banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর) : গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা ভুমি অফিস বর্তমানে বহুমুখী বানিজ্যালয়ে পরিনত হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা যায়, ভুমি সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম হচ্ছে বেসরকারী বেতনে। অফিস চত্বরে সরকার কর্তৃক দেয়া দৃষ্টি নন্দন ভুমি তথ্য সেবা সংক্রান্ত সাইনবোর্ড থাকলেও বাস্তবে টাকা ছাড়া কোন সেবাই মিলেনা। সরকার কর্তৃক নির্ধারিত আদায়ের রাশিদে যা আদায় হয় তার কয়েকশ গুন আদায় হয় বেসরকারী ভাবে হাতিয়ে নেন ভুমি কর্মকর্তারা।

অফিসের উমেদার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ কর্মকর্তাগন বিভিন্ন কৌশলে সাধারন মানুষকে ফাঁদে ফেলে তাদের কাছ থেকে এ টাকা আদায় করে থাকে।

জানা যায়, সহকারী কমিশন ভূমি কর্তৃক মোটা অংকের টাকা নিয়ে ইউনিয়ন ও পৌর ভ’মি অফিসে বিপুল সংখ্যক উমেদার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এরা অফিসের গুরুত্বপূর্ণ সরকারী কাগজের বিভিন্ন অংশ তছনছ করে। তাদের নিকট সরকারের গুরুত্বপূর্ন কাগজ আদৌ নিরাপদ নয়।

এদিকে, নামজারীর সরকারী খরচ ডিসিআরসহ ১২১০ টাকা হলেও প্রতি একরে আদায় করা হয় কয়েক হাজার টাকা। সাধারন ১ একর পর্যন্ত নাম জারীর ফাইল গুলো উপ-সহকারী ভুমি কর্মকর্তারা লেনদেন করলেও এক একরের উপরে জমির নামজারীর লেনদেন করেন থাকেন সরাসরি সহকারী কমিশনার ভুমি নিজে। নাম জারীর আবেদন করে যোগাযোগ না করলে (টাকা না দিলে) বিনা নোটিশে নামজারী আবেদন বাতিল হয়ে যায়। 

একইভাবে যৌথ সীমানা নির্ধারন, মিস মোকদ্দমার বেলায়ও তিনি নিজে বাদী বিবাদীর সাথে চুক্তি করে যে পক্ষ বেশী টাকা দেন তার পক্ষেই আদেশ প্রদান করেন জানান অনেক ভুক্তভোগী। বেশ কয়েকটি মিস মোকদ্দমার চুড়ান্ত আদেশ প্রদান করার পর মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মূল নথিতে আদেশ লিখে পূনরায় নথীর শুনানীর  তারিখ দিয়েছেন তা নথি তদন্ত করলে প্রমান পাওয়া যাবে বলে জানায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী।

ভুক্তভোগী ডঃ জামিল হোসেন জানান, সম্প্রতি  বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), গাজীপুর এর আদালতের মিস আপিল মো: নং ২৫/১১ তাং ১৪-০৪-১৪ একটি আদেশে বাদীর মালিকানা প্রমানিত না হওয়ায় বেশ কয়েকটি নামজারী বহাল রাখা হয়। যাতে বিবাদী পক্ষ নিজ নামে নামজারী করে সীমানা প্রাচির নির্মান করে শান্তি পূর্ন ভোগ দখলে রয়েছে। 

কতিপয় দালালের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার চুক্তিতে হোসেন, দুলাল গং এর নামে ১৫০৭/১৭-১৮ নং নথি মূলে নামজারীর আবেদন করেন। উক্ত নামজারী না করার জন্য সহকারী কমিশনার ভুমি এর বরাবরে আবেদন করা স্বত্বেও নামজারীটি অনুমোদনের চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছ।

স্থানীয় কেওয়া এলাকার মফিজুল ইসলাম জানান, আমি ৬ মাস পূর্বে জমি বিক্রি করার পর সেই জমির ভ’য়া নামজারি নথি নং-১৮৪৬-১৭-১৮ করে অন্য নামে মালিকানা তৈরী করে বিক্রির চেষ্ঠ্রা করছে। 

স্থানীয়রা আরো জানান,সামন্য মুদ্রন জনিত ভুল সহ সাধারন বিষয়ে সংশোধন করতে চাইলে বিভিন্ন রকম হয়রানী শিকার হচ্ছে অসংখ্য মানুষ। কোন জায়গায় অভিযোগ করে লাভ হয় না।

ভুমি অফিসে কর্মরত অনেক কর্মচারী কর্মকর্তারা জানান, পূর্বের অফিসারের তুলনায় বর্তমান অফিসারের ঘুষের ধার্য অনেক বেশী যা আমাদের পক্ষে পূরন করা সম্ভব হয় না। বর্তমান সহকারী কমিশনার ভুমি যোগ দান করার পর কিছু সংখ্যক দালাল হরহামেশায় তার সাথে থেকে সমস্ত লেনদেন তাদের মাধ্যমে করে থাকেন। ওই সমস্ত দালালদের সাথে আতাত করে ভেজাল জমির কাগজপত্র তৈরী করে বিক্রিয় করার অভিযোগ করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। 

এদিকে বর্তমান সহকারী কমিশনার ভুমি সোহেল রানা যোগদান করার পর থেকে বিভিন্ন হাট বাজারে, সরকারী খাস জমিতে বহুতল ভবন নির্মানসহ জমি জবর দখলের হিরিক চলছে। তহসিলদারের মাধ্যমে মোট অংকের টাকা নিয়ে জবর দখলে সহযোগিতা করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

শ্রীপুর, বরমী, মাওনা, গোসিংগাসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে চান্দিনা ভিটির তালিকা ভুক্ত জমিতে বহুতল ভবন নির্মান করছে এক শ্রেনীর দখলবাজরা । স্থানীয়দের অভিযোগ,ভ’মি উপসহকারী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার ভ’মি-র সাথে যোগাযোগ করে এ সকল ভবন নির্মান অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা প্রশাসক দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,  ভুমি সেবা পাওয়ার জন্য সরকার নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত টাকা নেয়ার কোন নিয়ম নাই । অন্যদিকে বাজারের অর্ন্তভুক্ত খাস জমিতে বহুতল ভবন নির্মানের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ট্যাগ: banglanewspaper শ্রীপুর