাদিকতার পরিচয় দিয়ে আসছেন।

সরকারী বিভিন্ন সংস্থার তালিকায় টেকনাফের কর্মরত কয়েকটি বেসরকারী টেলিভিশন, দেশের প্রথমসারীর কয়েকটি পত্রিকা, কয়েকটি আঞ্চলিক পত্রিকা এবং অনলাইন ও কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত কয়েকটি স্থানীয় দৈনিকের প্রতিনিধির নাম এসেছে। সরকারী সংস্থার এসব প্রতিবেদনে ওই ১০ সাংবাদিকদের ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়াও চট্টগ্রামে বেসরকারী চ্যানেলে কর্মরত টেকনাফের এক সাংবাদিকও রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরর ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকায়।

এদিকে এক টেলিভিশন চ্যানেলের কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি ৩০ হাজার ইয়াবাসহ চট্টগ্রামে সস্ত্রীক আটক হয়ে এখনো কারাগারে আছেন। এছাড়াও কক্সবাজারে কর্মরত ৫টি বেসরকারী চ্যানেলের জেলা প্রতিনিধি, ১টি জাতীয় পত্রিকার সাংবাদিক, ৩টি স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিক ও মহেশখালীর ২ সাংবাদিকেরও ইয়াবা ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্টটা পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এই সাংবাদিকেরা কৌশলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য সংগ্রহ করে তা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দেন। আবার অনেক সময় সাংবাদিকতার পরিচয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ইয়াবা পাচার করে আসছেন।

কক্সবাজারের সিনিয়র সাংবাদিক ও চ্যানেল আই এর স্টার্ফ রিপোর্টার সরওয়ার আজম মানিক জানিয়েছেন, 'ইয়াবা ব্যববসায় সাংবাদিকদের নাম আসা খুবই লজ্জাজনক। এই ধরনের ব্যাক্তিকে সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করতে হবে।'

কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক জাহেদ সরওয়ার সোহেল জানিয়েছেন, 'যেই সাংবাদিকদের নাম ইয়াবার তালিকায় এসেছে তা যাচাই বাছাই করা হোক। যদি কোন সাংবাদিকের ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।' টেকনাফ থানার ওসি রন্জিত বড়ুয়া জানান, 'অনেক সাংবাদিকের নাম ইয়াবার তালিকায় আছে। ইয়াবা বিরুদ্ধে অভিযানে কাউকেউ ছাড় দেয়া হবে না। কোন সাংবাদিক যদি ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত থাকে তাহলে তাকে অইনের আওতায় আনা হবে।' -পরিবর্তন।

ট্যাগ: banglanewspaper ইয়াবা